ঢাকা ১২:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পূজায় আগের চেয়ে বেশি সরকারি অনুদান পেয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা: খাদ্যমন্ত্রী কক্সবাজারের হিমছড়িতে ভেসে যাওয়া ৪ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ১ সৃষ্টি জগৎ ও বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর সর্বব্যাপী রহমতের বার্তা সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা এমপি-মন্ত্রী হচ্ছেন: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন ফ্রান্স ও ভারতের আন্দোলনে আন্তর্জাতিক যোগসূত্রের দাবি ফক্স নিউজের সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাস কর্মী সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে হুতি হামলার শঙ্কা খুলনায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ২৭ বছর বয়সী যুবকের মরদেহ উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সুন্দরবন উপকূলে উৎসবের আমেজ কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়া পাবেন যে সাত শ্রেণির মানুষ সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা জহির ফকিরকে কুপিয়ে হত্যা

ওয়েবসাইট ও টেলিগ্রামে মাদক বিক্রি, ভাটারায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:২৯:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ঘিরে পরিচালিত একটি উদ্ভাবনী অনলাইন মাদক কেনাবেচা চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ক্যাম্পাসে কিউআর কোডসংবলিত কার্ড বিতরণ, বিশেষ ওয়েবসাইট ও গোপন টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে 'কুশ' ও 'সিনথেটিক গাঁজা' বিক্রি করে আসছিল চক্রটি। এ ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে সাইম ইসলাম (১৯) নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে গত শুক্রবার রাজধানীর ভাটারার জোয়ার সাহারা লিচুবাগান এলাকার একটি ফ্ল্যাটে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তার সাইম ইসলামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে। তিনি ভাটারার ওই ফ্ল্যাটে বাস করতেন। তল্লাশিকালে তাঁর কাছ থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ৩০০ গ্রাম গাঁজা এবং একটি ব্যবহৃত মুঠোফোন জব্দ করা হয়। এ ছাড়া অভিযানে উচ্চমাত্রার সিনথেটিক গাঁজা, কুশ সিড (বীজ) এবং মাদক প্রক্রিয়াজাতকরণের নানা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএনসি সূত্র জানায়, অনলাইনের এই মাদক চক্রটির মূল সদস্যেরা মূলত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাঁরা প্রথমে ক্যাম্পাসে ঘুরে ঘুরে মাদক সেবন করেন—এমন শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাঁদের হাতে একটি 'ভিজিটিং কার্ড' তুলে দেন। কার্ডে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলেই আগ্রহীদের একটি ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁদের যুক্ত করা হয় একটি গোপন টেলিগ্রাম গ্রুপে।

ডিএনসির জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সাইম জানান, তিনি নিজে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। দুই মাস আগে তিনি অনলাইনে মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে ওয়েবসাইটটি তৈরি করেন। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গত দুই সপ্তাহ ধরে তিনি 'কুশ' ও 'সিনথেটিক গাঁজা' সরবরাহ শুরু করেন। তাঁর খোলা গোপন টেলিগ্রাম গ্রুপটিতে দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫০ জন মাদকসেবী শিক্ষার্থী যুক্ত রয়েছেন।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, এলাকাটিতে বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে একাধিক মাদকচক্র সক্রিয় রয়েছে। সেখানে বেশ কিছু নির্দিষ্ট মাদকের স্পট থাকলেও সম্প্রতি অনলাইনে অর্ডার করলে বাসায় মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

অভিযান প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, মাদক কারবারিরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিত্যনতুন কৌশলে মাদক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। গোয়েন্দা দল সাইবার প্যাট্রোলিং বা নজরদারির মাধ্যমে বিষয়টি শনাক্ত করার পর অভিযান চালায়। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, কেবল মাঠে নয়, প্রযুক্তির আড়ালে যারা মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অনলাইন নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বাদী হয়ে ভাটারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি ভাটারার জোয়ার সাহারা লিচুবাগান এলাকার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন।.ন্যূনতম ৫ বছরের শাস্তিযোগ্য মাদক মামলার বিচারে ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইট ও টেলিগ্রামে মাদক বিক্রি, ভাটারায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৮:২৯:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ঘিরে পরিচালিত একটি উদ্ভাবনী অনলাইন মাদক কেনাবেচা চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ক্যাম্পাসে কিউআর কোডসংবলিত কার্ড বিতরণ, বিশেষ ওয়েবসাইট ও গোপন টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে 'কুশ' ও 'সিনথেটিক গাঁজা' বিক্রি করে আসছিল চক্রটি। এ ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে সাইম ইসলাম (১৯) নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে গত শুক্রবার রাজধানীর ভাটারার জোয়ার সাহারা লিচুবাগান এলাকার একটি ফ্ল্যাটে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তার সাইম ইসলামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে। তিনি ভাটারার ওই ফ্ল্যাটে বাস করতেন। তল্লাশিকালে তাঁর কাছ থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ৩০০ গ্রাম গাঁজা এবং একটি ব্যবহৃত মুঠোফোন জব্দ করা হয়। এ ছাড়া অভিযানে উচ্চমাত্রার সিনথেটিক গাঁজা, কুশ সিড (বীজ) এবং মাদক প্রক্রিয়াজাতকরণের নানা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএনসি সূত্র জানায়, অনলাইনের এই মাদক চক্রটির মূল সদস্যেরা মূলত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাঁরা প্রথমে ক্যাম্পাসে ঘুরে ঘুরে মাদক সেবন করেন—এমন শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাঁদের হাতে একটি 'ভিজিটিং কার্ড' তুলে দেন। কার্ডে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলেই আগ্রহীদের একটি ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁদের যুক্ত করা হয় একটি গোপন টেলিগ্রাম গ্রুপে।

ডিএনসির জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সাইম জানান, তিনি নিজে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। দুই মাস আগে তিনি অনলাইনে মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে ওয়েবসাইটটি তৈরি করেন। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গত দুই সপ্তাহ ধরে তিনি 'কুশ' ও 'সিনথেটিক গাঁজা' সরবরাহ শুরু করেন। তাঁর খোলা গোপন টেলিগ্রাম গ্রুপটিতে দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫০ জন মাদকসেবী শিক্ষার্থী যুক্ত রয়েছেন।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, এলাকাটিতে বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে একাধিক মাদকচক্র সক্রিয় রয়েছে। সেখানে বেশ কিছু নির্দিষ্ট মাদকের স্পট থাকলেও সম্প্রতি অনলাইনে অর্ডার করলে বাসায় মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

অভিযান প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, মাদক কারবারিরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিত্যনতুন কৌশলে মাদক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। গোয়েন্দা দল সাইবার প্যাট্রোলিং বা নজরদারির মাধ্যমে বিষয়টি শনাক্ত করার পর অভিযান চালায়। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, কেবল মাঠে নয়, প্রযুক্তির আড়ালে যারা মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অনলাইন নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বাদী হয়ে ভাটারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি ভাটারার জোয়ার সাহারা লিচুবাগান এলাকার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন।.ন্যূনতম ৫ বছরের শাস্তিযোগ্য মাদক মামলার বিচারে ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo