মাদককাণ্ডে ওএসডি অতিরিক্ত ডিআইজি জহির, নিতেন ৭০% ভাগ
- আপডেট সময় : ০২:৪৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

পুলিশ সদরদপ্তরের রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি (সুপারনিউমারারি) আবদুল্লাহ আল জহিরকে ওএসডি করা হয়েছে। রাজধানীর পূর্বাচলে তার মালিকানাধীন একটি ফ্ল্যাটে অনলাইন জন্মদিনের পার্টির আড়ালে মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ ওঠার পর তাকে এই পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হলো। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, এই অবৈধ কার্যক্রম থেকে অর্জিত আয়ের ৭০ শতাংশই তিনি পেতেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে আবদুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদরদপ্তরের সদরদপ্তর শাখায় সংযুক্ত করা হয়। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
ডিবির একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, পূর্বাচলের ওই ছয়তলা ভবনের ফ্ল্যাটটিতে অভিযান চালিয়ে ৮৫ জনকে আটক করা হয়। ফ্ল্যাটটি এয়ারবিএনবির (একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম) মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। ডিবির দাবি, এই ফ্ল্যাটে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে তরুণ-তরুণীদের আমন্ত্রণ জানানো হতো এবং সেখানে রাতভর মাদক সেবন ও পার্টির আয়োজন চলত। এজন্য ফ্ল্যাটটিতে মদ, সিনথেটিক মাদক, কনডমসহ পার্টির বিভিন্ন উপকরণ রাখা হতো, যা অভিযানের সময় উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবির কয়েকজন সদস্য জানান, ফ্ল্যাটটির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি জহির নিজেই এয়ারবিএনবির মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য 'হোস্ট' হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তাকে সহায়তা করতেন মাহবুবুল আলম নামের এক তরুণ, যিনি 'কো-হোস্ট' হিসেবে কাজ করতেন এবং এ ধরনের ব্যবসায় তার অভিজ্ঞতা ছিল। মাহবুবুলের পরামর্শেই জহির ফ্ল্যাটটি বিশেষভাবে নকশা ও সাজসজ্জা করেন এবং এয়ারবিএনবির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন।
অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্ল্যাটের মালিক জহির হওয়ায় ব্যবসার মুনাফার ৭০ শতাংশ তিনি পেতেন, আর বাকি ৩০ শতাংশ পেতেন মাহবুবুল আলম। অভিযান চলাকালে ফ্ল্যাটটিতে শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান শুরুর পর ১৫ থেকে ২০ জন কৌশলে সেখান থেকে চলে যান।
অভিযান শেষ করতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণ ব্যাখ্যা করে এক কর্মকর্তা জানান, ফ্ল্যাটটিতে ২০২৫ সাল থেকেই এ ধরনের কার্যক্রম চলছিল। অভিযানের সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত থাকায় প্রত্যেককে শনাক্ত ও তল্লাশি করতে সময় লেগেছে। এছাড়া পুরো ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো, উপস্থিত ব্যক্তিদের হেফাজতে নেওয়া এবং তাদের থানায় বা সংশ্লিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতেও সময় লেগেছে। এ কারণে রাজারবাগ থেকে প্রিজন ভ্যান এনে কয়েক দফায় তাদের নিয়ে যেতে হয়েছে এবং এসব কার্যক্রম শেষ করতে ভোর ছয়টা বেজে যায়।
অভিযানকারীরা আরও জানান, ফ্ল্যাটটি থেকে কুশ (গাঁজা) এবং পাঁচ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মদের বোতলগুলোর মধ্যে একটিতে কিছুটা মদ অবশিষ্ট ছিল, দুটি বোতলে অর্ধেক মদ ছিল এবং আরেকটি বোতল পুরোপুরি খালি ছিল। এছাড়া সেখানে কনডমও পাওয়া যায়।

























