ঢাকা ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্রাজিলে মার্কিন দুই শীর্ষ কর্মকর্তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ল সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ঝুলন্ত সেতুর গাইডওয়াল রাজধানীজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট, বিপাকে সিএনজি চালক ও নগরবাসী বাংলাদেশের সিনেমায় প্রথমবার অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত মধুমিতা এক বছর পর আবারও চালু হলো ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দাবদাহ, ঝুঁকিতে ৭ কোটি মানুষ ফ্রিদা কাহলোর চিত্রকর্ম নিয়ে ম্যাডোনার ভুল দাবি, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা শক্তিশালী গল্পে কাজ করতে আগ্রহী অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান ঘুমের মধ্যে নবজাতকের মোচড়ামুড়ি: কখন স্বাভাবিক আর কখন বিপদের লক্ষণ? সাভারে চলন্ত বাসে ধর্ষণচেষ্টা, পুলিশি ব্যারিকেডে আটক ৩

ঘুমের মধ্যে নবজাতকের মোচড়ামুড়ি: কখন স্বাভাবিক আর কখন বিপদের লক্ষণ?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৯:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ঘুমের মধ্যে নবজাতকের হঠাৎ শরীর মোচড়ানো এবং মুখ লাল হয়ে যাওয়া দেখে অনেক নতুন মা-বাবা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যাকে 'বেনাইন স্ট্রেচিং' বলা হয়ে থাকে। দীর্ঘ সময় মাতৃগর্ভে সংকুচিত বা গুঁটিশুঁটি হয়ে থাকার পর পৃথিবীতে এসে হাত-পা ছড়ানোর স্বাভাবিক চেষ্টার কারণে শিশুরা মূলত এমন আচরণ করে থাকে।

চিকিৎসকরা জানান, নবজাতকের স্নায়ুতন্ত্র পুরোপুরি বিকশিত না হওয়া এবং ঘুমের প্রায় অর্ধেক সময় জুড়ে 'অ্যাক্টিভ স্লিপ' বা চঞ্চল ঘুম থাকার কারণে ঘুমের ঘোরে মুখ বাঁকানো বা শরীর মোচড়ানো খুবই স্বাভাবিক বিষয়। এছাড়া, দুধ খাওয়ার সময় পেটে বাতাস প্রবেশ করলে যে চাপের সৃষ্টি হয়, তা থেকে স্বস্তি পেতেও শিশু শরীর মোচড়াতে পারে। একই সঙ্গে, হঠাৎ চমকে উঠে হাত-পা ছড়িয়ে দেওয়ার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি বা 'মোরো রিফ্লেক্স' শিশুর ৩ থেকে ৪ মাস বয়স পর্যন্ত দেখা যেতে পারে।

শিশুর নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া, ঘুম এবং মলমূত্র ত্যাগ যদি স্বাভাবিক থাকে এবং মোচড়ানোর পর সে শান্ত হয়ে যায়, তবে এটি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাস বয়স পার হলে এই সমস্যাটি এমনিতেই দূর হয়ে যায়। তবে কিছু বিপদচিহ্ন দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যেমন—মোচড়ানোর পাশাপাশি শিশুর বমি হওয়া, খিঁচুনি, শরীর নীল হয়ে যাওয়া, স্তন্যপানে চরম অনীহা, অনবরত কান্না, শরীর শক্ত হয়ে বেঁকে যাওয়া, জ্বর, শ্বাসকষ্ট কিংবা বয়স অনুযায়ী ওজন না বাড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে মোটেও দেরি করা উচিত নয়।

নবজাতকের এই অস্বস্তি দূর করতে মা-বাবাকে কিছু বিশেষ সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রতিবার দুধ খাওয়ানোর পর শিশুকে কাঁধে নিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পিঠ চাপড়ে ঢেকুর তোলানো অত্যন্ত জরুরি। সঠিক পজিশনে রেখে দুধ খাওয়ালে পেটে বাতাস কম ঢোকে। শিশুর ত্বক শুকনো রাখতে ভেজা ডায়াপার বা কাঁথা দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে। এছাড়া, সুতি কাঁথা দিয়ে হালকাভাবে জড়িয়ে রাখলে বা সোয়াডলিং করলে শিশু নিরাপদ বোধ করে এবং তার ঘুম ভালো হয়। শিশু জেগে থাকা অবস্থায় দিনে ২ থেকে ৩ বার কিছু সময়ের জন্য পেটে ভর দিয়ে রাখা বা 'টামি টাইম' দিলে তার পেশি শক্তিশালী হয়।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে তেল মালিশ করা, গ্রাইপ ওয়াটার, মধু কিংবা চিনির পানি খাওয়ানো সম্পূর্ণ অনুচিত। এই বিষয়ে সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকার সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বারডেম মহিলা ও শিশু হাসপাতালের নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং সহযোগী অধ্যাপক। প্রয়োজনে অভিভাবকরা চিকিৎসকের সাথে ০১৬৩৬৬৯২২৯৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

ঘুমের মধ্যে নবজাতকের মোচড়ামুড়ি: কখন স্বাভাবিক আর কখন বিপদের লক্ষণ?

আপডেট সময় : ০৭:০৯:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
print news

ঘুমের মধ্যে নবজাতকের হঠাৎ শরীর মোচড়ানো এবং মুখ লাল হয়ে যাওয়া দেখে অনেক নতুন মা-বাবা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যাকে 'বেনাইন স্ট্রেচিং' বলা হয়ে থাকে। দীর্ঘ সময় মাতৃগর্ভে সংকুচিত বা গুঁটিশুঁটি হয়ে থাকার পর পৃথিবীতে এসে হাত-পা ছড়ানোর স্বাভাবিক চেষ্টার কারণে শিশুরা মূলত এমন আচরণ করে থাকে।

চিকিৎসকরা জানান, নবজাতকের স্নায়ুতন্ত্র পুরোপুরি বিকশিত না হওয়া এবং ঘুমের প্রায় অর্ধেক সময় জুড়ে 'অ্যাক্টিভ স্লিপ' বা চঞ্চল ঘুম থাকার কারণে ঘুমের ঘোরে মুখ বাঁকানো বা শরীর মোচড়ানো খুবই স্বাভাবিক বিষয়। এছাড়া, দুধ খাওয়ার সময় পেটে বাতাস প্রবেশ করলে যে চাপের সৃষ্টি হয়, তা থেকে স্বস্তি পেতেও শিশু শরীর মোচড়াতে পারে। একই সঙ্গে, হঠাৎ চমকে উঠে হাত-পা ছড়িয়ে দেওয়ার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি বা 'মোরো রিফ্লেক্স' শিশুর ৩ থেকে ৪ মাস বয়স পর্যন্ত দেখা যেতে পারে।

শিশুর নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া, ঘুম এবং মলমূত্র ত্যাগ যদি স্বাভাবিক থাকে এবং মোচড়ানোর পর সে শান্ত হয়ে যায়, তবে এটি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাস বয়স পার হলে এই সমস্যাটি এমনিতেই দূর হয়ে যায়। তবে কিছু বিপদচিহ্ন দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যেমন—মোচড়ানোর পাশাপাশি শিশুর বমি হওয়া, খিঁচুনি, শরীর নীল হয়ে যাওয়া, স্তন্যপানে চরম অনীহা, অনবরত কান্না, শরীর শক্ত হয়ে বেঁকে যাওয়া, জ্বর, শ্বাসকষ্ট কিংবা বয়স অনুযায়ী ওজন না বাড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে মোটেও দেরি করা উচিত নয়।

নবজাতকের এই অস্বস্তি দূর করতে মা-বাবাকে কিছু বিশেষ সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রতিবার দুধ খাওয়ানোর পর শিশুকে কাঁধে নিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পিঠ চাপড়ে ঢেকুর তোলানো অত্যন্ত জরুরি। সঠিক পজিশনে রেখে দুধ খাওয়ালে পেটে বাতাস কম ঢোকে। শিশুর ত্বক শুকনো রাখতে ভেজা ডায়াপার বা কাঁথা দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে। এছাড়া, সুতি কাঁথা দিয়ে হালকাভাবে জড়িয়ে রাখলে বা সোয়াডলিং করলে শিশু নিরাপদ বোধ করে এবং তার ঘুম ভালো হয়। শিশু জেগে থাকা অবস্থায় দিনে ২ থেকে ৩ বার কিছু সময়ের জন্য পেটে ভর দিয়ে রাখা বা 'টামি টাইম' দিলে তার পেশি শক্তিশালী হয়।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে তেল মালিশ করা, গ্রাইপ ওয়াটার, মধু কিংবা চিনির পানি খাওয়ানো সম্পূর্ণ অনুচিত। এই বিষয়ে সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকার সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বারডেম মহিলা ও শিশু হাসপাতালের নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং সহযোগী অধ্যাপক। প্রয়োজনে অভিভাবকরা চিকিৎসকের সাথে ০১৬৩৬৬৯২২৯৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy