ভুরঘাটায় বাসভাড়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও আহত ২০
- আপডেট সময় : ১০:৩৮:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

বরিশালের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা বাস টার্মিনালে বাসভাড়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যার এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জেরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায়। কালকিনি উপজেলার ডাসার থানাধীন বনগ্রাম এলাকার এক বাসযাত্রীর সঙ্গে ভুরঘাটা বাস টার্মিনালের কাউন্টার মাস্টারের ভাড়া নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এর জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বনগ্রাম এলাকার কয়েকশ মানুষ ভুরঘাটা বাস টার্মিনাল এলাকায় জড়ো হলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে টার্মিনাল এলাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুরের শিকার হয়। খবর পেয়ে গৌরনদী ও কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হামলার বিষয়ে ভুরঘাটার বাসিন্দা ও গৌরনদী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাওছার তালুকদার অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবারের ঘটনার জের ধরে বনগ্রাম এলাকার মোফাজ্জেল সরদার, বায়জিদ সরদার, হাবুল ঘরামী, দেলোয়ার সরদার ও এমারাত সরদারের নেতৃত্বে কয়েকশ লোক টার্মিনালে হামলা চালিয়েছে। তারা ২০ থেকে ২৫টি ককটেল ফাটিয়ে ১৫টির মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে স্থানীয় ১৫ জন আহত হন, যাদের কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বনগ্রামের বাসিন্দা মোফাজ্জেল সরদার। তার দাবি, বৃহস্পতিবারের ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমে তাদের ওপর হামলা করা হয়। পরে বনগ্রামের আরও লোকজন সেখানে গেলে তাদের লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয় এবং সংঘর্ষ বাধে। এতে তাদের পক্ষের অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়ে কালকিনি উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের অভিযোগকে তিনি মিথ্যা ও সাজানো বলে দাবি করেন।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, বর্তমানে ভুরঘাটা এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




























