ঢাকা ০২:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাশিয়ার গ্যাস কমপ্লেক্সে বিস্ফোরণ: নিহত ১ বাংলাদেশি কানাডায় বাংলাদেশি সিনেমায় জুটি বাঁধছেন জায়েদ খান ও অধরা ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিককে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া ঢাকার মঞ্চ মাতাতে আসছেন সেই ভাইরাল গানের ওটিলিয়া কলকাতা বইমেলার সুবর্ণজয়ন্তী: যুক্ত হচ্ছে ইজেডসিসি ও বুক ট্রাস্ট প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও সাবেক সচিব ড. হারুনুর রশিদ আর নেই পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে পিডি নিয়োগ দিল পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রাচীন চীনের হুয়াই গাছের নিচে বইয়ের বাজারের ইতিহাস চেলসিতে যেতে পারেন মার্টিনেজ, আলোচনা চালাচ্ছে দুই ক্লাব অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের মন্ত্রিসভার অভিনন্দন

কিছু মানুষের ভাগ্য বদলের কারণ হতে চাই

মোঃ শাহারুল ইসলাম, কালাই (জয়পুরহাট) উপজেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৭:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ মার্চ ২০২৩ ৪০৮ বার পড়া হয়েছে

কিছু মানুষের ভাগ্য বদলের কারণ হতে চাই

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সেদিন ছিলো কারোনাকালীন নির্ঘুম একটি রাত। হতাশাগ্রস্থ ছিলাম আমি বেসরকারি কোচিং এ চাকরি এবং টিউশনি ছিলো উপার্জনের একটি পথ। সব বন্ধ ছিলো৷ তখন আমার প্রিয় বন্ধু দীপ্ত সরকার আমাকে বলে সাথী তুই তো আর্ট করতে পারিস তাহলে অনলাইনে উদ্যোগ নিতে পারিস৷ অনেক মেয়েরা অনলাইনে ঘরে বসে অনলাইনে উপার্জন করতেছে। তুই কাপড়ে পেইন্ট করতে পারিস। আমি বলেছিলাম আমি পারবো! কিন্তু সে বলেছিলো আমি জানি তুই পারবি। তারপর আমাকে একটা উদ্যোক্তা গ্রুপে যুক্ত করলো, সেখান থেকে আমি সবার কাজ দেখতে শুরু করলাম৷ এবং প্রথম সবার পোস্ট পরে বুঝেছিলাম যে কোন কাজ করতে গেলে অনেক ভেবে করতে, তাই প্রায় তিন মাস সময় নিয়েছিলাম ভাবতে, কি নাম দিবো, কি দিয়ে শুরু করবো, কিভাবে বিনিয়োগ করবো এসব নিয়ে।

গল্প টি বলছিলেন, জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার একজন তরুণী উদ্যোক্তা। তিনি থেমে আবারও শুরু করলেন এবং জানাচ্ছিলেন তার ছোট থেকে বড় হওয়ার কথা।

তারপর নাম নিয়ে মাথায় আসলো,আমি যে নাম দিবো তা ইউনিক হবে, কারো কাছে থাকবেনা। নিজের নাম ভাবতে ভাবতে বের করলাম সাথী থেকে থী, রাণী থেকে ণী এবং কর্মকার থেকে র।
নিজের নাম থেকেই এসে গেলো নীথীর, এবং যেহেতু আমার ভবিষ্যত পরিকল্পনা চাকরি করবো না, চাকরি দিবো। অর্থাৎ সবাইকে নিয়ে কাজ করব তাই “বৃত” যোগ করা। বৃত শব্দের অর্থ বৃত্তাকার/ পরিসর। এই ছিলো আমার উদ্যোগের নাম “নীথীর বৃত-নীবৃ” এবং আমার নাম সাথী রাণী কর্মকার।

