ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করে নিপীড়িত হয়েছেন রুহুল আমিন গাজী: রিজভী তুরস্কের শানলিউরফায় ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত ইসলামাবাদে পিটিআইয়ের মিছিল ঘিরে দেশজুড়ে ধরপাকড় ও কড়াকড়ি ৫১তম বিসিএসে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, আবেদন শুরু ১ অক্টোবর জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা: নিহত ৪, পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কাটলে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করবে সরকার মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রতি ডেপুটি স্পিকারের আহ্বান আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-কুমি: ইবন আরাবির বর্ণনায় এক সুফি সাধক সোনারগাঁয়ে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১২

জ্বালানি সংকটে কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি: বিজিএমইএ সভাপতি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:০৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সাম্প্রতিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের কোনো তৈরি পোশাক কারখানা এখন পর্যন্ত বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। তবে এই সংকটের প্রকৃত প্রভাব কতটা গভীর, তা পুরোপুরি বুঝতে আরও অন্তত তিন থেকে চার মাস সময় লাগবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এসব কথা বলেন। মূলত ‘বাটেক্সপো ২০২৬’, হংকং রোডশো এবং পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে তিনি জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির বেশ উন্নতি হয়েছে।

পোশাক খাতের ব্যবসার ধরন ব্যাখ্যা করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, এই শিল্পে যেকোনো সংকটের প্রভাব সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ পায় না। একটি কারখানা বন্ধ করার সিদ্ধান্তও হুট করে নেওয়া যায় না। পাইপলাইনে থাকা ক্রয়াদেশ সম্পন্ন করা, শ্রমিকদের আইনগত পাওনা ও ক্ষতিপূরণ পরিশোধ এবং ব্যাংকের ঋণ বা দায়-দায়িত্বের মতো বিষয়গুলো গুছিয়ে আনতে অন্তত ছয় মাসের একটি পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়। তাই ছয় মাস বা এক বছর আগের কোনো সমস্যার কারণে এখন যদি কোনো কারখানা বন্ধ হয়, তবে সেটিকে বর্তমান জ্বালানি সংকটের দায় বলা ঠিক হবে না।

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মাহমুদ হাসান খান বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ডাইং ও ওয়াশিংসহ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতগুলো মারাত্মক সংকটে পড়েছিল। তবে সম্প্রতি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তা কার্যকর হয়েছে। তিনি আরও জানান, স্বাভাবিক সময়ে কারখানাগুলো ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা চললেও, সংকটের কারণে অনেক উদ্যোক্তাকে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে অতিরিক্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বেশি কাজ করতে হয়েছে। এতে উৎপাদন ও ব্যবসা পরিচালনার খরচ বাড়লেও সময়মতো পণ্য রপ্তানি নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন ব্যবসায়ীরা।

গ্যাস সরবরাহ টেকসই করতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে একটি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জমা দিয়েছে বিজিএমইএ। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি সমস্যার বড় সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন তারা। এ ছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য স্থলভিত্তিক (ল্যান্ড-বেইজড) স্টোরেজ টার্মিনাল নির্মাণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। চীনের সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে একটি এফএসআরইউ আনার চুক্তি হলেও, বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন না করে কেবল একাধিক এফএসআরইউ স্থাপন করলে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আরও কিছু দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে এসএমই কারখানায় গ্যাস সংযোগ ও রেশনিংয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া, ১০০ থেকে ৫০০ পিএসআই ক্ষমতাসম্পন্ন বয়লারযুক্ত কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ প্রদান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের জন্য কম সুদে ‘গ্রিন লোন’ দেওয়া এবং উপকূলীয় অঞ্চলে দ্রুত গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা। সৌরবিদ্যুৎ প্রসঙ্গে মাহমুদ হাসান খান নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ২০১৯ সাল থেকে তিনি নিজের কারখানায় ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন, যার পরিমাণ প্রায় ১৪ মেগাওয়াট। তৈরি পোশাক খাতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি রিটার্ন ও সুদের হার বড় বাধা। এ জন্য কম সুদে গ্রিন ফাইন্যান্সের ব্যবস্থা করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের নেওয়া উদ্যোগটি ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। চলতি মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এটি পাস হবে বলে তারা আশাবাদী। এই অতিরিক্ত সময় পাওয়া গেলে এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ বাড়বে। বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) নেতৃত্বাধীন কমিটিতে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করে নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

মাহমুদ হাসান খান জোর দিয়ে বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি টিকিয়ে রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে জিএসপি প্লাস নয়, বরং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদন করা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া ব্যবসা সহজ করতে কাস্টমস ও কোম্পানি আইন আধুনিকায়ন, দ্রুত এফটিএ/ইপিএ চুক্তি স্বাক্ষর এবং এলডিসি-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি খাতে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য বিশেষ নীতিগত সহায়তা ও শুল্ক-কর কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানান তিনি।

রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণের বিষয়ে তিনি জানান, গত এক দশক ধরে নতুন বাজারে তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট ৪০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানির মধ্যে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার আসে যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও কানাডার বাইরের বাজারগুলো থেকে। জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে বিজিএমইএ একটি বিশেষ ‘জাপান ডেস্ক’ চালু করতে যাচ্ছে, যেখানে জাপানি ভাষায় দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্তমানে জাপানে থাকা ৫০০ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আগামী দিনে ২ থেকে আড়াই বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে কম দামি পণ্যের বাইরে একটি উদ্ভাবননির্ভর ও আধুনিক শিল্প হিসেবে তুলে ধরতে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের সঙ্গে একটি কৌশলগত চুক্তি করার কথাও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

