ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র বিতর্ক মানচিত্রে ‘লিটল ইতালি’ বাদ, নিউইয়র্কের তহবিল বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে রাশিয়ার জ্বালানি: পুতিন নারায়ণগঞ্জে সরকারি প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ওয়ালটনের সাথে চুক্তি পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার খবর অস্বীকার চীনের পুতিনের সঙ্গে সফল আলোচনা, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল পাঠাবে রাশিয়া: ট্রাম্প ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে লংমার্চ কেন খাইবার পাখতুনখাওয়ায় থমকে? দর্শনা চেকপোস্টে ভারতে পালানোর সময় হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার মঞ্চে এল হান্ট থিয়েটারের নতুন নাটক ‘তবুও প্রেম আসে’ সীতাকুণ্ডে কলাবাগানে তরুণীর হাত-পা বাঁধা লাশ, স্বামীসহ গ্রেপ্তার ৪

চরফ্যাশন শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত চেয়ে এমপিকে চিঠি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দ যথাযথভাবে ব্যয় না করে আত্মসাৎ, ভুয়া ভাউচার তৈরি ও শিক্ষকদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে টাকা কেটে রাখাসহ বিভিন্ন অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। খেলাধুলার আয়োজন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সরঞ্জাম কেনা, নির্বাচনী ভোটকেন্দ্র সংস্কার কিংবা দুর্যোগকালীন জরুরি খাতের অনুদান—সবখানেই অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন একদল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট ও প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার জন্য বরাদ্দকৃত যথাক্রমে ১ লাখ ৫৫ হাজার ও ৮৪ হাজার টাকা ইউনিয়ন পর্যায়ে না পাঠিয়ে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের বিশেষ ডিভাইস ক্রয়ের ৯০ হাজার টাকা কোনো সরঞ্জাম না কিনেই ভুয়া ভাউচারে আত্মসাৎ করা হয়েছে। নির্বাচনী কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ৪২টি বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ আসা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছাড় করার সময় শিক্ষকদের হয়রানি করা হয় এবং নির্বাচন শেষ হওয়ার প্রায় চার মাস পর অর্থ ছাড় করার সময় বিদ্যালয়প্রতি প্রায় ৯ হাজার টাকা করে কেটে রাখা হয়।

সবচেয়ে বড় অঙ্কের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ‘এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি’ খাতে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২টি বিদ্যালয়ে ৩ লাখ টাকা করে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯টি বিদ্যালয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্দিষ্ট ব্যক্তিসংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে বারবার একই বরাদ্দ দিয়ে বাস্তবে কাজ না করে অর্থ ভাগ-বাঁটোয়ারা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, উপজেলার বহু বিদ্যালয়ে ওয়াইফাই সংযোগ ও ইন্টারনেট চালু না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের প্রত্যয়ন ছাড়া একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশ করে ১৮ লাখ ১৫ হাজার ২০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রাক-প্রাথমিকের বরাদ্দ থেকে স্কুলপ্রতি ৫০০ টাকা কেটে রাখা হয়েছে এবং ৯৬ জন শিক্ষকের চিত্তবিনোদনের টাকা আটকে রেখে ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ভ্রমণ ও কনটিনজেন্সি ভাতার বকেয়া সরাসরি অ্যাকাউন্টে না দিয়ে চেকের মাধ্যমে দিয়ে অতিরিক্ত অংশ তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মুজিবনগর ইউনিয়নের তিনটি বিদ্যালয় পরিদর্শনের পর প্রশাসনিক ভয় দেখিয়ে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রায় দুই মাস বন্ধ রাখা হয় এবং পরে শিক্ষকপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে উৎকোচ নিয়ে বিল ছাড় করা হয়। ৭-৮ জন অনুগত শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা বণ্টন করার অভিযোগও রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা সংসদ সদস্যের পাশাপাশি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগের অনুলিপি পাঠিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান দাবি করেছেন, নিয়ম মেনেই সব টাকা খরচ করা হয়েছে এবং তার কাছে সব অফিশিয়াল কাগজপত্র রয়েছে। অন্যদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

চরফ্যাশন শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত চেয়ে এমপিকে চিঠি

আপডেট সময় : ১২:১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দ যথাযথভাবে ব্যয় না করে আত্মসাৎ, ভুয়া ভাউচার তৈরি ও শিক্ষকদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে টাকা কেটে রাখাসহ বিভিন্ন অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। খেলাধুলার আয়োজন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সরঞ্জাম কেনা, নির্বাচনী ভোটকেন্দ্র সংস্কার কিংবা দুর্যোগকালীন জরুরি খাতের অনুদান—সবখানেই অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন একদল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট ও প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার জন্য বরাদ্দকৃত যথাক্রমে ১ লাখ ৫৫ হাজার ও ৮৪ হাজার টাকা ইউনিয়ন পর্যায়ে না পাঠিয়ে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের বিশেষ ডিভাইস ক্রয়ের ৯০ হাজার টাকা কোনো সরঞ্জাম না কিনেই ভুয়া ভাউচারে আত্মসাৎ করা হয়েছে। নির্বাচনী কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ৪২টি বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ আসা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছাড় করার সময় শিক্ষকদের হয়রানি করা হয় এবং নির্বাচন শেষ হওয়ার প্রায় চার মাস পর অর্থ ছাড় করার সময় বিদ্যালয়প্রতি প্রায় ৯ হাজার টাকা করে কেটে রাখা হয়।

সবচেয়ে বড় অঙ্কের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ‘এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি’ খাতে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২টি বিদ্যালয়ে ৩ লাখ টাকা করে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯টি বিদ্যালয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্দিষ্ট ব্যক্তিসংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে বারবার একই বরাদ্দ দিয়ে বাস্তবে কাজ না করে অর্থ ভাগ-বাঁটোয়ারা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, উপজেলার বহু বিদ্যালয়ে ওয়াইফাই সংযোগ ও ইন্টারনেট চালু না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের প্রত্যয়ন ছাড়া একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশ করে ১৮ লাখ ১৫ হাজার ২০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রাক-প্রাথমিকের বরাদ্দ থেকে স্কুলপ্রতি ৫০০ টাকা কেটে রাখা হয়েছে এবং ৯৬ জন শিক্ষকের চিত্তবিনোদনের টাকা আটকে রেখে ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ভ্রমণ ও কনটিনজেন্সি ভাতার বকেয়া সরাসরি অ্যাকাউন্টে না দিয়ে চেকের মাধ্যমে দিয়ে অতিরিক্ত অংশ তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মুজিবনগর ইউনিয়নের তিনটি বিদ্যালয় পরিদর্শনের পর প্রশাসনিক ভয় দেখিয়ে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রায় দুই মাস বন্ধ রাখা হয় এবং পরে শিক্ষকপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে উৎকোচ নিয়ে বিল ছাড় করা হয়। ৭-৮ জন অনুগত শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা বণ্টন করার অভিযোগও রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা সংসদ সদস্যের পাশাপাশি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগের অনুলিপি পাঠিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান দাবি করেছেন, নিয়ম মেনেই সব টাকা খরচ করা হয়েছে এবং তার কাছে সব অফিশিয়াল কাগজপত্র রয়েছে। অন্যদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh