ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, কারণ জানাল রয়টার্স টেকসই উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান ববি হাজ্জাজের স্কুলে ঢুকে ছাত্রকে মারধর, ছাত্রদল সভাপতি আজীবন বহিষ্কার আফগানিস্তানের ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলা দাউদকান্দি থানায় ১৭ কিশোরের পালানোর অভিযোগ, অস্বীকার পুলিশের বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করল বিমান বাংলাদেশ গ্রাম ও শহর: জীবনযাত্রার ভিন্নতা, শিশুদের স্বাস্থ্যে এগিয়ে গ্রাম উখিয়ায় বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি, দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার আজ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ উদ্ধারে ইরানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ইসবগুল আমদানিতে বছরে খরচ ১০৮ কোটি টাকা, দেশে উৎপাদনের চেষ্টা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৪২:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পেটের সমস্যাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতা নিরসনে ইসবগুলের ভুসি বাংলাদেশে অত্যন্ত পরিচিত। তবে দেশের চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ টন ইসবগুলের ভুসি আমদানি করা হয়েছে, যার মূল্য প্রায় পৌনে ৯ লাখ ডলার বা ১০৮ কোটি টাকা। ভারত বিশ্বের শীর্ষ ইসবগুল উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় পুরো আমদানিই দেশটি থেকে আসে।

ইসবগুলের বৈজ্ঞানিক নাম প্ল্যান্টাগো ওভাটা, যা বাণিজ্যিকভাবে ব্লন্ড সিলিয়াম নামে পরিচিত। ভারতের কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (আইসিএআর) একটি গবেষণা প্রতিবেদন ২০২৩ সালে রিসার্চ গেট জার্নালে প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসবগুল শব্দটি ফার্সি ‘আসব্’ (ঘোড়া) এবং ‘গুল্’ (কান) শব্দ থেকে এসেছে, কারণ এর বীজের আকৃতি অনেকটা ঘোড়ার কানের মতো। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ও পশ্চিম এশিয়ায় উদ্ভূত এই ভেষজটি মোগল ও ইংরেজ আমলে ভারতীয় উপমহাদেশে জনপ্রিয় হয়। বর্তমানে ভারতের গুজরাট, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্যে এর ব্যাপক চাষাবাদ হয় এবং ভারত বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ জোগান দেয়।

বাজারে ইসবগুলের ভুসির দাম গত আট বছরে প্রায় ৮৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৭ সালের জুনে প্রতি কেজি ইসবগুলের ভুসির দাম ছিল ৮০০ টাকা, যা ২০২২ সালের শেষে ১ হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছায়। ২০২৪ সালের রোজার সময় দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ২ হাজার টাকায় উঠলেও বর্তমানে খুচরা বাজারে এর গড় দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৬০ গ্রাম ইসবগুলের ভুসির দাম ১৬০-১৭০ টাকা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বৈধ আমদানির বাইরেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইসবগুল অবৈধ পথে দেশে প্রবেশ করে। রোজার পর অবশ্য দাম কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা কমেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ইসবগুলকে শক্তিশালী প্রিবায়োটিক হিসেবে অভিহিত করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. টিটু মিয়া জানান, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ইসবগুল অত্যন্ত কার্যকর কারণ এটি প্রচুর পানি ধারণে সক্ষম। এছাড়া খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানগুলো বেকারি পণ্যে, বিশেষ করে ডাইজেস্টিভ বিস্কুটে এর ব্যবহার বাড়াচ্ছে। বস্ত্র ও প্রসাধনী শিল্পেও রঞ্জন ও ছাপানোর কাজে ইসবগুলের ভুসি ব্যবহৃত হচ্ছে এবং বীজ প্রোটিনসমৃদ্ধ গোখাদ্য হিসেবেও কাজে লাগছে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বিজ্ঞানীরা ২০১৯ সাল থেকে বগুড়া, গাজীপুর, লালমনিরহাট ও ফরিদপুরে ইসবগুল চাষের পরীক্ষামূলক গবেষণা চালাচ্ছেন। মাগুরা আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম জানান, ১১০ থেকে ১২০ দিনের স্বল্পমেয়াদী এই ফসলটি রবি মৌসুমে উঁচু জমিতে চাষ করা সম্ভব। এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে চাষে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা খরচে প্রায় ১০০ কেজি ফলন পাওয়া যেতে পারে। সেখান থেকে বীজ বিক্রি করে ৩০-৪০ হাজার টাকা এবং ভুসি বিক্রি করা গেলে বিঘাপ্রতি প্রায় এক লাখ টাকা পর্যন্ত আয় সম্ভব। তবে দেশে বীজ ভাঙিয়ে ভুসি তৈরির উপযোগী যন্ত্র না থাকায় বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু করা যাচ্ছে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসবগুল আমদানিতে বছরে খরচ ১০৮ কোটি টাকা, দেশে উৎপাদনের চেষ্টা

আপডেট সময় : ০৮:৪২:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পেটের সমস্যাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতা নিরসনে ইসবগুলের ভুসি বাংলাদেশে অত্যন্ত পরিচিত। তবে দেশের চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ টন ইসবগুলের ভুসি আমদানি করা হয়েছে, যার মূল্য প্রায় পৌনে ৯ লাখ ডলার বা ১০৮ কোটি টাকা। ভারত বিশ্বের শীর্ষ ইসবগুল উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় পুরো আমদানিই দেশটি থেকে আসে।

ইসবগুলের বৈজ্ঞানিক নাম প্ল্যান্টাগো ওভাটা, যা বাণিজ্যিকভাবে ব্লন্ড সিলিয়াম নামে পরিচিত। ভারতের কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (আইসিএআর) একটি গবেষণা প্রতিবেদন ২০২৩ সালে রিসার্চ গেট জার্নালে প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসবগুল শব্দটি ফার্সি ‘আসব্’ (ঘোড়া) এবং ‘গুল্’ (কান) শব্দ থেকে এসেছে, কারণ এর বীজের আকৃতি অনেকটা ঘোড়ার কানের মতো। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ও পশ্চিম এশিয়ায় উদ্ভূত এই ভেষজটি মোগল ও ইংরেজ আমলে ভারতীয় উপমহাদেশে জনপ্রিয় হয়। বর্তমানে ভারতের গুজরাট, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্যে এর ব্যাপক চাষাবাদ হয় এবং ভারত বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ জোগান দেয়।

বাজারে ইসবগুলের ভুসির দাম গত আট বছরে প্রায় ৮৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৭ সালের জুনে প্রতি কেজি ইসবগুলের ভুসির দাম ছিল ৮০০ টাকা, যা ২০২২ সালের শেষে ১ হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছায়। ২০২৪ সালের রোজার সময় দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ২ হাজার টাকায় উঠলেও বর্তমানে খুচরা বাজারে এর গড় দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৬০ গ্রাম ইসবগুলের ভুসির দাম ১৬০-১৭০ টাকা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বৈধ আমদানির বাইরেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইসবগুল অবৈধ পথে দেশে প্রবেশ করে। রোজার পর অবশ্য দাম কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা কমেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ইসবগুলকে শক্তিশালী প্রিবায়োটিক হিসেবে অভিহিত করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. টিটু মিয়া জানান, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ইসবগুল অত্যন্ত কার্যকর কারণ এটি প্রচুর পানি ধারণে সক্ষম। এছাড়া খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানগুলো বেকারি পণ্যে, বিশেষ করে ডাইজেস্টিভ বিস্কুটে এর ব্যবহার বাড়াচ্ছে। বস্ত্র ও প্রসাধনী শিল্পেও রঞ্জন ও ছাপানোর কাজে ইসবগুলের ভুসি ব্যবহৃত হচ্ছে এবং বীজ প্রোটিনসমৃদ্ধ গোখাদ্য হিসেবেও কাজে লাগছে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বিজ্ঞানীরা ২০১৯ সাল থেকে বগুড়া, গাজীপুর, লালমনিরহাট ও ফরিদপুরে ইসবগুল চাষের পরীক্ষামূলক গবেষণা চালাচ্ছেন। মাগুরা আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম জানান, ১১০ থেকে ১২০ দিনের স্বল্পমেয়াদী এই ফসলটি রবি মৌসুমে উঁচু জমিতে চাষ করা সম্ভব। এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে চাষে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা খরচে প্রায় ১০০ কেজি ফলন পাওয়া যেতে পারে। সেখান থেকে বীজ বিক্রি করে ৩০-৪০ হাজার টাকা এবং ভুসি বিক্রি করা গেলে বিঘাপ্রতি প্রায় এক লাখ টাকা পর্যন্ত আয় সম্ভব। তবে দেশে বীজ ভাঙিয়ে ভুসি তৈরির উপযোগী যন্ত্র না থাকায় বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু করা যাচ্ছে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo