ঢাকা ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাইবার ঝুঁকির আশঙ্কায় বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ নিয়ে গুজব, সতর্ক করল শিক্ষা বোর্ড নতুন শিক্ষাবর্ষের বই ছাপায় প্রাথমিক এগিয়ে, মাধ্যমিক স্তরে কিছুটা শঙ্কা সৌদি আরবে ভ্রমণ না করতে নাগরিকদের কড়া সতর্কতা ইতালির ইরানের নতুন যুদ্ধকৌশল: পাল্টা হামলার বদলে আক্রমণাত্মক অবস্থানের হুঁশিয়ারি আংটি পছন্দ না হওয়ায় ইতালিতে রাশমিকাকে প্রস্তাব দেননি বিজয় সৌদি আরবে মার্কিন কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ছাড়ার নির্দেশ সম্প্রীতির বাংলাদেশ: অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত অন্ধকার থেকে ফেরাতে শিশু-কিশোরদের পাশে চাই সচেতন অভিভাবক ও সমাজ মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সম্প্রীতির বাংলাদেশ: অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৯:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছোটবেলা থেকেই আমরা দলবেঁধে পূজামণ্ডপে যাওয়ার স্মৃতি বহন করি। আজও বাংলাদেশের শহর, গ্রাম কিংবা পাড়া-মহল্লায় যেখানেই পূজামণ্ডপ রয়েছে, সেখানেই মানুষ দলমতনির্বিশেষে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই শারদীয় উৎসব যেমন আমাদের আনন্দের উপলক্ষ, তেমনি ঈদ-পার্বণেও ভিন্নধর্মাবলম্বী বন্ধুরা আমাদের শুভেচ্ছা জানান। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বড়দিন উদ্যাপন কিংবা পূজার নাড়ুর স্বাদ—এসবই বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক সৌন্দর্য ও সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ।

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যুগ যুগ ধরে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ এখানে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। ধর্মীয় উপাসনা পদ্ধতিতে ভিন্নতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার বন্ধন এদেশের জাতীয় ঐতিহ্য ও সামাজিক শক্তির মূল ভিত্তি। প্রাচীনকাল থেকেই এ অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মের বিস্তার, হিন্দুধর্মের ঐতিহ্য এবং পরবর্তীতে ইসলামের আগমন সমাজ ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান উৎসবের মতো রাষ্ট্রীয় আয়োজনে দেশ-বিদেশ থেকে নানা ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে, বাংলার মাটিতে ধর্মের কোনো বিভেদ নেই।

কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়, 'মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান'। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। ১৯৭১ সালের সেই ত্যাগের ইতিহাস প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষের প্রকৃত পরিচয় কেবল ধর্মীয় পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের সম্মিলিত পরিচয় বাংলাদেশি। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, দুর্গাপূজা, সরস্বতী পূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা কিংবা বড়দিনের মতো উৎসবগুলো এ দেশের সামাজিক জীবনে সৌহার্দ্যের আবহ তৈরি করে। এছাড়া বাংলা নববর্ষ, নবান্ন উৎসব ও লোকজ মেলাগুলো সব ধর্মের মানুষকে একই বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখে।

সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমান অধিকার স্বীকৃত। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নির্যাতনের শিকার হতে পারেন না। এই সাংবিধানিক আদর্শ বাস্তবায়নে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, অপরাধীদের নিরপেক্ষ বিচার ও গুজব প্রতিরোধ অপরিহার্য। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তুলতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ধর্মের মূল শিক্ষা সত্য, ন্যায় ও মানবকল্যাণকে ধারণ করে ভিন্নমত ও বিশ্বাসকে সম্মান জানানোই উন্নত সমাজের পরিচয়। ‘ধর্ম যার যার, দেশ সবার’—এই চেতনা নিয়ে প্রতিটি নাগরিকের মানবিক গুণাবলি ও কর্মের মাধ্যমে সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের প্রত্যাশা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

সম্প্রীতির বাংলাদেশ: অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ছোটবেলা থেকেই আমরা দলবেঁধে পূজামণ্ডপে যাওয়ার স্মৃতি বহন করি। আজও বাংলাদেশের শহর, গ্রাম কিংবা পাড়া-মহল্লায় যেখানেই পূজামণ্ডপ রয়েছে, সেখানেই মানুষ দলমতনির্বিশেষে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই শারদীয় উৎসব যেমন আমাদের আনন্দের উপলক্ষ, তেমনি ঈদ-পার্বণেও ভিন্নধর্মাবলম্বী বন্ধুরা আমাদের শুভেচ্ছা জানান। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বড়দিন উদ্যাপন কিংবা পূজার নাড়ুর স্বাদ—এসবই বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক সৌন্দর্য ও সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ।

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যুগ যুগ ধরে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ এখানে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। ধর্মীয় উপাসনা পদ্ধতিতে ভিন্নতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার বন্ধন এদেশের জাতীয় ঐতিহ্য ও সামাজিক শক্তির মূল ভিত্তি। প্রাচীনকাল থেকেই এ অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মের বিস্তার, হিন্দুধর্মের ঐতিহ্য এবং পরবর্তীতে ইসলামের আগমন সমাজ ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান উৎসবের মতো রাষ্ট্রীয় আয়োজনে দেশ-বিদেশ থেকে নানা ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে, বাংলার মাটিতে ধর্মের কোনো বিভেদ নেই।

কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়, 'মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান'। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। ১৯৭১ সালের সেই ত্যাগের ইতিহাস প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষের প্রকৃত পরিচয় কেবল ধর্মীয় পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের সম্মিলিত পরিচয় বাংলাদেশি। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, দুর্গাপূজা, সরস্বতী পূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা কিংবা বড়দিনের মতো উৎসবগুলো এ দেশের সামাজিক জীবনে সৌহার্দ্যের আবহ তৈরি করে। এছাড়া বাংলা নববর্ষ, নবান্ন উৎসব ও লোকজ মেলাগুলো সব ধর্মের মানুষকে একই বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখে।

সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমান অধিকার স্বীকৃত। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নির্যাতনের শিকার হতে পারেন না। এই সাংবিধানিক আদর্শ বাস্তবায়নে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, অপরাধীদের নিরপেক্ষ বিচার ও গুজব প্রতিরোধ অপরিহার্য। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তুলতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ধর্মের মূল শিক্ষা সত্য, ন্যায় ও মানবকল্যাণকে ধারণ করে ভিন্নমত ও বিশ্বাসকে সম্মান জানানোই উন্নত সমাজের পরিচয়। ‘ধর্ম যার যার, দেশ সবার’—এই চেতনা নিয়ে প্রতিটি নাগরিকের মানবিক গুণাবলি ও কর্মের মাধ্যমে সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের প্রত্যাশা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin