বাকেরগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৯:৫৯:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনিছুর রহমান হাওলাদারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও সামনের সড়কে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বোর্ড নির্ধারিত ফি দেওয়ার পরও প্রবেশপত্র, ব্যবহারিক পরীক্ষা, নম্বরপত্র এবং মূল সনদপত্র দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং 'প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ' ফুটবল খেলার মাঠ পরিবর্তনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন শুরু করে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত ফরম পূরণের ফি পরিশোধ করা হলেও দীর্ঘ দিন ধরে অ্যাডমিট কার্ড, প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা, মার্কশিট ও মূল সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় বেআইনিভাবে বাড়তি টাকা দাবি ও আদায় করা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে এই অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক মো. আনিচুর রহমান হাওলাদার এবং সহকারী শিক্ষক মো. নসরুল আমীন গাজীর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের মার্কেট বরাদ্দ, ভর্তি, ফরম পূরণ ফি, জমি ও পুকুর ইজারা এবং সরকারি উন্নয়ন তহবিলের কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এই দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৫ সালে বরিশালের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. মনিরুজ্জামান।
আদালত মামলাটি আমলে নেওয়ার পর, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ এর ১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ওই দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেন। তবে এই বরখাস্তাদেশের বিরুদ্ধে শিক্ষকরা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করলে, গত ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বরখাস্তের নোটিশের ওপর ৩ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেন। এই স্থগিতাদেশ নিয়ে প্রধান শিক্ষক পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই আবারও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি শুরু করেন বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান হাওলাদার। তার দাবি, তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই এসব মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তোলা হচ্ছে।


























