ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কমলাপুর টিটি পাড়া আন্ডারপাসে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য চাপাতির ভয় দেখিয়ে পথচারীর কাছ থেকে লক্ষ টাকা ছিনতাই সুনামগঞ্জে বিয়ের ১১ দিনের মাথায় নববধূ নিখোঁজ চাটখিলে বাড়ির চলাচলের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে দুর্ভোগে একটি পরিবার খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধনে আগামীকাল দিনাজপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেড় বছরের সন্তানকে হত্যা করে মায়ের আত্মহত্যা রাজাপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে প্রাইভেট কার, দেড় বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু সিলেট নগরী থেকে ইয়াবা সহ আটক-১ রূপগঞ্জে নির্মাণাধীন ভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিক নিহত দগ্ধ ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক পানি নিষ্কাশনের কালভার্টের মুখ বন্ধ করে জায়গা ভরাট ভোগান্তিতে কৃষকরা ফটিকছড়িতে ভিডিও ফাঁসের হুমকি দিয়ে নারীকে ব্ল্যাকমেইলে গ্রেফতার-৬

একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট

ফখরুল আলম সাজু
  • আপডেট সময় : ০৫:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ফখরুল আলম সাজু

বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পথ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ সেতু।

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বাণিজ্যিক চট্টগ্রামকে যুক্ত করা এই ব্যস্ত মহাসড়কে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করলে ও ৪৮ বছরের পুরোনো ও সরু সেতুর কারণে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্যমতে, ব্রহ্মপুত্র নদ এর ওপর ১৯৭৮ সালে নির্মিত ২ লেনের সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, সেতুর পশ্চিম পাশের রেলিং ভেঙ্গে গিয়েছে, বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, ৬ লেন মহাসড়কে যান চলাচল বাড়লেও সরু সেতুর কারণে যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে।

মেঘনা টোল প্লাজা সূত্র জানা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি ও কুমিল্লা সহ অন্তত ৭ জেলায় যাতায়াতকারী যানবাহন এই মহাসড়ক ব্যবহার করে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ২২ হাজার যানবাহন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করে, সেই হিসেবে প্রতি মিনিটে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি যানবাহন সড়কটি অতিক্রম করে।

এদিকে মেঘনা টোল প্লাজার সামনে প্রবেশ পথের ২টি লেনে পিচ উঠে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, টোল লাইনে প্রবেশের সময় গাড়ি ধীরগতিতে চলায় প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী শ্যামলী পরিবহনের চালক আয়নাল মিয়া বলেন, সেতুটি পুরোনো হওয়ায় প্রায়ই যানজটে আটকে থাকতে হয়, বৃষ্টি হলেই পিচ উঠে যায়, গর্তের কারণে গাড়ি ধীরগতিতে চালাতে হয়।

ট্রাকচালক শাকিল বলেন, লাঙ্গলবন্দ সেতুর কারণে আমাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, দ্রুত বিকল্প ১টি নতুন সেতু নির্মাণ করা দরকার।

নিয়মিত যাত্রী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, লাঙ্গলবন্দ সেতু পার হতে এখন আতঙ্ক লাগে, বিশেষ করে অফিস টাইমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়, সেতুর ওপর গর্ত আর ভাঙ্গা রেলিং দেখে মনে হয় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাবুর রহমান জানান, মহাসড়কের খানাখন্দ ও জরাজীর্ণ সেতুর কারণে প্রায়ই যানজট তৈরি হচ্ছে।

এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নিত করণের কাজ চলমান থাকায় যানবাহনের চাপ বেড়েছে, মদনপুর-গাজীপুর বাইপাস সড়ক ভাঙ্গাচোরা থাকায় অনেক গাড়ি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলে আসছে, ফলে চাপ আরও বাড়ছে।

পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. হোসাইন বলেন, লাঙ্গলবন্দ সেতু শুধু ১টি অবকাঠামো নয়, এটি দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন, দীর্ঘদিন ধরে জোড়া তালি দিয়ে চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে সরকারকে দ্রুত স্থায়ী সমাধানে যেতে হবে, তিনি নতুন সেতু নির্মাণে পরিবেশ গত প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও আশপাশের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

