ঢাকা ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মান্দায় আত্রাই নদীতে প্রতিমা বিসর্জনে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন ব্যাটিং ব্যর্থতায় আফগানিস্তানের কাছে হেরে বিদায় বাংলাদেশের ভাঙ্গুড়ায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব আখচাষিদের প্রণোদনা তালিকায় এমপি আবু সাঈদ চাঁদের নাম, তুঙ্গে বিতর্ক প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজা: আবেগঘন বিদায় রংপুরে বাইক চোর চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৬, ৮টি বাইক উদ্ধার প্রশান্ত মহাসাগরে রেকর্ড তাপমাত্রা বৃদ্ধির শঙ্কা, সতর্ক করল জাতিসংঘ প্রধানমন্ত্রীর খুলনা-বাগেরহাট সফর আগামীকাল: মোংলা বন্দর ও বেজা ইকোনমিক জোন পরিদর্শন এবার শীতের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব কম হতে পারে: অধিদপ্তর হুতি হামলার মুখে সৌদি আরবে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ভাড়া ও বিমার খরচ ৫০% বাড়ল

অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় মাদকচক্র: দায় কার?

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:০৯:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানী ঢাকার ৩০০ ফিট এলাকায় পুলিশের এক অতিরিক্ত ডিআইজির মালিকানাধীন বাসায় অভিযান চালিয়ে ২৬ নারীসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে আইস, ইয়াবা, মদ, গাঁজা ও কুশের মতো বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই বাসায় দীর্ঘদিন ধরে ‘এয়ারবিএনবি’র মাধ্যমে বাসা ভাড়া নিয়ে নিয়মিত ডিজে পার্টি ও মাদক সেবনের আসর বসত।

এই ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ মাদক অভিযানের খবর নয়, বরং এটি প্রশাসনিক ও নৈতিক ব্যবস্থার গভীর সংকটের বহিঃপ্রকাশ। একজন অতিরিক্ত ডিআইজি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার প্রতীক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর মালিকানাধীন সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে এমন অবৈধ কার্যক্রম চলায় প্রশ্ন উঠেছে, পদের আড়ালে আসলে কী ঘটছে। বিষয়টি দায়িত্বশীলতার চরম অভাবের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তিনি নিয়ম মেনেই বাসা ভাড়া দিয়েছিলেন এবং ভাড়াটেরাই নিয়ম ভঙ্গ করেছে। তবে এত বড় একটি বাসায় নিয়মিত এত মানুষের সমাগম ও মাদক ব্যবসার বিষয়টি তাঁর অজানা থাকার সম্ভাবনা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে। খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরির দায়ে তাঁকে ইতিমধ্যে ওএসডি (বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত) করা হয়েছে।

পুলিশ বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্পত্তিতে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড নিম্নপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্যও নেতিবাচক বার্তা বহন করে। এছাড়া, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগেও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। ওএসডি থাকা অবস্থায়ও নিজের পদমর্যাদার প্রতি দায়বদ্ধ না থেকে এমন কেলেঙ্কারিতে জড়ানো তাঁর পেশাগত ব্যর্থতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। শুধু ভাড়াটেদের আটক করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; কর্মকর্তার সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি, তাঁর জানার সুযোগ এবং দায় এড়ানোর চেষ্টা—সবকিছু খতিয়ে দেখা জরুরি। এছাড়া পুলিশ বাহিনীর ভেতরে সম্পদ ও সম্পত্তির ঘোষণা ও তদারকি ব্যবস্থা কঠোর করা এবং ওএসডি কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর দাবি উঠেছে। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে তিনি জানতেন বা সহযোগিতা করেছেন, তবে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। এই ঘটনা প্রশাসনিক সংস্কার এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় মাদকচক্র: দায় কার?

আপডেট সময় : ১১:০৯:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানী ঢাকার ৩০০ ফিট এলাকায় পুলিশের এক অতিরিক্ত ডিআইজির মালিকানাধীন বাসায় অভিযান চালিয়ে ২৬ নারীসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে আইস, ইয়াবা, মদ, গাঁজা ও কুশের মতো বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই বাসায় দীর্ঘদিন ধরে ‘এয়ারবিএনবি’র মাধ্যমে বাসা ভাড়া নিয়ে নিয়মিত ডিজে পার্টি ও মাদক সেবনের আসর বসত।

এই ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ মাদক অভিযানের খবর নয়, বরং এটি প্রশাসনিক ও নৈতিক ব্যবস্থার গভীর সংকটের বহিঃপ্রকাশ। একজন অতিরিক্ত ডিআইজি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার প্রতীক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর মালিকানাধীন সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে এমন অবৈধ কার্যক্রম চলায় প্রশ্ন উঠেছে, পদের আড়ালে আসলে কী ঘটছে। বিষয়টি দায়িত্বশীলতার চরম অভাবের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তিনি নিয়ম মেনেই বাসা ভাড়া দিয়েছিলেন এবং ভাড়াটেরাই নিয়ম ভঙ্গ করেছে। তবে এত বড় একটি বাসায় নিয়মিত এত মানুষের সমাগম ও মাদক ব্যবসার বিষয়টি তাঁর অজানা থাকার সম্ভাবনা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে। খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরির দায়ে তাঁকে ইতিমধ্যে ওএসডি (বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত) করা হয়েছে।

পুলিশ বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্পত্তিতে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড নিম্নপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্যও নেতিবাচক বার্তা বহন করে। এছাড়া, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগেও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। ওএসডি থাকা অবস্থায়ও নিজের পদমর্যাদার প্রতি দায়বদ্ধ না থেকে এমন কেলেঙ্কারিতে জড়ানো তাঁর পেশাগত ব্যর্থতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। শুধু ভাড়াটেদের আটক করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; কর্মকর্তার সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি, তাঁর জানার সুযোগ এবং দায় এড়ানোর চেষ্টা—সবকিছু খতিয়ে দেখা জরুরি। এছাড়া পুলিশ বাহিনীর ভেতরে সম্পদ ও সম্পত্তির ঘোষণা ও তদারকি ব্যবস্থা কঠোর করা এবং ওএসডি কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর দাবি উঠেছে। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে তিনি জানতেন বা সহযোগিতা করেছেন, তবে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। এই ঘটনা প্রশাসনিক সংস্কার এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin