ঢাকা ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা: নিহত ৪, পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কাটলে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করবে সরকার মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রতি ডেপুটি স্পিকারের আহ্বান আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-কুমি: ইবন আরাবির বর্ণনায় এক সুফি সাধক সোনারগাঁয়ে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১২ ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে ট্যাব ও প্রশিক্ষণ শুরু সমাজসেবা অধিদপ্তরের জাতিসংঘে আজ প্রথম ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান না ফেরার দেশে প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রেসিডেন্ট

খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজমুল হত্যার বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৪০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে মারধরের পর ছাদ থেকে ফেলে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নগরীর সোনাডাঙ্গা প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীদের এই অবরোধের কারণে সোনাডাঙ্গা ট্রাফিক মোড়সহ সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাত্র এক প্লেট ভাত খাওয়ার মতো একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজমুলকে নির্মমভাবে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং একপর্যায়ে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা কারণ রয়েছে কি না, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করার জোর দাবি জানান।

আন্দোলনে অংশ নিয়ে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবু জায়েদ বলেন, আমাদের জুনিয়র আজমুলকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, অনুমতি না নিয়ে খাবার খাওয়ার অপরাধে তাকে মারা হয়েছে। আমাদের কি ভাতের এতই অভাব যে সামান্য খাবার খাওয়ার জন্য কাউকে প্রাণ দিতে হবে? এরপর আবার তার বাবা-মায়ের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। একটি খাবারের দাম কখনো এক লাখ টাকা হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, যদি কথার খাতিরে ধরেও নিই সে চুরি করেছে, তাহলেও চুরির শাস্তি কখনো মৃত্যুদণ্ড হতে পারে না। প্রশাসন মাত্র চারজনের নাম প্রকাশ করেছে, কিন্তু আমরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। সঠিক বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন আরও কঠোর হবে।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিন্ধ বলেন, শুধু খাবার চুরির জন্য কাউকে মারধর করে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে, এটি মূল কারণ হতে পারে না। এর পেছনে নিশ্চিতভাবেই অন্য কোনো রহস্য রয়েছে। বাবা-মায়ের টাকায় পড়াশোনা করা একজন শিক্ষার্থীর ভাত খাওয়ার টাকা থাকবে না, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। অপর শিক্ষার্থী হানজালা বলেন, এক বেলার খাবার চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তার মাথার চুল কেটে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে পেটানো হয়েছে। আমরা এই নির্মম নির্যাতনের সামগ্রিক বিচার চাই।

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী সাফুরা রহমান লিলি প্রশ্ন তোলেন, আজমুল আদৌ ছাদ থেকে লাফ দিয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। তার চুল কেটে নেওয়া স্পষ্টতই নির্যাতনের অংশ। এক প্লেট ভাতের জন্য কারও চুল, সম্মান এবং জীবন চলে যেতে পারে না। আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিত হাসান সৈকত বলেন, ঘটনার তিন দিন পার হয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী মারা গেছে, সে আমাদেরই ভাই। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চাই।

নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কানাই লাল বলেন, ঘটনার বাস্তবতা এখন অনেকটাই পরিষ্কার। ভাত চুরির একটি মিথ্যা ও তুচ্ছ অভিযোগে আজমুলকে বেধড়ক পেটানো হয় এবং পরে ছাদে নিয়ে গিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। এটি কোনো একজনের কাজ নয়, বরং বহু শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে দলগতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে কিছু চুল পড়ে থাকতে দেখেছি এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। খালি চোখেই বোঝা যায় তাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। এই অমানবিক ছাত্র হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনার ৬০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। উপাচার্য আরও জানান, মেস ব্যবস্থাপকের বক্তব্য থেকেও ঘটনার সঙ্গে একাধিক শিক্ষার্থীর জড়িত থাকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

বিক্ষোভ চলাকালে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু শিক্ষার্থীদের সমাবেশে এসে সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি আধা ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করব, যাতে তিনি এ বিষয়ে বিশেষ নজর রাখেন। অপ্রতিমের ঘটনার মতো এই বিষয়টিও যেন গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়।

এদিকে, আজমুল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তারা বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী জড়িত থাকলে তার পরিচয়, পদমর্যাদা বা ব্যাচ বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীতে মসজিদ গলির একটি ভবনে আজমুল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, রাতে মেসে মিল না দিয়ে ভাত খাওয়ার অপরাধে আজমুলকে মারধর ও চুল কেটে দেওয়া হয়। ওই সময় তার বাবার কাছে ফোনে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরবর্তীতে মারধরের পর তাকে ভবনের চতুর্থ তলা থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত চার শিক্ষার্থী হলেন— খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের ১৭ ও ১৯ ব্যাচের রবিন ও মবিন, গণিত ডিসিপ্লিনের ১৯ ব্যাচের সাগর এবং এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের ওবায়দুল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজমুল হত্যার বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ

আপডেট সময় : ০২:৪০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে মারধরের পর ছাদ থেকে ফেলে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নগরীর সোনাডাঙ্গা প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীদের এই অবরোধের কারণে সোনাডাঙ্গা ট্রাফিক মোড়সহ সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাত্র এক প্লেট ভাত খাওয়ার মতো একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজমুলকে নির্মমভাবে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং একপর্যায়ে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা কারণ রয়েছে কি না, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করার জোর দাবি জানান।

আন্দোলনে অংশ নিয়ে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবু জায়েদ বলেন, আমাদের জুনিয়র আজমুলকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, অনুমতি না নিয়ে খাবার খাওয়ার অপরাধে তাকে মারা হয়েছে। আমাদের কি ভাতের এতই অভাব যে সামান্য খাবার খাওয়ার জন্য কাউকে প্রাণ দিতে হবে? এরপর আবার তার বাবা-মায়ের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। একটি খাবারের দাম কখনো এক লাখ টাকা হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, যদি কথার খাতিরে ধরেও নিই সে চুরি করেছে, তাহলেও চুরির শাস্তি কখনো মৃত্যুদণ্ড হতে পারে না। প্রশাসন মাত্র চারজনের নাম প্রকাশ করেছে, কিন্তু আমরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। সঠিক বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন আরও কঠোর হবে।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিন্ধ বলেন, শুধু খাবার চুরির জন্য কাউকে মারধর করে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে, এটি মূল কারণ হতে পারে না। এর পেছনে নিশ্চিতভাবেই অন্য কোনো রহস্য রয়েছে। বাবা-মায়ের টাকায় পড়াশোনা করা একজন শিক্ষার্থীর ভাত খাওয়ার টাকা থাকবে না, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। অপর শিক্ষার্থী হানজালা বলেন, এক বেলার খাবার চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তার মাথার চুল কেটে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে পেটানো হয়েছে। আমরা এই নির্মম নির্যাতনের সামগ্রিক বিচার চাই।

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী সাফুরা রহমান লিলি প্রশ্ন তোলেন, আজমুল আদৌ ছাদ থেকে লাফ দিয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। তার চুল কেটে নেওয়া স্পষ্টতই নির্যাতনের অংশ। এক প্লেট ভাতের জন্য কারও চুল, সম্মান এবং জীবন চলে যেতে পারে না। আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিত হাসান সৈকত বলেন, ঘটনার তিন দিন পার হয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী মারা গেছে, সে আমাদেরই ভাই। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চাই।

নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কানাই লাল বলেন, ঘটনার বাস্তবতা এখন অনেকটাই পরিষ্কার। ভাত চুরির একটি মিথ্যা ও তুচ্ছ অভিযোগে আজমুলকে বেধড়ক পেটানো হয় এবং পরে ছাদে নিয়ে গিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। এটি কোনো একজনের কাজ নয়, বরং বহু শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে দলগতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে কিছু চুল পড়ে থাকতে দেখেছি এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। খালি চোখেই বোঝা যায় তাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। এই অমানবিক ছাত্র হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনার ৬০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। উপাচার্য আরও জানান, মেস ব্যবস্থাপকের বক্তব্য থেকেও ঘটনার সঙ্গে একাধিক শিক্ষার্থীর জড়িত থাকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

বিক্ষোভ চলাকালে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু শিক্ষার্থীদের সমাবেশে এসে সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি আধা ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করব, যাতে তিনি এ বিষয়ে বিশেষ নজর রাখেন। অপ্রতিমের ঘটনার মতো এই বিষয়টিও যেন গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়।

এদিকে, আজমুল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তারা বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী জড়িত থাকলে তার পরিচয়, পদমর্যাদা বা ব্যাচ বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীতে মসজিদ গলির একটি ভবনে আজমুল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, রাতে মেসে মিল না দিয়ে ভাত খাওয়ার অপরাধে আজমুলকে মারধর ও চুল কেটে দেওয়া হয়। ওই সময় তার বাবার কাছে ফোনে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরবর্তীতে মারধরের পর তাকে ভবনের চতুর্থ তলা থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত চার শিক্ষার্থী হলেন— খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের ১৭ ও ১৯ ব্যাচের রবিন ও মবিন, গণিত ডিসিপ্লিনের ১৯ ব্যাচের সাগর এবং এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের ওবায়দুল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh