ঢাকা ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইসরো থেকে বিজ্ঞানীদের গণপদত্যাগ: বেসরকারি স্টার্টআপে যোগ দেওয়ার হিড়িক দেশে ফিরলেই শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হবে: শামা ওবায়েদ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম জুলাইয়ের চেতনা থেকে বিএনপি সরকার মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচের আয় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দিল নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন রাজ্যসভার এমপি পদ ছাড়লেন কোয়েল মল্লিক, দেখা করলেন বিজেপি নেতার সঙ্গে জ্বালানি তেলের মজুত সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ৪ হাজার ডলারের নিচে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে লোহিত সাগর বন্ধের হুমকি ইরানের রথযাত্রা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অসুস্থ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

জ্বালানি তেলের মজুত সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার উদ্যোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩১:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

দেশের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করার লক্ষ্যে জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারের যেকোনো পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের শিল্প উৎপাদন ও অর্থনীতির গতি সচল রাখার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) যৌথভাবে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তেলের মজুত সক্ষমতা ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৭১ দিনে উন্নীত করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ২০২৭ সালের মধ্যে তা ৯০ দিনে পৌঁছাবে। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, বর্তমানে দেশে ৬০ দিনের বেশি জ্বালানি তেল মজুতের সক্ষমতা রয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কাজ চলছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, জাতীয় জ্বালানি নীতি-১৯৯৬ অনুযায়ী ৬০ দিনের মজুতের বিধান থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় তা ৯০ দিনে উন্নীত করা হচ্ছে। তবে বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই।

বিপিসির অধীনে থাকা পদ্মা, মেঘনা ও যমুনাসহ ছয়টি কোম্পানির বর্তমান সংরক্ষণ সক্ষমতা ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ৬৬ টন। এর মধ্যে ৬৭ হাজার ৬৩২ টন ধারণক্ষমতার অবকাঠামো সংস্কারের কাজ চলছে। ২০২৬ সালের জন্য মোট জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রক্ষেপণ করা হয়েছে ৮৪ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ডিজেলের চাহিদা ৪৪ লাখ ৭৩ হাজার টন, ফার্নেস অয়েলের ৭ লাখ ৩৫ হাজার টন, জেট ফুয়েলের ৬ লাখ ৬৩ হাজার টন, অকটেনের ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ টন এবং পেট্রোলের ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টন। বর্তমানে বিপিসির নিজস্ব সক্ষমতায় ডিজেল ৫৭ দিন, অকটেন ৪৬ দিন, পেট্রোল ২৯ দিন এবং ফার্নেস অয়েল ৭৮ দিনের মজুত রয়েছে।

মজুত সক্ষমতা বাড়াতে সরকার সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ট্যাংক ভাড়ায় ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং বিআরটিসি’র মতো প্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ৪২ হাজার ২৯৮ টন ডিজেল এবং ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ টন ফার্নেস অয়েল মজুতের সক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৮২ হাজার ২০০ টন ধারণক্ষমতার মজুদাগার সংস্কার করা হবে। জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৩ মাসের জ্বালানি মজুত করলে দেশের সামগ্রিক সক্ষমতা আরও ১২ থেকে ১৩ দিন বেড়ে যাবে।

অবকাঠামো উন্নয়নে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের আওতায় দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোর কমিশনিং সম্পন্ন হয়েছে, যা উত্তরাঞ্চলের মজুত সক্ষমতা ২৮ হাজার ৪৩৭ টন বাড়িয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে সেখানে আরও চারটি নতুন ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কুমিল্লায় ছয়টি ডিপো নির্মাণ, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লায় নতুন ট্যাংক নির্মাণ এবং বিভিন্ন তেল কোম্পানির প্রধান স্থাপনার খালি জায়গায় নতুন ট্যাংক নির্মাণ প্রকল্প চলমান রয়েছে। সিলেটের পদ্মা অয়েল ডিপোর তিনটি জেট ফুয়েল ট্যাংক ডিজেল সংরক্ষণের উপযোগী করা হচ্ছে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওমেরা’র ৪০ হাজার টন ধারণক্ষমতার ট্যাংকের মধ্যে ৩০ হাজার টন ভাড়ায় নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, অচল ট্যাংক সচল করা ও কেরোসিনের ট্যাংক ডিজেলে রূপান্তর করার এই পদক্ষেপ সময়োপযোগী।

নারায়ণগঞ্জের মেঘনা পেট্রোলিয়ামের গোদনাইল ডিপোতে ১১ হাজার টন ধারণক্ষমতার দুটি নতুন ট্যাংক এবং ফতুল্লার আলীগঞ্জ ডিপোতে ১৩ হাজার টন ধারণক্ষমতার আরও দুটি ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গোদনাইলে ১ হাজার ৪৫০ টন ধারণক্ষমতার একটি এইচওবিসি ট্যাংক নির্মাণাধীন রয়েছে।

