দৌলতদিয়া টার্মিনালে বাসে অগ্নিসংযোগ, নাশকতার মামলা
- আপডেট সময় : ০৫:২৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা ‘নিউ ক্লাসিক্যাল’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে গভীর রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে সংঘটিত এই অগ্নিকাণ্ডে বাসটির অধিকাংশ অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে ঘটনার সময় গাড়িতে কেউ না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৯১২৪। রাজবাড়ী বাস মালিক সমিতির আওতাধীন এই বাসটি সাধারণত দৌলতদিয়া-কুষ্টিয়া রুটে চলাচল করে। এ ঘটনায় বাসের মালিক এসএম সুলতান আহমদ বাদী হয়ে রোববার বিকেলে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই অগ্নিসংযোগ করা হয়ে থাকতে পারে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, রাত সোয়া ১টার দিকে টার্মিনালে পার্কিংয়ে থাকা বাসটিতে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি আরও জানান, টার্মিনালের ঠিক পাশেই পুলিশ সদস্যরা দায়িত্বরত ছিলেন। আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং জ্বলন্ত বাসটির পাশে থাকা অন্যান্য বাসগুলোকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিতে সহায়তা করেন, যার ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
মামলার বাদী ও বাসের মালিক এসএম সুলতান আহমদ বলেন, কারও সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নেই। ঘটনার সময় বাসের চালক উজ্জল, সুপারভাইজার সিরাজ ও হেলপার সোবহান কেউই গাড়িতে ছিলেন না। তারা সন্ধ্যার পর বাসটি টার্মিনালে রেখে যার যার বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। এটি একটি পরিকল্পিত নাশকতা বলে তিনি মনে করছেন।
এদিকে, বাসে আগুনের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা দাবি করেছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতাকর্মীরা দেশে লকডাউনের নামে অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই অগ্নিসংযোগ করেছে। এ ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে তারা মাঠে সক্রিয় থাকবেন বলেও জানান তিনি। তবে বাসে আগুন দেওয়ার পেছনে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওসি মো. সফিকুল ইসলাম।




























