জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারী ঢাবি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কমিটি গঠন
- আপডেট সময় : ০২:৪৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে একটি চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, এসব ব্যক্তি যেসব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোজাদ্দেদী আলফেছানী।
তদন্ত কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোজাদ্দেদী আলফেছানী, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম এবং সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয়ে রাত পৌনে ১২টা পর্যন্ত চলা সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অধ্যাপক মোজাদ্দেদী জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব ব্যক্তিবর্গ জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধী ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণসহ অনেকে অভিযোগ করেছেন। তার ভিত্তিতে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন সে প্রমাণকে সামনে রেখে সেই ব্যক্তিবর্গ ও তাদের সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে রয়েছে গত সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’ ও জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক-ইউটিএল’-এর সদস্যদের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনা। তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকের ব্যানারে ওই দাবি জানিয়েছিলেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ১ আগস্ট নীল দলের শিক্ষকরা এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের ‘রাষ্ট্রদ্রোহী মহলের ষড়যন্ত্রের ক্রীড়নক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। এছাড়া তারা আন্দোলন পরিহারের আহ্বান জানিয়ে ছাত্রহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সাদা দল ও ইউটিএলের অভিযোগ অনুযায়ী, নীল দলের শিক্ষকরা ৩০ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে তৎকালীন সরকারের পদত্যাগ দাবিকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার হুমকি দিয়েছিলেন। ৩ আগস্ট তারা মানববন্ধন করে কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সব হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করলেও, অভিযোগকারীরা বলছেন, এর মাধ্যমে তারা শিক্ষার্থীদেরই ‘নাশকতার জন্য দায়ী’ করেছিলেন। এছাড়াও, ওইদিন রাতে নীল দলের শিক্ষকরা গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানান এবং কিছু শিক্ষক আন্দোলনকারীদের ওপর গুলির সুপারিশ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, ১৭ জুলাই তড়িঘড়ি করে সিন্ডিকেট সভা ডেকে হল খালি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতায় ফেলা হয়। এছাড়া তৎকালীন উপাচার্য মাকসুদ কামালের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে বহিষ্কারের হুমকির অভিযোগও রয়েছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এরই মধ্যে ৬৮ জন শিক্ষককে পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয়েছে এবং ১২৮ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।




























