ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকদলের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গোলাগুলি-ভাঙচুর-লুটপাটে আহত ১৫

মোঃ ইসমাইল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় : ১০:১৮:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬ ১১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মোঃ ইসমাইল হোসেন,
স্টাফ রিপোর্টার:

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয়পক্ষের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বরুনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ দিন আগে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সাইট দেওয়া নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামের ভাই আমিন হোসেনের সঙ্গে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন খার তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিল্লাল হোসেন খা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সোমবার বরুনা এলাকায় স্থানীয়ভাবে একটি বিচার সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে আমিন হোসেনের পক্ষে তার ভাই রফিকুল ইসলাম এবং অপরপক্ষে বিল্লাল হোসেন খা নিজ নিজ লোকজন নিয়ে উপস্থিত হন।
বিচার চলাকালে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পাশাপাশি গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।

অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষ একে অপরের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। গোলাগুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ ছোটাছুটি করতে থাকে। সংঘর্ষে আহত অন্তত ১৫ জনকে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বিল্লাল হোসেন খা ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা গুলিবর্ষণ, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।

অন্যদিকে পাল্টা অভিযোগ করে বিল্লাল হোসেন খা বলেন, বিচার সালিশে রফিকুল ইসলামের লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা গুলি ছুড়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকদলের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গোলাগুলি-ভাঙচুর-লুটপাটে আহত ১৫

আপডেট সময় : ১০:১৮:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
print news

মোঃ ইসমাইল হোসেন,
স্টাফ রিপোর্টার:

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয়পক্ষের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বরুনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ দিন আগে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সাইট দেওয়া নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামের ভাই আমিন হোসেনের সঙ্গে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন খার তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিল্লাল হোসেন খা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সোমবার বরুনা এলাকায় স্থানীয়ভাবে একটি বিচার সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে আমিন হোসেনের পক্ষে তার ভাই রফিকুল ইসলাম এবং অপরপক্ষে বিল্লাল হোসেন খা নিজ নিজ লোকজন নিয়ে উপস্থিত হন।
বিচার চলাকালে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পাশাপাশি গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।

অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষ একে অপরের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। গোলাগুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ ছোটাছুটি করতে থাকে। সংঘর্ষে আহত অন্তত ১৫ জনকে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বিল্লাল হোসেন খা ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা গুলিবর্ষণ, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।

অন্যদিকে পাল্টা অভিযোগ করে বিল্লাল হোসেন খা বলেন, বিচার সালিশে রফিকুল ইসলামের লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা গুলি ছুড়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।