টিকটক ভিডিও দেখে নেপালে নিখোঁজ মা-খালার অবস্থান শনাক্ত করলেন মেয়ে
- আপডেট সময় : ০১:৪৭:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এক নারীর সন্ধান মিলেছে টিকটক ভিডিওর মাধ্যমে। নিখোঁজ ওই নারীর মেয়ে জানিয়েছেন, দুর্যোগ আঘাত হানার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পোস্ট করা একটি টিকটক ভিডিও দেখে তিনি তাঁর মা ও মাসির সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করতে পেরেছেন। গত বুধবার নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে আঘাত হানা এই প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া তিন হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে বহু বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে অন্তত ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার (এনএইচএস) একজন কর্মী এবং একজন ধর্মযাজকও আছেন। নিখোঁজদের খোঁজে হন্যে হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন স্বজনেরা।
যুক্তরাজ্যের মিল্টন কেইনস শহরের বাসিন্দা তুলসী প্যাটেল পেশায় একজন ফার্মাসিস্ট। তাঁর মা হেমাঙ্গিনী জিতেন্দ্র প্যাটেল ও মাসি হেমা সুনীল আমিন তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র এই স্থানে যাওয়ার জন্য তাঁরা বছরের শুরু থেকেই পরিকল্পনা করছিলেন। তুলসী জানান, তাঁর মা ও মাসি দুজনই বেশ সুস্থ ছিলেন এবং নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস থাকায় এই ভ্রমণের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে দারুণ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম এলবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুলসী প্যাটেল বলেন, গত সোমবার তিনি শেষবারের মতো তাঁর মা ও মাসির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। পরদিন মঙ্গলবার তাঁদের কাছ থেকে একটি ছবিও পেয়েছিলেন। এরপর তাঁদের ট্যুর গ্রুপের জিপিএস ট্র্যাকার থেকে পাওয়া সংকেত অনুযায়ী তাঁদের সর্বশেষ অবস্থান জানা যায় নেপাল-চীন সীমান্তের ‘ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’ এলাকায়।
স্বজনদের কোনো খোঁজ না পেয়ে তুলসী ও তাঁর পরিবার নিজেরা অনুসন্ধান শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা একটি টিকটক ভিডিও খুঁজে পান। তুলসী বলেন, ভিডিওটি দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তাঁর মা ও মাসিসহ ওই ট্যুর গ্রুপের আরও তিনজন সদস্য সীমান্ত পার হওয়ার জন্য সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। স্থানীয় নেপালি ট্যুর গাইডই সম্ভবত ভিডিওটি তৈরি করেছিলেন এবং নেপালের স্থানীয় সময় গত বুধবার ভোর ছয়টার ঠিক আগে সেটি টিকটকে পোস্ট করা হয়।
তুলসী জানান, তাঁদের আগের দিন মঙ্গলবারই সীমান্ত পার হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু খারাপ আবহাওয়া বা অন্য কোনো সমস্যার কারণে হয়তো তাঁদের দেরি হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত বুধবার ভোরে তাঁরা যখন সীমান্ত পার হতে যান, তখনই পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধস আঘাত হানে। এরপর থেকেই তাঁদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
দুর্যোগের পর থেকে তুলসী প্রতিদিন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মা, মাসি ও তাঁদের ট্যুর গাইডের ফোনে বার্তা ও কল পাঠিয়ে চলেছেন। গাইডদের কাছে স্থানীয় সিম কার্ড থাকায় সিগন্যাল পাওয়ার আশায় তাঁরা এই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
শুরুতে তুলসীর পরিবার উদ্ধারকাজে অংশ নিতে নিজেরাই নেপালে যাওয়ার কথা ভেবেছিল। কিন্তু দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে উদ্ধারকারীদের কতটা কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হবে, তা নিশ্চিত না থাকায় তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসে। তুলসী বলেন, তাঁরা আশা হারাননি এবং প্রতিনিয়ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। তবে এখন তাঁদের এমন একজনের সহায়তা প্রয়োজন, যিনি স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে পারবেন এবং নিখোঁজ সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবেন।





























