নেপালে ভয়াবহ বন্যা: নতুন করে আরও দুই দফা বন্যার সতর্কবার্তা
- আপডেট সময় : ০৮:১৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

নেপালে স্মরণকালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ২৭০ ছাড়িয়েছে। এই বিপর্যয়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বিজ্ঞানীরা আরও দুটি আকস্মিক বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময় বলা সম্ভব না হলেও ‘দ্বিতীয়’ ও ‘তৃতীয়’ আঘাত আবারও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ডিজাস্টার স্টাডিজের পরিচালক বসন্ত রাজ অধিকারী জানিয়েছেন, আজ বা আগামীকাল দ্বিতীয় ও তৃতীয় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এখনো নিশ্চিতভাবে জানি না এটি কখন ঘটতে পারে। এই বিষয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী চীনা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। বসন্ত রাজ অধিকারী আরও জানান, উচ্চ মাত্রার বৃষ্টিপাত এখন না থাকলেও নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালে এই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে চীন সীমান্তের কাছে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূকম্পন অনুভূত হয় এবং একই সময়ে ল্যাংটাং পর্বতের উত্তর ঢালে বড় ধরনের হিমবাহ ধস নামে। প্ল্যানেট ল্যাবসের উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ধসের সঙ্গে এই বিপর্যয়ের সম্পর্কের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। তবে ভূকম্পনের কারণে ধস নেমেছিল, নাকি বিশাল ধসের ফলেই ভূকম্পিক তরঙ্গ তৈরি হয়েছিল—এ বিষয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে হিমালয়ের বরফ ও পাহাড়ের ঢাল আগের তুলনায় বেশি ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। বর্ষার শেষ দিকে অতিরিক্ত পানির চাপও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ, পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়া এবং ভূমিধসের মতো ঘটনা বাড়ছে, যা আন্তঃসীমান্ত আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি করছে।
এর আগে ২০২১ সালে ভারতের চামোলি ও নেপালের মেলামচি, ২০২৩ সালে সিকিম, ২০২৪ সালে থামে এবং ২০২৫ সালে ভোতে কোশীতে একই ধরনের বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের বর্ষাতেও হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ল নেপাল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন করে আকস্মিক বন্যা বা ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক রাখা এবং আগাম প্রস্তুতি জোরদার করা জরুরি।





