সিলেটের পদ্মা অয়েল ডিপোর ১ হাজার ৩৭ টন ধারণক্ষমতার তিনটি জেট ফুয়েল ট্যাংক ডিজেল সংরক্ষণের উপযোগী করা হচ্ছে। ভৈরব বাজার ডিপোতে ২ হাজার ১৬৫ টনের পাঁচটি ট্যাংক নির্মাণকাজ চলছে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওমেরা’র ৪০ হাজার টন ধারণক্ষমতার ট্যাংকের মধ্যে ৩০ হাজার টন ভাড়ায় নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিপিসি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

জ্বালানি তেলের মজুত সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার উদ্যোগ

আপডেট সময় : ১২:৩১:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
print news

দেশের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করার লক্ষ্যে জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারের যেকোনো পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের শিল্প উৎপাদন ও অর্থনীতির গতি সচল রাখার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) যৌথভাবে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তেলের মজুত সক্ষমতা ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৭১ দিনে উন্নীত করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ২০২৭ সালের মধ্যে তা ৯০ দিনে পৌঁছাবে। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, বর্তমানে দেশে ৬০ দিনের বেশি জ্বালানি তেল মজুতের সক্ষমতা রয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কাজ চলছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, জাতীয় জ্বালানি নীতি-১৯৯৬ অনুযায়ী ৬০ দিনের মজুতের বিধান থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় তা ৯০ দিনে উন্নীত করা হচ্ছে। তবে বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই।

বিপিসির অধীনে থাকা পদ্মা, মেঘনা ও যমুনাসহ ছয়টি কোম্পানির বর্তমান সংরক্ষণ সক্ষমতা ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ৬৬ টন। এর মধ্যে ৬৭ হাজার ৬৩২ টন ধারণক্ষমতার অবকাঠামো সংস্কারের কাজ চলছে। ২০২৬ সালের জন্য মোট জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রক্ষেপণ করা হয়েছে ৮৪ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ডিজেলের চাহিদা ৪৪ লাখ ৭৩ হাজার টন, ফার্নেস অয়েলের ৭ লাখ ৩৫ হাজার টন, জেট ফুয়েলের ৬ লাখ ৬৩ হাজার টন, অকটেনের ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ টন এবং পেট্রোলের ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টন। বর্তমানে বিপিসির নিজস্ব সক্ষমতায় ডিজেল ৫৭ দিন, অকটেন ৪৬ দিন, পেট্রোল ২৯ দিন এবং ফার্নেস অয়েল ৭৮ দিনের মজুত রয়েছে।

মজুত সক্ষমতা বাড়াতে সরকার সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ট্যাংক ভাড়ায় ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং বিআরটিসি’র মতো প্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ৪২ হাজার ২৯৮ টন ডিজেল এবং ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ টন ফার্নেস অয়েল মজুতের সক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৮২ হাজার ২০০ টন ধারণক্ষমতার মজুদাগার সংস্কার করা হবে। জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৩ মাসের জ্বালানি মজুত করলে দেশের সামগ্রিক সক্ষমতা আরও ১২ থেকে ১৩ দিন বেড়ে যাবে।

অবকাঠামো উন্নয়নে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের আওতায় দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোর কমিশনিং সম্পন্ন হয়েছে, যা উত্তরাঞ্চলের মজুত সক্ষমতা ২৮ হাজার ৪৩৭ টন বাড়িয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে সেখানে আরও চারটি নতুন ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কুমিল্লায় ছয়টি ডিপো নির্মাণ, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লায় নতুন ট্যাংক নির্মাণ এবং বিভিন্ন তেল কোম্পানির প্রধান স্থাপনার খালি জায়গায় নতুন ট্যাংক নির্মাণ প্রকল্প চলমান রয়েছে। সিলেটের পদ্মা অয়েল ডিপোর তিনটি জেট ফুয়েল ট্যাংক ডিজেল সংরক্ষণের উপযোগী করা হচ্ছে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওমেরা’র ৪০ হাজার টন ধারণক্ষমতার ট্যাংকের মধ্যে ৩০ হাজার টন ভাড়ায় নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, অচল ট্যাংক সচল করা ও কেরোসিনের ট্যাংক ডিজেলে রূপান্তর করার এই পদক্ষেপ সময়োপযোগী।

নারায়ণগঞ্জের মেঘনা পেট্রোলিয়ামের গোদনাইল ডিপোতে ১১ হাজার টন ধারণক্ষমতার দুটি নতুন ট্যাংক এবং ফতুল্লার আলীগঞ্জ ডিপোতে ১৩ হাজার টন ধারণক্ষমতার আরও দুটি ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গোদনাইলে ১ হাজার ৪৫০ টন ধারণক্ষমতার একটি এইচওবিসি ট্যাংক নির্মাণাধীন রয়েছে।

সিলেটের পদ্মা অয়েল ডিপোর ১ হাজার ৩৭ টন ধারণক্ষমতার তিনটি জেট ফুয়েল ট্যাংক ডিজেল সংরক্ষণের উপযোগী করা হচ্ছে। ভৈরব বাজার ডিপোতে ২ হাজার ১৬৫ টনের পাঁচটি ট্যাংক নির্মাণকাজ চলছে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওমেরা’র ৪০ হাজার টন ধারণক্ষমতার ট্যাংকের মধ্যে ৩০ হাজার টন ভাড়ায় নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিপিসি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din