ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, কারণ জানাল রয়টার্স টেকসই উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান ববি হাজ্জাজের স্কুলে ঢুকে ছাত্রকে মারধর, ছাত্রদল সভাপতি আজীবন বহিষ্কার আফগানিস্তানের ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলা দাউদকান্দি থানায় ১৭ কিশোরের পালানোর অভিযোগ, অস্বীকার পুলিশের বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করল বিমান বাংলাদেশ গ্রাম ও শহর: জীবনযাত্রার ভিন্নতা, শিশুদের স্বাস্থ্যে এগিয়ে গ্রাম উখিয়ায় বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি, দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার আজ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ উদ্ধারে ইরানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আজ জন্মদিন: বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক বুলবুল আহমেদের বর্ণাঢ্য জীবন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:২৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ও ‘মহানায়ক’খ্যাত অভিনেতা বুলবুল আহমেদের আজ জন্মদিন। ১৯৩৯ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার আগামসি লেনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার আসল নাম ছিল তাবাররুক আহমেদ।

পরিবার থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহের বীজ বপন হয়েছিল। তার বাবা খলিল আহমেদ ছিলেন পাকিস্তানের অর্থ বিভাগের ডেপুটি সেক্রেটারি এবং একাধারে নাট্যকার ও অভিনেতা। পুরান ঢাকার নিজ বাসভবনে নিয়মিত নাটকের মহড়া হতো, যা কিশোর বয়সেই বুলবুলকে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলে।

শিক্ষাজীবনে তিনি কলেজিয়েট স্কুল ও নটর ডেম কলেজে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে সিলেট এমসি কলেজে পড়ার সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিরকুমার সভা’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দারুণ প্রশংসা অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

পেশাগত জীবনের শুরুতে তিনি তৎকালীন ইউবিএল ব্যাংকের টিএসসি শাখায় প্রায় ১০ বছর ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাংকের চাকরির পাশাপাশি তিনি অভিনয়ের ধারাও অব্যাহত রাখেন। ১৯৬৪ সালে আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘বরফ গলা নদী’ নাটকের মাধ্যমে ছোট পর্দায় তার অভিষেক হয়। এরপর তিনি ‘মালঞ্চ’, ‘মাল্যদান’, ‘বড়দিদি’, ‘আরেক ফাল্গুন’, ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’ ও ‘ইডিয়েট’-এর মতো জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেন।

১৯৭২ সালে ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে তিনি পুরোপুরি চলচ্চিত্রে মনোনিবেশ করেন। পরের বছর ‘ইয়ে করে বিয়ে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় নায়ক হিসেবে তার অভিষেক ঘটে। এরপর তিনি ‘অঙ্গীকার’, ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘রূপালী সৈকতে’, ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’-সহ বহু দর্শকনন্দিত একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৮৭ সালে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘দেবদাস’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি জনপ্রিয়তার নতুন উচ্চতায় পৌঁছান।

দীর্ঘ ৪৪ বছরের ক্যারিয়ারে বুলবুল আহমেদ প্রায় ৩০০টি টিভি নাটক ও দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও প্রযোজনায় তিনি সমান সফল ছিলেন। অসামান্য অবদানের জন্য তিনি চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

আজ জন্মদিন: বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক বুলবুল আহমেদের বর্ণাঢ্য জীবন

আপডেট সময় : ১১:২৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ও ‘মহানায়ক’খ্যাত অভিনেতা বুলবুল আহমেদের আজ জন্মদিন। ১৯৩৯ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার আগামসি লেনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার আসল নাম ছিল তাবাররুক আহমেদ।

পরিবার থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহের বীজ বপন হয়েছিল। তার বাবা খলিল আহমেদ ছিলেন পাকিস্তানের অর্থ বিভাগের ডেপুটি সেক্রেটারি এবং একাধারে নাট্যকার ও অভিনেতা। পুরান ঢাকার নিজ বাসভবনে নিয়মিত নাটকের মহড়া হতো, যা কিশোর বয়সেই বুলবুলকে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলে।

শিক্ষাজীবনে তিনি কলেজিয়েট স্কুল ও নটর ডেম কলেজে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে সিলেট এমসি কলেজে পড়ার সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিরকুমার সভা’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দারুণ প্রশংসা অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

পেশাগত জীবনের শুরুতে তিনি তৎকালীন ইউবিএল ব্যাংকের টিএসসি শাখায় প্রায় ১০ বছর ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাংকের চাকরির পাশাপাশি তিনি অভিনয়ের ধারাও অব্যাহত রাখেন। ১৯৬৪ সালে আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘বরফ গলা নদী’ নাটকের মাধ্যমে ছোট পর্দায় তার অভিষেক হয়। এরপর তিনি ‘মালঞ্চ’, ‘মাল্যদান’, ‘বড়দিদি’, ‘আরেক ফাল্গুন’, ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’ ও ‘ইডিয়েট’-এর মতো জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেন।

১৯৭২ সালে ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে তিনি পুরোপুরি চলচ্চিত্রে মনোনিবেশ করেন। পরের বছর ‘ইয়ে করে বিয়ে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় নায়ক হিসেবে তার অভিষেক ঘটে। এরপর তিনি ‘অঙ্গীকার’, ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘রূপালী সৈকতে’, ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’-সহ বহু দর্শকনন্দিত একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৮৭ সালে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘দেবদাস’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি জনপ্রিয়তার নতুন উচ্চতায় পৌঁছান।

দীর্ঘ ৪৪ বছরের ক্যারিয়ারে বুলবুল আহমেদ প্রায় ৩০০টি টিভি নাটক ও দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও প্রযোজনায় তিনি সমান সফল ছিলেন। অসামান্য অবদানের জন্য তিনি চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin