ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, কারণ জানাল রয়টার্স টেকসই উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান ববি হাজ্জাজের স্কুলে ঢুকে ছাত্রকে মারধর, ছাত্রদল সভাপতি আজীবন বহিষ্কার আফগানিস্তানের ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলা দাউদকান্দি থানায় ১৭ কিশোরের পালানোর অভিযোগ, অস্বীকার পুলিশের বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করল বিমান বাংলাদেশ গ্রাম ও শহর: জীবনযাত্রার ভিন্নতা, শিশুদের স্বাস্থ্যে এগিয়ে গ্রাম উখিয়ায় বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি, দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার আজ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ উদ্ধারে ইরানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সোনার গয়না কেনার খুঁটিনাটি: কোন ক্যারেটে কী সুবিধা, ঝুঁকি এড়াবেন যেভাবে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সোনার দাম এখন আকাশচুম্বী। দেশের ইতিহাসে গত ২৯ জানুয়ারি ২২ ক্যারেট সোনার দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল। বর্তমানে কিছুটা কমে তা প্রতি ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বছর যেখানে প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল মাত্র ১৭০ টাকা, সেখানে গত ৫৫ বছরে এই মূল্যবান ধাতুর দাম বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৭০ গুণ। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ ক্রেতারা প্রায়ই দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েন যে কত ক্যারেটের সোনা কেনা তাদের জন্য লাভজনক হবে এবং কীভাবে প্রতারণা এড়ানো সম্ভব।

বাংলাদেশে সাধারণত ২২, ২১, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার অলংকার বিক্রি হয়ে থাকে। সোনার বিশুদ্ধতা পরিমাপের একক হলো ক্যারেট। ২৪ ক্যারেটের সোনা হলো সবচেয়ে খাঁটি, যা ৯৯.৯ শতাংশ বিশুদ্ধ এবং এর গায়ে ‘২৪ কে’ বা ‘৯৯৯’ খোদাই করা থাকে। একইভাবে ২২ ক্যারেটের অলংকারে ‘৯১৬’ (৯১.৬% বিশুদ্ধতা), ২১ ক্যারেটে ‘৮৭৫’ (৮৭.৫% বিশুদ্ধতা) এবং ১৮ ক্যারেটের অলংকারে ‘৭৫০’ (৭৫% বিশুদ্ধতা) লেখা থাকে। ২২, ২১ বা ১৮ ক্যারেটের সোনা শক্ত করার জন্য এতে রুপা, তামা বা দস্তার মতো ধাতুর মিশ্রণ দেওয়া হয়। বাংলাদেশে ২১ ক্যারেটের অলংকার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। সাধারণত চেইন, ব্রেসলেট বা চুড়ির মতো মেশিনে তৈরি অলংকার ২২ ক্যারেটের হয়। তবে মেশিনে ২১ ও ১৮ ক্যারেটের অলংকারও তৈরি করা সম্ভব। যেসব অলংকারে নকশা বেশি থাকে এবং ঝালাইয়ের প্রয়োজন পড়ে, সেগুলো সাধারণত ২১ ও ১৮ ক্যারেটের হয়ে থাকে।

কোন ক্যারেটের সোনা কেনা ভালো—এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আমিনুল ইসলাম জানান, যেকোনো ক্যারেটের অলংকারই কেনা যেতে পারে। কম ক্যারেট মানেই যে মান খারাপ, এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। এমনকি বিদেশে ৯ ক্যারেটের অলংকারও তৈরি হয়। তবে ক্রেতাদের অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে অলংকারটি হলমার্ক করা এবং ক্যাশমেমোতে ক্যারেটের বিষয়টি উল্লেখ আছে কি না। তিনি সবসময় জুয়েলার্স সমিতির সদস্য প্রতিষ্ঠান থেকে সোনা কেনার পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশে হলমার্কিংয়ের কাজটি বেসরকারিভাবে ‘বাংলা গোল্ড’ ও ‘ঢাকা গোল্ড’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান করে থাকে। তারা অলংকার পরীক্ষা করে লেজারের মাধ্যমে ক্যারেট লিখে দেয় এবং জুয়েলার্সদের কাছে এর সনদ সরবরাহ করে। ঢাকার বাইরে অনেক ব্যবসায়ী সোনার বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে ‘টোনস মেশিন’ ব্যবহার করেন, যা প্রায় নিখুঁত তথ্য দেয়। হলমার্ক করা অলংকার ও সঠিক ক্যাশমেমো থাকলে ক্রেতারা সহজেই তা বিক্রি বা পরিবর্তন করতে পারেন। নিয়ম অনুযায়ী, পুরোনো অলংকার বিক্রির ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ এবং তা বদলে নতুন অলংকার তৈরির ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ মূল্য বাদ দেওয়া হয়।

সোনার দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় বাজারে কম ক্যারেটের সোনা এবং মিশ্র ধাতুর অলংকারের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে ব্রোঞ্জের ওপর দুই থেকে তিন আনা সোনা দিয়ে তৈরি চুড়ি ও বালা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এই অলংকারগুলোতে ঠিক কী পরিমাণ সোনা ব্যবহার করা হচ্ছে, তা পরিমাপের কোনো সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। ফলে ক্রেতাদের প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই ঝুঁকি এড়াতে গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের বাজারে ব্রোঞ্জের তৈরি সোনার চুড়ি ও বালা বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে জুয়েলার্স সমিতি। একই সঙ্গে ক্রেতাদেরও এই ধরনের পণ্য না কেনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে ঢাকার বাইরের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন অনলাইন পেজ বাজুস নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে সোনা বিক্রির চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। অনেকে অলংকার না দেখেই অর্ডার দিয়ে বসেন। এ বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়ান আমিনুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে কমে সোনা বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি কম দামে সোনা অফার করে, তবে বুঝতে হবে তার মানে কোনো না কোনো কারচুপি রয়েছে। তাই যাচাই-বাছাই না করে অনলাইনে সোনা কেনা বা এমন প্রলোভনে পা দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। যেহেতু সোনা অত্যন্ত মূল্যবান ধাতু, তাই সবসময় নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান থেকে অলংকার কেনা উচিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সোনার গয়না কেনার খুঁটিনাটি: কোন ক্যারেটে কী সুবিধা, ঝুঁকি এড়াবেন যেভাবে

আপডেট সময় : ০৯:০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনার দাম এখন আকাশচুম্বী। দেশের ইতিহাসে গত ২৯ জানুয়ারি ২২ ক্যারেট সোনার দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল। বর্তমানে কিছুটা কমে তা প্রতি ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বছর যেখানে প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল মাত্র ১৭০ টাকা, সেখানে গত ৫৫ বছরে এই মূল্যবান ধাতুর দাম বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৭০ গুণ। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ ক্রেতারা প্রায়ই দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েন যে কত ক্যারেটের সোনা কেনা তাদের জন্য লাভজনক হবে এবং কীভাবে প্রতারণা এড়ানো সম্ভব।

বাংলাদেশে সাধারণত ২২, ২১, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার অলংকার বিক্রি হয়ে থাকে। সোনার বিশুদ্ধতা পরিমাপের একক হলো ক্যারেট। ২৪ ক্যারেটের সোনা হলো সবচেয়ে খাঁটি, যা ৯৯.৯ শতাংশ বিশুদ্ধ এবং এর গায়ে ‘২৪ কে’ বা ‘৯৯৯’ খোদাই করা থাকে। একইভাবে ২২ ক্যারেটের অলংকারে ‘৯১৬’ (৯১.৬% বিশুদ্ধতা), ২১ ক্যারেটে ‘৮৭৫’ (৮৭.৫% বিশুদ্ধতা) এবং ১৮ ক্যারেটের অলংকারে ‘৭৫০’ (৭৫% বিশুদ্ধতা) লেখা থাকে। ২২, ২১ বা ১৮ ক্যারেটের সোনা শক্ত করার জন্য এতে রুপা, তামা বা দস্তার মতো ধাতুর মিশ্রণ দেওয়া হয়। বাংলাদেশে ২১ ক্যারেটের অলংকার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। সাধারণত চেইন, ব্রেসলেট বা চুড়ির মতো মেশিনে তৈরি অলংকার ২২ ক্যারেটের হয়। তবে মেশিনে ২১ ও ১৮ ক্যারেটের অলংকারও তৈরি করা সম্ভব। যেসব অলংকারে নকশা বেশি থাকে এবং ঝালাইয়ের প্রয়োজন পড়ে, সেগুলো সাধারণত ২১ ও ১৮ ক্যারেটের হয়ে থাকে।

কোন ক্যারেটের সোনা কেনা ভালো—এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আমিনুল ইসলাম জানান, যেকোনো ক্যারেটের অলংকারই কেনা যেতে পারে। কম ক্যারেট মানেই যে মান খারাপ, এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। এমনকি বিদেশে ৯ ক্যারেটের অলংকারও তৈরি হয়। তবে ক্রেতাদের অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে অলংকারটি হলমার্ক করা এবং ক্যাশমেমোতে ক্যারেটের বিষয়টি উল্লেখ আছে কি না। তিনি সবসময় জুয়েলার্স সমিতির সদস্য প্রতিষ্ঠান থেকে সোনা কেনার পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশে হলমার্কিংয়ের কাজটি বেসরকারিভাবে ‘বাংলা গোল্ড’ ও ‘ঢাকা গোল্ড’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান করে থাকে। তারা অলংকার পরীক্ষা করে লেজারের মাধ্যমে ক্যারেট লিখে দেয় এবং জুয়েলার্সদের কাছে এর সনদ সরবরাহ করে। ঢাকার বাইরে অনেক ব্যবসায়ী সোনার বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে ‘টোনস মেশিন’ ব্যবহার করেন, যা প্রায় নিখুঁত তথ্য দেয়। হলমার্ক করা অলংকার ও সঠিক ক্যাশমেমো থাকলে ক্রেতারা সহজেই তা বিক্রি বা পরিবর্তন করতে পারেন। নিয়ম অনুযায়ী, পুরোনো অলংকার বিক্রির ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ এবং তা বদলে নতুন অলংকার তৈরির ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ মূল্য বাদ দেওয়া হয়।

সোনার দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় বাজারে কম ক্যারেটের সোনা এবং মিশ্র ধাতুর অলংকারের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে ব্রোঞ্জের ওপর দুই থেকে তিন আনা সোনা দিয়ে তৈরি চুড়ি ও বালা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এই অলংকারগুলোতে ঠিক কী পরিমাণ সোনা ব্যবহার করা হচ্ছে, তা পরিমাপের কোনো সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। ফলে ক্রেতাদের প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই ঝুঁকি এড়াতে গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের বাজারে ব্রোঞ্জের তৈরি সোনার চুড়ি ও বালা বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে জুয়েলার্স সমিতি। একই সঙ্গে ক্রেতাদেরও এই ধরনের পণ্য না কেনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে ঢাকার বাইরের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন অনলাইন পেজ বাজুস নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে সোনা বিক্রির চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। অনেকে অলংকার না দেখেই অর্ডার দিয়ে বসেন। এ বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়ান আমিনুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে কমে সোনা বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি কম দামে সোনা অফার করে, তবে বুঝতে হবে তার মানে কোনো না কোনো কারচুপি রয়েছে। তাই যাচাই-বাছাই না করে অনলাইনে সোনা কেনা বা এমন প্রলোভনে পা দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। যেহেতু সোনা অত্যন্ত মূল্যবান ধাতু, তাই সবসময় নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান থেকে অলংকার কেনা উচিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo