ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পীরগঞ্জে পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ কামতা প্রসাদ, নাম ফেরাতে লড়ছেন দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কখনো আত্মসমর্পণ করবে না ইরান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ দুই মুসলিম উম্মাহর ঘুরে দাঁড়ানোর সময় শুরু হয়েছে: মুফতি কাজী ইব্রাহিম সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান প্রেসিডেন্টের সরকারের সাত মাসের শাসনামলে রাজনৈতিক অপরিপক্বতা স্পষ্ট: গোলাম পরওয়ার যশোরে ১৮টি স্বর্ণের বারসহ আটক ১, মোটরসাইকেল জব্দ আফগান পেসারদের তোপে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ পূজামণ্ডপে পুলিশের পোশাক পরে গান, এএসআই উদয়ন ফারুক প্রত্যাহার

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পাটবীজ উৎপাদনে উৎসাহ বাড়ছে কৃষকদের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চলতি মৌসুমে পাটবীজ বা স্থানীয় ভাষায় ‘পাটের বিছন’ উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। এলাকায় পাট চাষে লাভ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বহু কৃষক নিজেদের জমিতে বীজ সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছেন। বিএডিসির দেওয়া সরকারি সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় হাট ও গৃহস্থদের কাছ থেকে কেনা বীজ দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে এসব পাটের আবাদ করা হয়েছে।

মাঠ ঘুরে দেখা যায়, আবাদ করা পাটের বড় একটি অংশই দেশীয় জাতের সাদা পাট। তবে সাদা পাটের পাশাপাশি মেছতা, তোষা ও কেনাফ (আসমান তারা) জাতের পাটেরও চাষ করেছেন কৃষকেরা। অধিকাংশ জমিতেই এখন ফুল থেকে বীজ গুটি তৈরি হতে শুরু করেছে। উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের নাগরৌহা, ছোট বাখুয়া, পংরৌহা, ভদ্রকোল এবং পূর্ণিমাগাতী ইউনিয়নের পুকুরপাড়, বেতুয়া, ছয়বারিয়া ও পুঠিয়া মাঠের অনেক কৃষক পাট না কেটে বীজ উৎপাদনের জন্য রেখে দিয়েছেন। একই দৃশ্য দেখা গেছে কয়ড়া ও বড়হর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠেও।

উপজেলার নাগরৌহা মাঠে বিএডিসি অফিস থেকে বিনামূল্যে সরকারি বীজ পেয়েছিলেন কৃষক আজিম উদ্দিন, মেহের প্রামাণিক, সাইদুল ইসলাম, মোতালেব হোসেন ও আশরাফ আলী। তারা সবাই দেশীয় জাতের সাদা পাট ‘সিভিএল-১’ (প্রত্যায়িত শ্রেণি) আবাদ করেছেন। কৃষক মেহের আলী প্রামাণিক জানান, সরকারি বীজে তিনি প্রায় দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন এবং তা থেকে বীজ রাখছেন। উৎপাদিত এই বীজ পরবর্তীতে আবার সরকারি সংস্থায় বিক্রি করা যাবে।

সরকারি সুবিধার বাইরেও অনেকে স্থানীয় হাট ও অন্য গৃহস্থের কাছ থেকে বীজ কিনে জমিতে রূপণ করেছেন। নাগরৌহা মাঠেই কৃষক জাফর আলী, মোকাই হোসেন, আবদুল করিম ও জাহিদুল ইসলামসহ আরও ১০-১২ জন কৃষক ব্যক্তিগতভাবে বীজ সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেন। অন্য গৃহস্থের কাছ থেকে বীজ কিনে আবাদ করার কথা জানিয়ে কৃষক জাফর আলী বলেন, ভালো ফলন হওয়ায় এখন তা বীজ সংরক্ষণের জন্য রেখে দিয়েছেন।

কৃষকদের মতে, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পাটের ফুলে বেশ ভালো হারে বীজ গুটি আসছে। বাজারে পাটের ভালো দাম পাওয়ার পাশাপাশি বীজ উৎপাদন এবং পাটখড়ি বা সোলা বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব হচ্ছে। এই বহুমুখী লাভের কারণেই বীজ রাখার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। ইতোমধ্যে দুর্গানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পাট গাছের উপরিভাগের বীজ অংশ কেটে বাড়ির উঠানে রোদে শুকাতে দিতে দেখা গেছে।

উল্লাপাড়া বিএডিসির উপ-সহকারী পরিচালক (পাট বীজ) মোছা. মরিয়ম বেগম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাটবীজ উৎপাদনে আগ্রহী এমন ৭০ জন কৃষককে বিনামূল্যে সরকারি পাটবীজ দেওয়া হয়েছে। কৃষকেরা সফলভাবে আবাদ সম্পন্ন করে বীজ রাখছেন। চুক্তি অনুযায়ী, উৎপাদিত এই বীজ পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে সরকারিভাবে কিনে নেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পাটবীজ উৎপাদনে উৎসাহ বাড়ছে কৃষকদের

আপডেট সময় : ০২:২৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চলতি মৌসুমে পাটবীজ বা স্থানীয় ভাষায় ‘পাটের বিছন’ উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। এলাকায় পাট চাষে লাভ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বহু কৃষক নিজেদের জমিতে বীজ সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছেন। বিএডিসির দেওয়া সরকারি সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় হাট ও গৃহস্থদের কাছ থেকে কেনা বীজ দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে এসব পাটের আবাদ করা হয়েছে।

মাঠ ঘুরে দেখা যায়, আবাদ করা পাটের বড় একটি অংশই দেশীয় জাতের সাদা পাট। তবে সাদা পাটের পাশাপাশি মেছতা, তোষা ও কেনাফ (আসমান তারা) জাতের পাটেরও চাষ করেছেন কৃষকেরা। অধিকাংশ জমিতেই এখন ফুল থেকে বীজ গুটি তৈরি হতে শুরু করেছে। উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের নাগরৌহা, ছোট বাখুয়া, পংরৌহা, ভদ্রকোল এবং পূর্ণিমাগাতী ইউনিয়নের পুকুরপাড়, বেতুয়া, ছয়বারিয়া ও পুঠিয়া মাঠের অনেক কৃষক পাট না কেটে বীজ উৎপাদনের জন্য রেখে দিয়েছেন। একই দৃশ্য দেখা গেছে কয়ড়া ও বড়হর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠেও।

উপজেলার নাগরৌহা মাঠে বিএডিসি অফিস থেকে বিনামূল্যে সরকারি বীজ পেয়েছিলেন কৃষক আজিম উদ্দিন, মেহের প্রামাণিক, সাইদুল ইসলাম, মোতালেব হোসেন ও আশরাফ আলী। তারা সবাই দেশীয় জাতের সাদা পাট ‘সিভিএল-১’ (প্রত্যায়িত শ্রেণি) আবাদ করেছেন। কৃষক মেহের আলী প্রামাণিক জানান, সরকারি বীজে তিনি প্রায় দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন এবং তা থেকে বীজ রাখছেন। উৎপাদিত এই বীজ পরবর্তীতে আবার সরকারি সংস্থায় বিক্রি করা যাবে।

সরকারি সুবিধার বাইরেও অনেকে স্থানীয় হাট ও অন্য গৃহস্থের কাছ থেকে বীজ কিনে জমিতে রূপণ করেছেন। নাগরৌহা মাঠেই কৃষক জাফর আলী, মোকাই হোসেন, আবদুল করিম ও জাহিদুল ইসলামসহ আরও ১০-১২ জন কৃষক ব্যক্তিগতভাবে বীজ সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেন। অন্য গৃহস্থের কাছ থেকে বীজ কিনে আবাদ করার কথা জানিয়ে কৃষক জাফর আলী বলেন, ভালো ফলন হওয়ায় এখন তা বীজ সংরক্ষণের জন্য রেখে দিয়েছেন।

কৃষকদের মতে, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পাটের ফুলে বেশ ভালো হারে বীজ গুটি আসছে। বাজারে পাটের ভালো দাম পাওয়ার পাশাপাশি বীজ উৎপাদন এবং পাটখড়ি বা সোলা বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব হচ্ছে। এই বহুমুখী লাভের কারণেই বীজ রাখার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। ইতোমধ্যে দুর্গানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পাট গাছের উপরিভাগের বীজ অংশ কেটে বাড়ির উঠানে রোদে শুকাতে দিতে দেখা গেছে।

উল্লাপাড়া বিএডিসির উপ-সহকারী পরিচালক (পাট বীজ) মোছা. মরিয়ম বেগম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাটবীজ উৎপাদনে আগ্রহী এমন ৭০ জন কৃষককে বিনামূল্যে সরকারি পাটবীজ দেওয়া হয়েছে। কৃষকেরা সফলভাবে আবাদ সম্পন্ন করে বীজ রাখছেন। চুক্তি অনুযায়ী, উৎপাদিত এই বীজ পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে সরকারিভাবে কিনে নেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh