চ্যাং’ই-৭ চন্দ্রাভিযান পিছিয়ে দিল চীন
- আপডেট সময় : ০৯:৪৩:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর বেইজিংয়ের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিচালিত একটি গবেষণামূলক চন্দ্রাভিযান পিছিয়ে দিয়েছে চীন। বিরল একটি উৎক্ষেপণ ব্যর্থতার ঘটনার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই ঘোষণা এল।
চীনের মানববাহী মহাকাশ সংস্থার বরাত দিয়ে বেইজিং থেকে এএফপি জানিয়েছে, ‘সমন্বিত মূল্যায়নের’ পর দেখা গেছে যে, লং মার্চ-৫ ক্যারিয়ার রকেটের মাধ্যমে চ্যাং’ই-৭ চন্দ্রযান পাঠানোর এই মিশনটি ‘উৎক্ষেপণের শর্ত পূরণ করছে না’। ফলে এ বছর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এটি উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সংস্থাটি জানিয়েছে, মিশনের সতর্কতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং সার্বিক সাফল্য নিশ্চিত করার নীতির ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কোন শর্তগুলো পূরণ হয়নি বা নতুন করে কবে উৎক্ষেপণের সময় নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এই মিশনের মূল লক্ষ্য ছিল চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পানির সন্ধান করা। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চন্দ্রযানটি গেল সপ্তাহান্তে অথবা সোমবার উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা ছিল। গত সপ্তাহে চীনা মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছিল যে, চন্দ্রযান ও ক্যারিয়ার রকেটটি দক্ষিণাঞ্চলীয় হাইনান প্রদেশের ওয়েনচাং মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত উৎক্ষেপণস্থল ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামগুলো ভালো অবস্থায় ছিল এবং সেগুলো পরিদর্শন শেষে ‘শিগগিরই’ উৎক্ষেপণের কথা ছিল।
চ্যাং’ই-৭ মিশন পিছিয়ে দেওয়ার এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন হাইনান থেকে উৎক্ষেপিত একটি রকেট বিস্ফোরিত হওয়ার ভিডিও ও ছবি প্রকাশের দুই সপ্তাহও হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা সে সময় আকাশে আগুনের গোলার মতো দৃশ্য দেখতে পেয়েছিলেন। ব্যর্থ ওই মিশনে লং মার্চ-৭এ ক্যারিয়ার রকেট ব্যবহার করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছিল, ওয়েনচাং মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে ঝংশিং-৪বি যোগাযোগ স্যাটেলাইট নিয়ে রকেটটি উড্ডয়নের সময় একটি ‘অস্বাভাবিকতা’ দেখা দিয়েছিল। রকেটটি ধ্বংস হওয়ার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছিল।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যাকে দেশের ‘মহাকাশ স্বপ্ন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, তা বাস্তবায়নে বেইজিং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। জুলাই মাসে চীন প্রথমবারের মতো একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট সফলভাবে অবতরণ করাতে সক্ষম হয়, যা তাদের মহাকাশ কর্মসূচির উচ্চাভিলাষ বাস্তবায়ন এবং উৎক্ষেপণ ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর এই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রও তার আর্টেমিস কর্মসূচির মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে।



























