ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সোনারগাঁয়ে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১২ ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে ট্যাব ও প্রশিক্ষণ শুরু সমাজসেবা অধিদপ্তরের জাতিসংঘে আজ প্রথম ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান না ফেরার দেশে প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রেসিডেন্ট বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, কারণ জানাল রয়টার্স টেকসই উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান ববি হাজ্জাজের স্কুলে ঢুকে ছাত্রকে মারধর, ছাত্রদল সভাপতি আজীবন বহিষ্কার আফগানিস্তানের ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলা দাউদকান্দি থানায় ১৭ কিশোরের পালানোর অভিযোগ, অস্বীকার পুলিশের

প্লাস্টিক যুগেও বাঁশ-বেত শিল্প বাঁচিয়ে রেখেছেন ৭০ বছরের তাজুল হক

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৪৯:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আধুনিকতার ছোঁয়া ও প্লাস্টিক পণ্যের ব্যাপক জনপ্রিয়তায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্প যখন বিলুপ্তির পথে, ঠিক তখনই এই হারানো ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার এক বৃদ্ধ। ৭০ বছর বয়সেও ক্লান্তিহীনভাবে তিনি বাঁশ ও বেতের শৈল্পিক কারুকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই কাজের মাধ্যমে তিনি কেবল গ্রামীণ সংস্কৃতিকেই বাঁচিয়ে রাখছেন না, বরং নিজের ৯ সদস্যের বিশাল পরিবারের ভরণপোষণও নিশ্চিত করছেন।

এই নিবেদিতপ্রাণ কারিগরের নাম মোহাম্মদ তাজুল হক। তিনি গোয়াইনঘাটের পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের পূর্ব পান্তুমাই গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় মাতুরতল বাজারের একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী। মাত্র ৫০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি তার এই ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তাঁর হাতে তৈরি খারা, কুলা, টুকরি, পাখা, বেলন, পাটি ও ডামসহ নিত্যব্যবহার্য বিভিন্ন জিনিসের চাহিদা স্থানীয় সীমানা ছাড়িয়ে উপজেলার বাইরের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। সুলভ মূল্যে এসব পণ্য সরবরাহ করে তিনি স্থানীয় কৃষিজীবী মানুষের দারুণ উপকারে আসছেন।

তাজুল হকের এই লড়াই কেবল জীবিকার জন্য নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে লোকশিল্পের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি নিরলস প্রচেষ্টা। তাঁর মতে, বাপ-দাদার আমলের এই ঐতিহ্যকে তিনি মনে-প্রাণে ভালোবাসেন। প্লাস্টিকের ভিড়ে এই শিল্প হারিয়ে যেতে দেখে তিনি কষ্ট পান বলেই শেষ বয়সে এসেও এই কাজটিকে আঁকড়ে ধরে আছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, শরীরে শক্তি থাকা পর্যন্ত তিনি এই কাজ চালিয়ে যেতে চান।

স্থানীয় বিশিষ্টজনদের মতে, ৯ সদস্যের পরিবারের দায়িত্ব পালন করে কুটির শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার এই প্রচেষ্টা আজকের যুবসমাজের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী তাজুল হকের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধরনের প্রান্তিক কারিগরদের কাজের প্রসার ঘটাতে এবং তাঁদের টেকসই উপায়ে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

প্লাস্টিক যুগেও বাঁশ-বেত শিল্প বাঁচিয়ে রেখেছেন ৭০ বছরের তাজুল হক

আপডেট সময় : ১০:৪৯:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আধুনিকতার ছোঁয়া ও প্লাস্টিক পণ্যের ব্যাপক জনপ্রিয়তায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্প যখন বিলুপ্তির পথে, ঠিক তখনই এই হারানো ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার এক বৃদ্ধ। ৭০ বছর বয়সেও ক্লান্তিহীনভাবে তিনি বাঁশ ও বেতের শৈল্পিক কারুকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই কাজের মাধ্যমে তিনি কেবল গ্রামীণ সংস্কৃতিকেই বাঁচিয়ে রাখছেন না, বরং নিজের ৯ সদস্যের বিশাল পরিবারের ভরণপোষণও নিশ্চিত করছেন।

এই নিবেদিতপ্রাণ কারিগরের নাম মোহাম্মদ তাজুল হক। তিনি গোয়াইনঘাটের পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের পূর্ব পান্তুমাই গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় মাতুরতল বাজারের একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী। মাত্র ৫০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি তার এই ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তাঁর হাতে তৈরি খারা, কুলা, টুকরি, পাখা, বেলন, পাটি ও ডামসহ নিত্যব্যবহার্য বিভিন্ন জিনিসের চাহিদা স্থানীয় সীমানা ছাড়িয়ে উপজেলার বাইরের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। সুলভ মূল্যে এসব পণ্য সরবরাহ করে তিনি স্থানীয় কৃষিজীবী মানুষের দারুণ উপকারে আসছেন।

তাজুল হকের এই লড়াই কেবল জীবিকার জন্য নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে লোকশিল্পের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি নিরলস প্রচেষ্টা। তাঁর মতে, বাপ-দাদার আমলের এই ঐতিহ্যকে তিনি মনে-প্রাণে ভালোবাসেন। প্লাস্টিকের ভিড়ে এই শিল্প হারিয়ে যেতে দেখে তিনি কষ্ট পান বলেই শেষ বয়সে এসেও এই কাজটিকে আঁকড়ে ধরে আছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, শরীরে শক্তি থাকা পর্যন্ত তিনি এই কাজ চালিয়ে যেতে চান।

স্থানীয় বিশিষ্টজনদের মতে, ৯ সদস্যের পরিবারের দায়িত্ব পালন করে কুটির শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার এই প্রচেষ্টা আজকের যুবসমাজের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী তাজুল হকের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধরনের প্রান্তিক কারিগরদের কাজের প্রসার ঘটাতে এবং তাঁদের টেকসই উপায়ে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin