লালমোহনে মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় ইলিশের আকাল, আকাশচুম্বী দামে সাধারণ ক্রেতারা হতাশ
- আপডেট সময় : ০৫:২১:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ভোলার লালমোহন উপজেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় স্থানীয় জেলেপাড়ায় চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। নদীতে মাছের এই সংকটের কারণে মৎস্য আড়ত ও সাধারণ বাজারগুলোতে ইলিশের দাম এখন আকাশচুম্বী। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ইলিশ কেনা এখন এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। অথচ মাত্র ৫ থেকে ৭ বছর আগেও স্থানীয় হাটগুলোতে সাধ্যের মধ্যে প্রচুর ইলিশ মিলত এবং সব শ্রেণির মানুষ তা কিনতে পারতেন। বর্তমানে নদীতে ইলিশের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় এই মাছ এখন সাধারণ মানুষের কাছে বিলাসিতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বাজারে ইলিশের দাম শুনে অনেকেই খালি হাতে ফিরছেন অথবা অন্য মাছ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। পৌর শহরের ফুটপাতের ব্যাগ বিক্রেতা মো. হারুন জানান, সপ্তাহখানেক আগে তিনি ৮০০ টাকায় দুই হালি ছোট জাটকা কিনেছেন, যার ওজন ছিল মাত্র এক কেজির মতো। তিনি জানান, বাজারে এক কেজি ওজনের একটি ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে ২,৮০০ টাকা। হারুনের মতে, 'আমাদের স্বাদ থাকলেও বড় মাছ কেনার সাধ্য নাই। বড় ইলিশ এখন বড়লোকের মাছ।' একই অভিজ্ঞতার কথা জানান অটোরিকশা চালক মো. জাহাঙ্গীর। সন্তানদের জন্য ইলিশ কিনতে দুইবার বাজারে গিয়েও দাম শুনে খালি হাতে ফিরেছেন তিনি। জাহাঙ্গীর বলেন, এক বছর আগে তিনি জাটকা কিনেছিলেন। এখন সেই জাটকার হালিই ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা হয়ে গেছে।
তেঁতুলিয়া নদী সংলগ্ন নাজিরপুর মৎস্যঘাটের আড়তদার মো. জোবায়ের জানান, ঘাটে চারটিতে এক কেজি হয় এমন জাটকার দামই এখন প্রায় ১,০০০ টাকা। এছাড়া এক কেজি ওজনের ইলিশ ২,৫০০ টাকা এবং দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৩,০০০ টাকায়। নদীতে পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় বাতিরখাল মৎস্যঘাটের জেলে মো. মোসলেহ উদ্দিন জানান, কয়েক বছর আগেও প্রচুর ইলিশ পেতেন তারা। কিন্তু এবার নদীতে ইলিশ না থাকায় অনেকেই দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। অনেকে জীবিকার খোঁজে চট্টগ্রামে চলে গেছেন।
লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আখন্দ জানান, উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২৪ হাজার ৮০৬ জন হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। তারা ছোট-বড় ২৭টি মৎস্যঘাট দিয়ে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরেন। ভরা মৌসুমেও জেলেরা কেন মাছ পাচ্ছেন না, তা জানতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক জানান, গত ৫ বছরের বেশি সময় ধরে মেঘনা ও তেঁতুলিয়ায় অসংখ্য ডুবোচর ও ভাসমান চর জেগে ওঠায় ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত নদী খনন করা হলে জেলেরা আবার আগের মতো মাছ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।



