এরপর প্রথম ইউনিক পণ্য কি হবে? যেহেতু আমার বাবা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাই আমি জানতাম বাবা দৈনিক বিক্রির হিসাব রাখে। তখন আমি ভাবলাম আমার প্রথম পণ্য হবে সম্পূর্ণ হাতে তৈরী ডায়রি, যার কভার হবে পেইন্ট করা এবং প্রথম পেইন্ট কি হবে ভাবতে ভাবতে চলে আসে সনাতন ধর্মে সিদ্ধিদাতা গণেশ ঠাকুর তাই প্রথম পেইন্ট করেছিলাম গণেশ প্রতিমা। এবং সেটাই পোস্ট এবং সেটা দিয়ে প্রথম অর্ডার এসেছিলো ইসলামিক চিহ্নে একটি ডায়রির। আমার প্রথম ইনভেস্ট ছিলো ১২০ টাকা এবং গত কয়েক বছরে আমার সর্বমোট বিক্রি ৭ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত আমি দুজন মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরীতে উদ্ধুদ্ধ করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমার এই কাজ থেকে প্রতি মাসে কিছু গরীব অসহায় মানুষের সহযোগীতা করার চেষ্টা করি। আর যদি বলেন, এই উদ্যোক্তা জীবন থেকে কি পেয়েছি! তাহলে বলব যে, নিজেকে একজন স্বাবলম্বী নারী হিসেবে গড়ার সুযোগ পেয়েছি এবং নিজের পরিবার থেকে শুরু করে সকলের পাশে দাঁড়াতে পারছি।

গতবছর বিসিক থেকে উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ নিয়ে আমি একজন বিসিক নিবন্ধিত উদ্যোক্তা হতে পেরেছি। শুধু মাত্র জয়পুরহাট নয় বাংলাদেশ পেরিয়ে আমার হ্যান্ডপেইন্ট পণ্য মালেশিয়া ও আমেরিকায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি।

অবশেষে একটি কথা বলতে চাই, যদি সেদিন আমার সেই বন্ধু আমাকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সাহস না দিতো তাহলে আজ আমি এই পর্যায়ে আসতে পারতাম না৷ তার একটা কথা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে যে, চাইলে মেয়েরাও সব করতে পারে এর জন্য শুধু সাহস এবং ইচ্ছাশক্তি প্রয়োজন।

আজকের নারী দিবসে শধু এতোটুকুই সকলের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, পুরুষবাদী কখনও হয়োনা, কারণ পুরুষ নির্যাতিত হয় মনে আর নারী শরীরে। তাই একে অপরের প্রতি সহযোগিতা মনোভাব রেখে সকলে একসাথে সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

প্রতিবেদক: মোঃ শাহারুল ইসলাম
ছবি: হাবিবা জান্নাত

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

কিছু মানুষের ভাগ্য বদলের কারণ হতে চাই

আপডেট সময় : ০৪:৪৭:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ মার্চ ২০২৩

সেদিন ছিলো কারোনাকালীন নির্ঘুম একটি রাত। হতাশাগ্রস্থ ছিলাম আমি বেসরকারি কোচিং এ চাকরি এবং টিউশনি ছিলো উপার্জনের একটি পথ। সব বন্ধ ছিলো৷ তখন আমার প্রিয় বন্ধু দীপ্ত সরকার আমাকে বলে সাথী তুই তো আর্ট করতে পারিস তাহলে অনলাইনে উদ্যোগ নিতে পারিস৷ অনেক মেয়েরা অনলাইনে ঘরে বসে অনলাইনে উপার্জন করতেছে। তুই কাপড়ে পেইন্ট করতে পারিস। আমি বলেছিলাম আমি পারবো! কিন্তু সে বলেছিলো আমি জানি তুই পারবি। তারপর আমাকে একটা উদ্যোক্তা গ্রুপে যুক্ত করলো, সেখান থেকে আমি সবার কাজ দেখতে শুরু করলাম৷ এবং প্রথম সবার পোস্ট পরে বুঝেছিলাম যে কোন কাজ করতে গেলে অনেক ভেবে করতে, তাই প্রায় তিন মাস সময় নিয়েছিলাম ভাবতে, কি নাম দিবো, কি দিয়ে শুরু করবো, কিভাবে বিনিয়োগ করবো এসব নিয়ে।

গল্প টি বলছিলেন, জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার একজন তরুণী উদ্যোক্তা। তিনি থেমে আবারও শুরু করলেন এবং জানাচ্ছিলেন তার ছোট থেকে বড় হওয়ার কথা।

তারপর নাম নিয়ে মাথায় আসলো,আমি যে নাম দিবো তা ইউনিক হবে, কারো কাছে থাকবেনা। নিজের নাম ভাবতে ভাবতে বের করলাম সাথী থেকে থী, রাণী থেকে ণী এবং কর্মকার থেকে র।
নিজের নাম থেকেই এসে গেলো নীথীর, এবং যেহেতু আমার ভবিষ্যত পরিকল্পনা চাকরি করবো না, চাকরি দিবো। অর্থাৎ সবাইকে নিয়ে কাজ করব তাই “বৃত” যোগ করা। বৃত শব্দের অর্থ বৃত্তাকার/ পরিসর। এই ছিলো আমার উদ্যোগের নাম “নীথীর বৃত-নীবৃ” এবং আমার নাম সাথী রাণী কর্মকার।

এরপর প্রথম ইউনিক পণ্য কি হবে? যেহেতু আমার বাবা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাই আমি জানতাম বাবা দৈনিক বিক্রির হিসাব রাখে। তখন আমি ভাবলাম আমার প্রথম পণ্য হবে সম্পূর্ণ হাতে তৈরী ডায়রি, যার কভার হবে পেইন্ট করা এবং প্রথম পেইন্ট কি হবে ভাবতে ভাবতে চলে আসে সনাতন ধর্মে সিদ্ধিদাতা গণেশ ঠাকুর তাই প্রথম পেইন্ট করেছিলাম গণেশ প্রতিমা। এবং সেটাই পোস্ট এবং সেটা দিয়ে প্রথম অর্ডার এসেছিলো ইসলামিক চিহ্নে একটি ডায়রির। আমার প্রথম ইনভেস্ট ছিলো ১২০ টাকা এবং গত কয়েক বছরে আমার সর্বমোট বিক্রি ৭ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত আমি দুজন মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরীতে উদ্ধুদ্ধ করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমার এই কাজ থেকে প্রতি মাসে কিছু গরীব অসহায় মানুষের সহযোগীতা করার চেষ্টা করি। আর যদি বলেন, এই উদ্যোক্তা জীবন থেকে কি পেয়েছি! তাহলে বলব যে, নিজেকে একজন স্বাবলম্বী নারী হিসেবে গড়ার সুযোগ পেয়েছি এবং নিজের পরিবার থেকে শুরু করে সকলের পাশে দাঁড়াতে পারছি।

গতবছর বিসিক থেকে উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ নিয়ে আমি একজন বিসিক নিবন্ধিত উদ্যোক্তা হতে পেরেছি। শুধু মাত্র জয়পুরহাট নয় বাংলাদেশ পেরিয়ে আমার হ্যান্ডপেইন্ট পণ্য মালেশিয়া ও আমেরিকায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি।

অবশেষে একটি কথা বলতে চাই, যদি সেদিন আমার সেই বন্ধু আমাকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সাহস না দিতো তাহলে আজ আমি এই পর্যায়ে আসতে পারতাম না৷ তার একটা কথা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে যে, চাইলে মেয়েরাও সব করতে পারে এর জন্য শুধু সাহস এবং ইচ্ছাশক্তি প্রয়োজন।

আজকের নারী দিবসে শধু এতোটুকুই সকলের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, পুরুষবাদী কখনও হয়োনা, কারণ পুরুষ নির্যাতিত হয় মনে আর নারী শরীরে। তাই একে অপরের প্রতি সহযোগিতা মনোভাব রেখে সকলে একসাথে সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

প্রতিবেদক: মোঃ শাহারুল ইসলাম
ছবি: হাবিবা জান্নাত