নারায়ণগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে সেতুর সংস্কারকাজ শুরু করা হবে, পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সেতুর পাশে নতুন আরেকটি সেতু নির্মাণের নকশা চূড়ান্ত হয়েছে, মহাসড়ক সচল রাখতে আপাতত সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের লাইফ লাইন খ্যাত এই মহাসড়ক যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার সাক্ষী হতে পারে, এখন দেখার বিষয় সংস্কার আর প্রতিশ্রুতির বাইরে কবে মিলবে স্থায়ী সমাধান।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট

আপডেট সময় : ০৫:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
print news

ফখরুল আলম সাজু

বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পথ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ সেতু।

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বাণিজ্যিক চট্টগ্রামকে যুক্ত করা এই ব্যস্ত মহাসড়কে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করলে ও ৪৮ বছরের পুরোনো ও সরু সেতুর কারণে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্যমতে, ব্রহ্মপুত্র নদ এর ওপর ১৯৭৮ সালে নির্মিত ২ লেনের সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, সেতুর পশ্চিম পাশের রেলিং ভেঙ্গে গিয়েছে, বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, ৬ লেন মহাসড়কে যান চলাচল বাড়লেও সরু সেতুর কারণে যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে।

মেঘনা টোল প্লাজা সূত্র জানা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি ও কুমিল্লা সহ অন্তত ৭ জেলায় যাতায়াতকারী যানবাহন এই মহাসড়ক ব্যবহার করে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ২২ হাজার যানবাহন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করে, সেই হিসেবে প্রতি মিনিটে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি যানবাহন সড়কটি অতিক্রম করে।

এদিকে মেঘনা টোল প্লাজার সামনে প্রবেশ পথের ২টি লেনে পিচ উঠে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, টোল লাইনে প্রবেশের সময় গাড়ি ধীরগতিতে চলায় প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী শ্যামলী পরিবহনের চালক আয়নাল মিয়া বলেন, সেতুটি পুরোনো হওয়ায় প্রায়ই যানজটে আটকে থাকতে হয়, বৃষ্টি হলেই পিচ উঠে যায়, গর্তের কারণে গাড়ি ধীরগতিতে চালাতে হয়।

ট্রাকচালক শাকিল বলেন, লাঙ্গলবন্দ সেতুর কারণে আমাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, দ্রুত বিকল্প ১টি নতুন সেতু নির্মাণ করা দরকার।

নিয়মিত যাত্রী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, লাঙ্গলবন্দ সেতু পার হতে এখন আতঙ্ক লাগে, বিশেষ করে অফিস টাইমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়, সেতুর ওপর গর্ত আর ভাঙ্গা রেলিং দেখে মনে হয় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাবুর রহমান জানান, মহাসড়কের খানাখন্দ ও জরাজীর্ণ সেতুর কারণে প্রায়ই যানজট তৈরি হচ্ছে।

এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নিত করণের কাজ চলমান থাকায় যানবাহনের চাপ বেড়েছে, মদনপুর-গাজীপুর বাইপাস সড়ক ভাঙ্গাচোরা থাকায় অনেক গাড়ি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলে আসছে, ফলে চাপ আরও বাড়ছে।

পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. হোসাইন বলেন, লাঙ্গলবন্দ সেতু শুধু ১টি অবকাঠামো নয়, এটি দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন, দীর্ঘদিন ধরে জোড়া তালি দিয়ে চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে সরকারকে দ্রুত স্থায়ী সমাধানে যেতে হবে, তিনি নতুন সেতু নির্মাণে পরিবেশ গত প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও আশপাশের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

নারায়ণগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে সেতুর সংস্কারকাজ শুরু করা হবে, পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সেতুর পাশে নতুন আরেকটি সেতু নির্মাণের নকশা চূড়ান্ত হয়েছে, মহাসড়ক সচল রাখতে আপাতত সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের লাইফ লাইন খ্যাত এই মহাসড়ক যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার সাক্ষী হতে পারে, এখন দেখার বিষয় সংস্কার আর প্রতিশ্রুতির বাইরে কবে মিলবে স্থায়ী সমাধান।