ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৪৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে লঙ্কানদের অবিশ্বাস্য জয় বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে সাড়ে ৭৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে জাপান জাপানি কনসোর্টিয়ামের কঠিন ৪ শর্তে থার্ড টার্মিনাল চুক্তি আটকে সৌদি আরবে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের লাগেজ ফিরে পেতে দূতাবাসের পরামর্শ ভাঙ্গুড়ায় নারীর মৃত্যু: হত্যা নাকি আত্মহত্যা, বিচার দাবি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অতীত সাফল্য নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ব্রুনো ফার্নান্দেসের ৪৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে শ্রীলঙ্কার রেকর্ড জয়, হারাল ইংল্যান্ডকে আসামে দুই দিনে ১১০০ মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি ও ১০টি মসজিদ উচ্ছেদ ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে খেলতে বাকুতে পৌঁছাল বাংলাদেশ দল নাটোরে মসজিদ ও মাজারের দানবাক্স ভেঙে টাকা ও কাগজপত্র চুরি

শ্রমিক অসন্তোষে স্বৈরাচারের অর্থায়নের পরিষ্কার তথ্য আছে: রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:০৭:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের বিভিন্ন শিল্প ও কলকারখানায় কৃত্রিমভাবে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির পেছনে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সীমান্ত পেরিয়ে অর্থ পাঠিয়ে দেশের ভেতরে থাকা বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের সহায়তায় কারখানাগুলোতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে যারা মিথ্যা কথা বলে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল এবং দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার পাঁয়তারা চালিয়েছিল, তাদের সঙ্গেই এখন হাত মিলিয়েছে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী গোষ্ঠী। এক পক্ষ ওপার থেকে অর্থ জোগাচ্ছে, আর অন্য পক্ষ এখানে বসে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করছে।

ঐতিহাসিক পটভূমির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পালিয়ে যাওয়ার আগে স্বৈরাচারী শাসক শত শত মানুষকে হত্যা করেছে। সেই সব শহীদদের স্মরণে ঢাকাতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে, যা গত সোমবার উদ্বোধন করা হয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন—উভয় চেতনাকেই ধারণ করে। সে কারণেই দল হিসেবে বিএনপি শুরু থেকেই জুলাই যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিচ্ছে।

স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চব্বিশের আন্দোলনকে মুখে ধারণ করার দাবিদার সব রাজনৈতিক দলকে সেখানে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। অথচ দুঃখজনকভাবে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাদের কোনো প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত হননি। তারেক রহমানের মতে, ১৯৭১ সালে তারা যেভাবে দেশের মানুষকে ধোঁকা দিয়েছিল, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও তাদের সেই একই প্রতারক ভূমিকার প্রতিফলন ঘটেছে। তাদের মুখের কথা ও বাস্তব কাজের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যে ভ্রান্ত রাজনৈতিক দলগুলো বারবার জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, তাদের কেনা টিকিটে জনগণ আর ভুলবে না। ফ্যামিলি কার্ড বন্ধ হলে দেশের মা-বোনেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন উল্লেখ করে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষি কার্ড চালুর বিষয়ে উপস্থিত জনতার মতামত জানতে চান। জনতা এতে সায় দিলে তিনি বলেন, গত ১২ তারিখে যেভাবে দেশবাসী বিএনপির পাশে দাঁড়িয়েছিল, আগামী ৫ বছরও সেই সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।

জনসভা চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল মাধ্যমে বাটন টিপে দেশের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মোবাইল অ্যাকাউন্টে সরাসরি প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। সরকার আখচাষিদের সহায়তায় মোট ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। 'আলহামদুলিল্লাহ' বলে প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারের বোতাম চাপলে জনসভায় উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ 'বিসমিল্লাহ' বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এরপর তিনি দেশের ১৫টি সুগার মিল জোনের ১৫ জন কৃষকের হাতে প্রণোদনার প্রতীকী চেক তুলে দেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের পরিচালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ এবং অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম এমপি, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা এবং কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

শ্রমিক অসন্তোষে স্বৈরাচারের অর্থায়নের পরিষ্কার তথ্য আছে: রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১০:০৭:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

দেশের বিভিন্ন শিল্প ও কলকারখানায় কৃত্রিমভাবে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির পেছনে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সীমান্ত পেরিয়ে অর্থ পাঠিয়ে দেশের ভেতরে থাকা বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের সহায়তায় কারখানাগুলোতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে যারা মিথ্যা কথা বলে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল এবং দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার পাঁয়তারা চালিয়েছিল, তাদের সঙ্গেই এখন হাত মিলিয়েছে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী গোষ্ঠী। এক পক্ষ ওপার থেকে অর্থ জোগাচ্ছে, আর অন্য পক্ষ এখানে বসে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করছে।

ঐতিহাসিক পটভূমির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পালিয়ে যাওয়ার আগে স্বৈরাচারী শাসক শত শত মানুষকে হত্যা করেছে। সেই সব শহীদদের স্মরণে ঢাকাতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে, যা গত সোমবার উদ্বোধন করা হয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন—উভয় চেতনাকেই ধারণ করে। সে কারণেই দল হিসেবে বিএনপি শুরু থেকেই জুলাই যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিচ্ছে।

স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চব্বিশের আন্দোলনকে মুখে ধারণ করার দাবিদার সব রাজনৈতিক দলকে সেখানে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। অথচ দুঃখজনকভাবে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাদের কোনো প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত হননি। তারেক রহমানের মতে, ১৯৭১ সালে তারা যেভাবে দেশের মানুষকে ধোঁকা দিয়েছিল, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও তাদের সেই একই প্রতারক ভূমিকার প্রতিফলন ঘটেছে। তাদের মুখের কথা ও বাস্তব কাজের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যে ভ্রান্ত রাজনৈতিক দলগুলো বারবার জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, তাদের কেনা টিকিটে জনগণ আর ভুলবে না। ফ্যামিলি কার্ড বন্ধ হলে দেশের মা-বোনেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন উল্লেখ করে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষি কার্ড চালুর বিষয়ে উপস্থিত জনতার মতামত জানতে চান। জনতা এতে সায় দিলে তিনি বলেন, গত ১২ তারিখে যেভাবে দেশবাসী বিএনপির পাশে দাঁড়িয়েছিল, আগামী ৫ বছরও সেই সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।

জনসভা চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল মাধ্যমে বাটন টিপে দেশের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মোবাইল অ্যাকাউন্টে সরাসরি প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। সরকার আখচাষিদের সহায়তায় মোট ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। 'আলহামদুলিল্লাহ' বলে প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারের বোতাম চাপলে জনসভায় উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ 'বিসমিল্লাহ' বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এরপর তিনি দেশের ১৫টি সুগার মিল জোনের ১৫ জন কৃষকের হাতে প্রণোদনার প্রতীকী চেক তুলে দেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের পরিচালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ এবং অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম এমপি, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা এবং কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh