ঢাকা ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বীরগঞ্জে জরাজীর্ণ স্কুল ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ১২৬ শিশুর পাঠদান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ পালটাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি ১২৬ জন শিশু শিক্ষার্থী অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পাঠদান গ্রহণ করছে। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের বর্তমান ভবনটি ১৯৯৩-৯৪ সালে নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ভবনটির শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকদের অফিস কক্ষ—সবই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, ছাদের পলেস্তারা প্রায়ই খসে পড়ছে এবং ভবনটির দুটি শ্রেণিকক্ষের ছাদে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটলধরা পিলার ও বিম ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় সেগুলো বাঁশের ২০টি খুঁটি দিয়ে কোনোমতে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে ভেতরে পানি পড়ে এবং কক্ষ স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়, ফলে শিক্ষার্থীদের বই-খাতাও ভিজে নষ্ট হয়।

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আনিসা খাতুন জানায়, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়লে তারা সব সময় আতঙ্কে থাকে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আহসান হাবিব জানান, জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। এক সময় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে দুই শিফটে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে ১২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে।

শিক্ষক মো. আসলাম আলী ও মোছা. দুলালি জানান, প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আতঙ্কে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দিন পার করছেন। রফিকুল ইসলাম ও জান্নাতুন ফেরদৌসীসহ স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, বিকল্প স্কুল না থাকায় বাধ্য হয়েই সন্তানদের এই মরণফাঁদ সদৃশ স্কুলে পাঠাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুজ জামান জানান, ভবনটির বেহাল দশার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন ভবন বরাদ্দের সম্ভাবনা রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

বীরগঞ্জে জরাজীর্ণ স্কুল ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ১২৬ শিশুর পাঠদান

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ পালটাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি ১২৬ জন শিশু শিক্ষার্থী অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পাঠদান গ্রহণ করছে। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের বর্তমান ভবনটি ১৯৯৩-৯৪ সালে নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ভবনটির শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকদের অফিস কক্ষ—সবই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, ছাদের পলেস্তারা প্রায়ই খসে পড়ছে এবং ভবনটির দুটি শ্রেণিকক্ষের ছাদে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটলধরা পিলার ও বিম ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় সেগুলো বাঁশের ২০টি খুঁটি দিয়ে কোনোমতে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে ভেতরে পানি পড়ে এবং কক্ষ স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়, ফলে শিক্ষার্থীদের বই-খাতাও ভিজে নষ্ট হয়।

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আনিসা খাতুন জানায়, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়লে তারা সব সময় আতঙ্কে থাকে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আহসান হাবিব জানান, জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। এক সময় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে দুই শিফটে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে ১২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে।

শিক্ষক মো. আসলাম আলী ও মোছা. দুলালি জানান, প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আতঙ্কে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দিন পার করছেন। রফিকুল ইসলাম ও জান্নাতুন ফেরদৌসীসহ স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, বিকল্প স্কুল না থাকায় বাধ্য হয়েই সন্তানদের এই মরণফাঁদ সদৃশ স্কুলে পাঠাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুজ জামান জানান, ভবনটির বেহাল দশার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন ভবন বরাদ্দের সম্ভাবনা রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh