এবার শীতের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব কম হতে পারে: অধিদপ্তর
- আপডেট সময় : ১০:২৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের আভাস মিলছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে আসন্ন শীতকাল তুলনামূলক কম তীব্র এবং স্বল্পস্থায়ী হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবার শীতের স্থায়িত্ব স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়ার পাশাপাশি তীব্রতাও কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মূলত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশ থেকে বিদায় নেওয়ার পর এই পরিবর্তনগুলো দৃশ্যমান হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের কোথাও কোথাও ভোরে হালকা কুয়াশা দেখা যাচ্ছে এবং রাতের শেষ ভাগ ও সকালে বাতাসে শীতলতা অনুভূত হচ্ছে। এরই মধ্যে উত্তরাঞ্চলের তাপমাত্রাও কমতে শুরু করেছে।
আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরের প্রথম দিকে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। এমনকি নভেম্বরের শেষ দিকে উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
রাজধানী ঢাকায় শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে ডিসেম্বর মাস থেকে। এ সময় ঢাকার তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির।
আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার পর বাতাসের গতিপ্রকৃতিতে পরিবর্তন আসে। বর্তমানে উত্তর দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের অনুভূতি বেশি হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে, যা শীতের অনুভূতি আরও বাড়াতে পারে। পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় এর প্রভাব ইতিমধ্যেই অনুভূত হচ্ছে।
দিনের তাপমাত্রার অনুভূতিতে পরিবর্তন আসে সূর্যের অবস্থানের কারণেও। বর্ষাকালে সূর্যকিরণ খাড়াভাবে পড়লেও এখন তা আরও তির্যকভাবে পড়ছে। এর ফলে দিনের বেলায় তাপের অনুভূতি ধীরে ধীরে কমতে পারে এবং রাতে শীতলতা বেশি অনুভূত হতে পারে।
মৌসুমি বায়ুর প্রভাব কমার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামাঞ্চলের মাঠঘাট, ফসলের জমি ও জলাশয়ের আশপাশে ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা দেখা যেতে পারে। রাতের বেলায় ভূমির কাছাকাছি বাতাস ঠাণ্ডা হয়ে গেলে এবং বাতাসে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প থাকলে কুয়াশা তৈরি হয়। একই সাথে ঘাস ও গাছের পাতায় শিশির জমতে পারে। তবে শুধু কুয়াশা দেখলেই তীব্র শীত শুরু হয়েছে এমনটা নয়। সকালে শীতলতা অনুভূত হলেও দুপুরে রোদের কারণে গরম লাগতে পারে। রাতের তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকলে এবং ঠাণ্ডা বাতাসের প্রবাহ বাড়লে শীতের অনুভূতি আরও স্পষ্ট হবে।
মৌসুমি বায়ু বিদায় নিলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হলে কিংবা বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এলে দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
রাজধানী ঢাকায় শীতের অনুভূতি উত্তরাঞ্চলের তুলনায় দেরিতে বাড়তে পারে। আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবিরের মতে, ডিসেম্বর থেকে ঢাকায় শীতের প্রভাব স্পষ্ট হতে পারে, যখন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি একটি সম্ভাব্য পূর্বাভাস, নিশ্চিত তাপমাত্রা নয়। প্রকৃত তাপমাত্রা বাতাসের দিক ও গতি, আকাশের অবস্থা এবং অন্যান্য আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
ঢাকার ঘনবসতি ও নগরায়ণের কারণেও শহরের তাপমাত্রা আশপাশের খোলা এলাকার তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। ফলে উত্তরাঞ্চলে শীতের অনুভূতি বাড়লেও রাজধানীতে একই সময়ে সমান মাত্রায় ঠাণ্ডা নাও পড়তে পারে।
উষ্ণ শীত হলেই বৃষ্টি বাড়বে বা কমবে – এমন কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। শীতকালে বৃষ্টির সম্ভাবনা নির্ভর করে বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের পরিস্থিতি, বাতাসের প্রবাহ এবং আর্দ্রতার ওপর। আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির ব্যাখ্যা করেছেন যে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা আবহাওয়াব্যবস্থা ও বাতাসের প্রভাবে দেশে শীতকালে বৃষ্টি হতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থা মেঘ নিয়ে এলে বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মৌসুমি পূর্বাভাসে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অংশে বৃষ্টিপাতের ধরনে ভিন্নতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তবে এই আঞ্চলিক পূর্বাভাস থেকে বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট জেলায় কবে বৃষ্টি হবে, তা বলা যায় না।

