জ্বালানি সংকটে কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি: বিজিএমইএ সভাপতি

আপডেট সময় : ০৩:০৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাম্প্রতিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের কোনো তৈরি পোশাক কারখানা এখন পর্যন্ত বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। তবে এই সংকটের প্রকৃত প্রভাব কতটা গভীর, তা পুরোপুরি বুঝতে আরও অন্তত তিন থেকে চার মাস সময় লাগবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এসব কথা বলেন। মূলত ‘বাটেক্সপো ২০২৬’, হংকং রোডশো এবং পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে তিনি জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির বেশ উন্নতি হয়েছে।

পোশাক খাতের ব্যবসার ধরন ব্যাখ্যা করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, এই শিল্পে যেকোনো সংকটের প্রভাব সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ পায় না। একটি কারখানা বন্ধ করার সিদ্ধান্তও হুট করে নেওয়া যায় না। পাইপলাইনে থাকা ক্রয়াদেশ সম্পন্ন করা, শ্রমিকদের আইনগত পাওনা ও ক্ষতিপূরণ পরিশোধ এবং ব্যাংকের ঋণ বা দায়-দায়িত্বের মতো বিষয়গুলো গুছিয়ে আনতে অন্তত ছয় মাসের একটি পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়। তাই ছয় মাস বা এক বছর আগের কোনো সমস্যার কারণে এখন যদি কোনো কারখানা বন্ধ হয়, তবে সেটিকে বর্তমান জ্বালানি সংকটের দায় বলা ঠিক হবে না।

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মাহমুদ হাসান খান বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ডাইং ও ওয়াশিংসহ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতগুলো মারাত্মক সংকটে পড়েছিল। তবে সম্প্রতি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তা কার্যকর হয়েছে। তিনি আরও জানান, স্বাভাবিক সময়ে কারখানাগুলো ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা চললেও, সংকটের কারণে অনেক উদ্যোক্তাকে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে অতিরিক্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বেশি কাজ করতে হয়েছে। এতে উৎপাদন ও ব্যবসা পরিচালনার খরচ বাড়লেও সময়মতো পণ্য রপ্তানি নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন ব্যবসায়ীরা।

গ্যাস সরবরাহ টেকসই করতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে একটি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জমা দিয়েছে বিজিএমইএ। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি সমস্যার বড় সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন তারা। এ ছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য স্থলভিত্তিক (ল্যান্ড-বেইজড) স্টোরেজ টার্মিনাল নির্মাণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। চীনের সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে একটি এফএসআরইউ আনার চুক্তি হলেও, বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন না করে কেবল একাধিক এফএসআরইউ স্থাপন করলে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আরও কিছু দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে এসএমই কারখানায় গ্যাস সংযোগ ও রেশনিংয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া, ১০০ থেকে ৫০০ পিএসআই ক্ষমতাসম্পন্ন বয়লারযুক্ত কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ প্রদান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের জন্য কম সুদে ‘গ্রিন লোন’ দেওয়া এবং উপকূলীয় অঞ্চলে দ্রুত গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা। সৌরবিদ্যুৎ প্রসঙ্গে মাহমুদ হাসান খান নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ২০১৯ সাল থেকে তিনি নিজের কারখানায় ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন, যার পরিমাণ প্রায় ১৪ মেগাওয়াট। তৈরি পোশাক খাতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি রিটার্ন ও সুদের হার বড় বাধা। এ জন্য কম সুদে গ্রিন ফাইন্যান্সের ব্যবস্থা করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের নেওয়া উদ্যোগটি ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। চলতি মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এটি পাস হবে বলে তারা আশাবাদী। এই অতিরিক্ত সময় পাওয়া গেলে এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ বাড়বে। বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) নেতৃত্বাধীন কমিটিতে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করে নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

মাহমুদ হাসান খান জোর দিয়ে বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি টিকিয়ে রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে জিএসপি প্লাস নয়, বরং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদন করা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া ব্যবসা সহজ করতে কাস্টমস ও কোম্পানি আইন আধুনিকায়ন, দ্রুত এফটিএ/ইপিএ চুক্তি স্বাক্ষর এবং এলডিসি-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি খাতে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য বিশেষ নীতিগত সহায়তা ও শুল্ক-কর কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানান তিনি।

রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণের বিষয়ে তিনি জানান, গত এক দশক ধরে নতুন বাজারে তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট ৪০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানির মধ্যে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার আসে যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও কানাডার বাইরের বাজারগুলো থেকে। জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে বিজিএমইএ একটি বিশেষ ‘জাপান ডেস্ক’ চালু করতে যাচ্ছে, যেখানে জাপানি ভাষায় দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্তমানে জাপানে থাকা ৫০০ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আগামী দিনে ২ থেকে আড়াই বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে কম দামি পণ্যের বাইরে একটি উদ্ভাবননির্ভর ও আধুনিক শিল্প হিসেবে তুলে ধরতে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের সঙ্গে একটি কৌশলগত চুক্তি করার কথাও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh