নাইজেরিয়ায় ভয়াবহ নৌকাডুবিতে ৪৬ জনের মৃত্যু, নিহতদের বেশিরভাগই শিশু
- আপডেট সময় : ০৮:৪৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে অন্তত ৪৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যাদের একটি বড় অংশই শিশু। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সোকোতো প্রদেশে সত্তর জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও অন্তত ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সোকোতো প্রদেশের গোরোনি এলাকার গোরাউয়ের কাছে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের মুখপাত্র আহমাদ রুফাই বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিশ্চিত করেছেন যে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৪৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। জরুরি সেবা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
দুর্ঘটনার কারণ ও যাত্রীদের পরিচয় সম্পর্কে রয়টার্সকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, নৌকাটিতে ধান কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও জমির মালিকদের পাশাপাশি অনেক শিশুও ছিল। তিনি আরও জানান, স্থানীয় একটি mosques-এর সামনে ঐতিহ্যবাহী কাপড় ও মাদুরে মোড়ানো প্রায় ৫০টি মরদেহ রাখা হয়েছিল, যা দাফনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল।
নাইজেরিয়ার গ্রামীণ এলাকার মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো নদীপথ। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা এবং সেতুর অভাবে স্থানীয়দের কাঠের নৌকার ওপরই ভরসা করতে হয়। তবে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নৌযানের ফিটনেস না থাকা এবং নিরাপত্তা আইনের দুর্বল প্রয়োগের কারণে দেশটিতে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। যেমন, গত মাসেই জিগাওয়া প্রদেশে নৌকা উল্টে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল।
জলপথে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঠেকাতে এবং নৌপথ নিরাপদ করতে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও নিরাপদ নৌযানের ব্যবস্থা করা, নৌপথ খনন করা, ঘাটগুলোতে নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন এবং নৌকার চালকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স প্রদান নিশ্চিত করা।




























