নতুন শিক্ষাবর্ষের বই ছাপায় প্রাথমিক এগিয়ে, মাধ্যমিক স্তরে কিছুটা শঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৯:৪৬:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক স্তরের বই ছাপানো ও সরবরাহের অগ্রগতি বেশ সন্তোষজনক হলেও মাধ্যমিক স্তরের কাজ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে দুই মাস বাকি থাকায়, নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরের ৮৬ শতাংশের বেশি বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে এবং ৭৪ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মাধ্যমিক স্তরে প্রথম দফার দরপত্র হওয়া ২০ কোটি ৮৪ লাখের বেশি বইয়ের মধ্যে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ ছাপার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৪০ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নবম-দশম শ্রেণির মাত্র ৩ শতাংশের মতো বই সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।
বই ছাপার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের জানিয়েছেন, তাঁদের লক্ষ্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব বই ছাপার কাজ শেষ করে মাঠপর্যায়ে পাঠানো। তিনি বর্তমান অগ্রগতির বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে, চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চারটি নতুন বই যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির বই দুটি হলো ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’, আর ষষ্ঠ শ্রেণির দুটি বই হলো ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’। এনসিটিবির এক কর্মকর্তা জানান, ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় অনুমোদন পাওয়ার পর এই চারটি বই ছাপার কার্যাদেশ দেওয়া হবে।
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা যুক্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটি যুক্ত করা হচ্ছে এবং স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, ২০১০ সাল থেকে সরকার শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পাঠ্যবই দেওয়া শুরু করলেও অতীতে বিভিন্ন সময় শিক্ষাবর্ষের শুরুতে বই পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গত শিক্ষাবর্ষে শতভাগ বই সরবরাহ করতে এনসিটিবির ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় লেগেছিল।
ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের পাঠ্যবই, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংশোধিত বই এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে প্রস্তুত করা বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনা তিন ধরনের রূপ পাচ্ছে।.২০২৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাক্রমে ব্যাপক সংস্কার, প্রাথমিক–মাধ্যমিকে ৪ নতুন বই ও বিষয় : মাহদী আমিন.এ ছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে মোট চারটি নতুন বই যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।



























