গাজী টায়ারসে অগ্নিকাণ্ডের দুই বছর: ১৮৬ নিখোঁজের ভাগ্যে কী ঘটেছে?
- আপডেট সময় : ১০:০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

দুই বছর আগে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত গাজী টায়ারস কারখানায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মাত্র ২০ দিন পর দেশজুড়ে অস্থিরতার মধ্যে এই কারখানাটি বিক্ষুব্ধ জনতার হামলার শিকার হয়। মিক্সিং ভবনের মূল ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেওয়ায় ভেতরে থাকা বহু মানুষ আটকা পড়েন। পরবর্তীতে প্রশাসনের তৈরি তালিকা অনুযায়ী, এই ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা ১৮৬ জন।
কারখানাটি সাবেক বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর মালিকানাধীন ছিল। ২৫ আগস্ট রাতে তাকে গ্রেপ্তারের পরপরই রূপগঞ্জে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষুব্ধ জনতা কারখানাটিতে পুনরায় হামলা ও লুটপাট চালায়। এক পর্যায়ে ছয়তলা মিক্সিং ভবনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট টানা ৩২ ঘণ্টা কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে ভবনটি পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ঘটনার পর থেকে স্বজনরা নিখোঁজদের ছবি হাতে কারখানার সামনে জড়ো হতে থাকেন। তদন্ত কমিটি ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিতে উদ্ধার অভিযানের সুপারিশ করলেও দুই বছরেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। নিখোঁজ ১৮৬ জনের বিষয়ে স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা করা হয়নি, যা স্থানীয়দের কাছে আজও এক রহস্য। স্বজনদের একাংশ মনে করেন, নিখোঁজদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানার অধিকার তাদের আছে। ফয়সালের স্ত্রী নাছিমা, রোকেয়া বেগম কিংবা তানিয়ার মতো পরিবারগুলো প্রিয়জন হারানোর বেদনার পাশাপাশি আইনি ও আর্থিক জটিলতায় ভুগছে। মৃত্যুসনদ না পাওয়ায় উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কাজ ও সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা।
কারখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে বেআইনি জনতা গঠন, অনধিকার প্রবেশ ও লুটপাটের মামলা হলেও নিখোঁজদের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত। নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম জানিয়েছেন, সিআইডির মাধ্যমে ডিএনএ সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শীঘ্রই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তবে দুই বছর ধরে চলা এই প্রতীক্ষা আর অনিশ্চয়তা ১৮৬টি পরিবারের জন্য নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।




























