ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সালথা উপজেলা যুবদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা বরগুনার ‘নিদ্রার চর’: রূপময় প্রকৃতি ও টেকসই পর্যটনের আহ্বান জয়পুরহাটে ল্যাপটপ ও সার ডিলারশিপে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপি নেতার পোস্ট মেসির জোড়া গোল ও অ্যাসিস্টে আটলান্টাকে হারাল ইন্টার মায়ামি মধ্যপ্রদেশে মন্দিরের কাছে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ১২ ভক্ত সৌদির নাজরানে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২ ক্রু পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দমনে ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান ইসলামী অর্থব্যবস্থায় ধনী-গরিবের ভারসাম্য ও সম্পদের বণ্টন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৫৩৮৬ জন হুতিদের চারটি ড্রোন ভূপাতিত করল সৌদি জোট, সহায়তায় প্রস্তুত মিশর

২০ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক ‘কভি আলবিদা না কেহনা’?

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই করণ জোহরের পরিচালনায় নির্মিত ‘কভি আলবিদা না কেহনা’ সিনেমাটি বলিউডের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত কাজ হিসেবে বিবেচিত। শাহরুখ খান, রানি মুখার্জি, প্রীতি জিনতা ও অভিষেক বচ্চন অভিনীত এই সিনেমাটি তৎকালীন ভারতীয় সমাজের জন্য একটি সাহসী বার্তা নিয়ে এসেছিল। দুই বিবাহিত মানুষের পরকীয়া সম্পর্কের গল্প নিয়ে তৈরি এই সিনেমা দর্শকদের দুই ভাগে ভাগ করে ফেলেছিল; কেউ এটিকে আধুনিক দাম্পত্যের বাস্তব চিত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, আবার কেউ পরকীয়াকে মহিমান্বিত করার অভিযোগ তুলেছিলেন।

মুক্তির দুই দশক পেরিয়ে ২০২৬ সালে এসেও সিনেমাটির প্রাসঙ্গিকতা কমেনি। বরং বর্তমানে প্রশ্ন জাগে—সম্পর্কের টানাপোড়েন বা ভাঙন কি বিশ্বাসঘাতকতাকে বৈধতা দিতে পারে? দেব শরণের চরিত্রে শাহরুখ খানের হতাশা, দুর্ঘটনা পরবর্তী জীবন এবং স্ত্রী রিয়ার ক্যারিয়ারের সাফল্যের প্রতি তার ক্ষোভ ও অনিরাপত্তার বহিঃপ্রকাশ সিনেমার মূল দ্বন্দ্বের জায়গা। অন্যদিকে মায়া ও ঋষির দাম্পত্য জীবনেও ছিল স্পষ্ট অসামঞ্জস্য। ঋষির অসংবেদনশীলতা আর মায়ার দ্বিধা তাদের সম্পর্ককে এক ধরনের চাপের মুখে ফেলেছিল।

করণ জোহরের চিরচেনা জাঁকজমকপূর্ণ উপস্থাপনা, নিউইয়র্কের মনোরম লোকেশন এবং ‘মিতওয়া’ বা ‘তুমহি দেখো না’র মতো জনপ্রিয় গান সিনেমাটিকে দৃষ্টিনন্দন করে তুললেও, এর মূল গল্পটি দুটি ভেঙে পড়া দাম্পত্যের ট্র্যাজেডি। দেব ও মায়ার মানসিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে শারীরিক পরকীয়ায় রূপ নেয়, যা ছিল একাধিক সিদ্ধান্তের ফল। তাদের কাছে নিজেদের সঙ্গীর সাথে সৎ হওয়ার সুযোগ থাকলেও তারা মিথ্যা ও গোপনীয়তাকে বেছে নিয়েছিলেন।

সমালোচকদের মতে, সিনেমাটি পরকীয়াকে অত্যন্ত রোমান্টিক ও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে, যার ফলে রিয়া ও ঋষির মানসিক আঘাত গল্পের সৌন্দর্যের আড়ালে চাপা পড়ে যায়। তবে ভিন্নমত পোষণকারীরা মনে করেন, করণ জোহর পরকীয়াকে সমর্থন করেননি, বরং তিনি কেবল দেখিয়েছেন যে ভালোবাসা শেষ হয়ে যাওয়া দাম্পত্যে মানুষ কীভাবে আটকা পড়ে থাকে। দুই দশক পরের এই সময়ে দাঁড়িয়ে সিনেমাটি তাই কেবল একটি প্রেমের গল্প নয়, বরং সম্পর্কের ক্ষেত্রে সততা, দায়িত্ববোধ ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পরিণতি নিয়ে একটি বড় বিতর্কের নাম।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

২০ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক ‘কভি আলবিদা না কেহনা’?

আপডেট সময় : ০৪:০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই করণ জোহরের পরিচালনায় নির্মিত ‘কভি আলবিদা না কেহনা’ সিনেমাটি বলিউডের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত কাজ হিসেবে বিবেচিত। শাহরুখ খান, রানি মুখার্জি, প্রীতি জিনতা ও অভিষেক বচ্চন অভিনীত এই সিনেমাটি তৎকালীন ভারতীয় সমাজের জন্য একটি সাহসী বার্তা নিয়ে এসেছিল। দুই বিবাহিত মানুষের পরকীয়া সম্পর্কের গল্প নিয়ে তৈরি এই সিনেমা দর্শকদের দুই ভাগে ভাগ করে ফেলেছিল; কেউ এটিকে আধুনিক দাম্পত্যের বাস্তব চিত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, আবার কেউ পরকীয়াকে মহিমান্বিত করার অভিযোগ তুলেছিলেন।

মুক্তির দুই দশক পেরিয়ে ২০২৬ সালে এসেও সিনেমাটির প্রাসঙ্গিকতা কমেনি। বরং বর্তমানে প্রশ্ন জাগে—সম্পর্কের টানাপোড়েন বা ভাঙন কি বিশ্বাসঘাতকতাকে বৈধতা দিতে পারে? দেব শরণের চরিত্রে শাহরুখ খানের হতাশা, দুর্ঘটনা পরবর্তী জীবন এবং স্ত্রী রিয়ার ক্যারিয়ারের সাফল্যের প্রতি তার ক্ষোভ ও অনিরাপত্তার বহিঃপ্রকাশ সিনেমার মূল দ্বন্দ্বের জায়গা। অন্যদিকে মায়া ও ঋষির দাম্পত্য জীবনেও ছিল স্পষ্ট অসামঞ্জস্য। ঋষির অসংবেদনশীলতা আর মায়ার দ্বিধা তাদের সম্পর্ককে এক ধরনের চাপের মুখে ফেলেছিল।

করণ জোহরের চিরচেনা জাঁকজমকপূর্ণ উপস্থাপনা, নিউইয়র্কের মনোরম লোকেশন এবং ‘মিতওয়া’ বা ‘তুমহি দেখো না’র মতো জনপ্রিয় গান সিনেমাটিকে দৃষ্টিনন্দন করে তুললেও, এর মূল গল্পটি দুটি ভেঙে পড়া দাম্পত্যের ট্র্যাজেডি। দেব ও মায়ার মানসিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে শারীরিক পরকীয়ায় রূপ নেয়, যা ছিল একাধিক সিদ্ধান্তের ফল। তাদের কাছে নিজেদের সঙ্গীর সাথে সৎ হওয়ার সুযোগ থাকলেও তারা মিথ্যা ও গোপনীয়তাকে বেছে নিয়েছিলেন।

সমালোচকদের মতে, সিনেমাটি পরকীয়াকে অত্যন্ত রোমান্টিক ও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে, যার ফলে রিয়া ও ঋষির মানসিক আঘাত গল্পের সৌন্দর্যের আড়ালে চাপা পড়ে যায়। তবে ভিন্নমত পোষণকারীরা মনে করেন, করণ জোহর পরকীয়াকে সমর্থন করেননি, বরং তিনি কেবল দেখিয়েছেন যে ভালোবাসা শেষ হয়ে যাওয়া দাম্পত্যে মানুষ কীভাবে আটকা পড়ে থাকে। দুই দশক পরের এই সময়ে দাঁড়িয়ে সিনেমাটি তাই কেবল একটি প্রেমের গল্প নয়, বরং সম্পর্কের ক্ষেত্রে সততা, দায়িত্ববোধ ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পরিণতি নিয়ে একটি বড় বিতর্কের নাম।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin