ঢাকা ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাশিয়ায় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে জাপানি সাংবাদিক গ্রেপ্তার রিয়াদে প্রাণঘাতী হামলার আগে সৌদির আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা কেন নীরব ছিল সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় হুতি বিদ্রোহীদের হামলা রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন সম্পন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধৈর্য ও আল্লাহর স্মরণে মুমিনের করণীয় প্রথম ভারতীয় সুপারস্টার অশোক কুমারের জীবন ও ক্যারিয়ারের অজানা কথা আখাউড়া প্রশাসনে বহিরাগত ‘পাবলিক পেশকার’ আমজাদের দাপট বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট ও চ্যাম্পিয়নস লিগের আজকের সূচি আজ ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস: সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে জোর ময়মনসিংহে স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকার মারামারির ভিডিও ভাইরাল

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট উত্তরণে সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:০১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দেশে বর্তমানে যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট চলছে, তা বর্তমান সরকারের তৈরি নয় বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই সংকট আগের সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে, তবে সংকট কাটাতে সময়ের প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে মজুতের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ছিল। অনেক ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ১৭ দিনের মজুতও ছিল না, যা বর্তমানে এক মাসে উন্নীত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে তিন মাসের মজুত গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। জ্বালানি নিরাপত্তাকে অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সবকিছু সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই বলে শিল্প খাতকেও বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে আমির খসরু বলেন, এর নেতিবাচক প্রভাব খেলাপি ঋণের ওপরও পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল ও গ্রেস পিরিয়ডসহ একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। যারা ব্যবসা থেকে সরে আসতে চান, তাদের জন্যও নীতিগত সুযোগ রাখা হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই প্যাকেজ কার্যকর হবে। যোগ্য হওয়ার পরও ব্যবসায়ীরা ব্যাংকে বাধার সম্মুখীন হলে তা সরকারকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

ব্যাংকিং খাতের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো ঋণ যদি বাস্তবে ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তবে শুধু কাগজে-কলমে তা দেখিয়ে রাখার কোনো অর্থ নেই। ব্যাংকের ব্যালান্সশিট পরিষ্কার করে প্রকৃত তারল্য তৈরি করতে হবে। এছাড়া ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে। অতীতের অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এবার কোনো রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বা প্রভাবের সুযোগ থাকবে না। আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া হবে না এবং নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণকারী উদ্যোক্তারাই ঋণ পাবেন। সরকার আর্থিক খাতকে বাজারের নিয়মে পরিচালনা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট উত্তরণে সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:০১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

দেশে বর্তমানে যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট চলছে, তা বর্তমান সরকারের তৈরি নয় বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই সংকট আগের সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে, তবে সংকট কাটাতে সময়ের প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে মজুতের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ছিল। অনেক ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ১৭ দিনের মজুতও ছিল না, যা বর্তমানে এক মাসে উন্নীত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে তিন মাসের মজুত গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। জ্বালানি নিরাপত্তাকে অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সবকিছু সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই বলে শিল্প খাতকেও বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে আমির খসরু বলেন, এর নেতিবাচক প্রভাব খেলাপি ঋণের ওপরও পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল ও গ্রেস পিরিয়ডসহ একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। যারা ব্যবসা থেকে সরে আসতে চান, তাদের জন্যও নীতিগত সুযোগ রাখা হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই প্যাকেজ কার্যকর হবে। যোগ্য হওয়ার পরও ব্যবসায়ীরা ব্যাংকে বাধার সম্মুখীন হলে তা সরকারকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

ব্যাংকিং খাতের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো ঋণ যদি বাস্তবে ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তবে শুধু কাগজে-কলমে তা দেখিয়ে রাখার কোনো অর্থ নেই। ব্যাংকের ব্যালান্সশিট পরিষ্কার করে প্রকৃত তারল্য তৈরি করতে হবে। এছাড়া ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে। অতীতের অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এবার কোনো রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বা প্রভাবের সুযোগ থাকবে না। আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া হবে না এবং নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণকারী উদ্যোক্তারাই ঋণ পাবেন। সরকার আর্থিক খাতকে বাজারের নিয়মে পরিচালনা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din