ঢাকা ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্ন ফাঁসে এনবিআর কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৭ রাউজানে এক অপরাধী চক্র গ্রেপ্তারের পর মাথাচাড়া দিচ্ছে আলম-আজিজ বাহিনী জামায়াত, এনসিপি ও গণঅধিকার নেতাদের তীব্র রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি আরিফিন শুভর সঙ্গে ছবি পোস্ট করে বিয়ের রহস্য উসকে দিলেন চমক ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের ‘মাদার অব অল বম্বস’ হামলার ছক মানুষের প্রকৃত পরিচয়: লালন সাঁইয়ের দর্শনে এক গভীর অনুসন্ধান মুসলিমবিরোধী স্লোগান দেওয়ায় স্পেনকে অর্থদণ্ড ও গ্যালারি নিষেধাজ্ঞা দিল ফিফা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ছাত্রলীগ নেত্রী প্রমা গ্রেপ্তার বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের ৮৬ পৃষ্ঠার গাইডলাইন প্রকাশ ভারত থেকে বাংলাদেশে পৌঁছাল ১৮টি নতুন ব্রডগেজ রেলকোচ

বগুড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের হাজারো ঘর এখন মাদকসেবীদের আস্তানা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ী, হাটশেরপুর, কাজলা, কনিবাড়ী, চালুয়াবাড়ি ও বোহাইল ইউনিয়নে ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত দুই হাজারের বেশি ঘর এখন বাসিন্দাশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। সরকারি বিভিন্ন অর্থবছরে নির্মিত এসব ঘর বর্তমানে অযত্ন ও অবহেলার শিকার হয়ে মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ ঘরই তালাবদ্ধ অথবা জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঘরের চারপাশ ঝোপঝাড় ও জঙ্গলে ভরে গেছে এবং দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।

প্রকল্পের ঘরগুলো অব্যবহৃত থাকার পেছনে স্থানীয় বাসিন্দারা যোগাযোগব্যবস্থার অভাব, জলাবদ্ধতা, স্যানিটেশন সংকট ও সুপেয় পানির অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এছাড়া অনেক বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিজস্ব বাড়ি থাকায় তারা এসব ঘরে থাকছেন না। চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নে ২০০টি ঘরের মধ্যে মাত্র ছয়টিতে মানুষ বসবাস করছে। বোহাইল ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার ঘরের মধ্যে মাত্র ১২টি পরিবার বসবাস করে, বাকিগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত।

কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের চরে ২০১৮ সালে নির্মিত পাঁচশ আধাপাকা টিনের ঘরের অবস্থাও একই। হস্তান্তর করা এসব ঘরের মধ্যে বর্তমানে মাত্র বারোটি পরিবার বসবাস করছে। বরাদ্দপ্রাপ্ত দুই বৃদ্ধা মাঝেমধ্যে নিজেদের ঘরে আসলেও অসুস্থতা ও বার্ধক্যের কারণে বেশিরভাগ সময় স্বজনদের বাড়িতে থাকেন। এছাড়া প্রকল্পটির কয়েক মাইলের মধ্যে কোনো প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নেই এবং সেবা নিতে যমুনা নদী পাড়ি দেওয়ার মতো দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হয়।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাসকারী শহিদুল ফকিরের মতো অনেকেই জানিয়েছেন, এখানে কাজের সুযোগ নেই এবং পানির তীব্র সংকট রয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের বাসিন্দাদের সামাজিকভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের শিকার হতে হয় এবং প্রথম বছরের পর সরকারি কোনো সহায়তা না পাওয়ায় তারা ভোগান্তিতে রয়েছেন। এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার রাশেদুল ইসলাম জানান, প্রকৃত আগ্রহী ভূমি ও গৃহহীন পরিবারগুলো কাজের সন্ধানে বেরিয়ে যাওয়ায় ঘরগুলো ফাঁকা পড়ে আছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

বগুড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের হাজারো ঘর এখন মাদকসেবীদের আস্তানা

আপডেট সময় : ০৪:১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ী, হাটশেরপুর, কাজলা, কনিবাড়ী, চালুয়াবাড়ি ও বোহাইল ইউনিয়নে ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত দুই হাজারের বেশি ঘর এখন বাসিন্দাশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। সরকারি বিভিন্ন অর্থবছরে নির্মিত এসব ঘর বর্তমানে অযত্ন ও অবহেলার শিকার হয়ে মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ ঘরই তালাবদ্ধ অথবা জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঘরের চারপাশ ঝোপঝাড় ও জঙ্গলে ভরে গেছে এবং দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।

প্রকল্পের ঘরগুলো অব্যবহৃত থাকার পেছনে স্থানীয় বাসিন্দারা যোগাযোগব্যবস্থার অভাব, জলাবদ্ধতা, স্যানিটেশন সংকট ও সুপেয় পানির অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এছাড়া অনেক বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিজস্ব বাড়ি থাকায় তারা এসব ঘরে থাকছেন না। চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নে ২০০টি ঘরের মধ্যে মাত্র ছয়টিতে মানুষ বসবাস করছে। বোহাইল ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার ঘরের মধ্যে মাত্র ১২টি পরিবার বসবাস করে, বাকিগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত।

কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের চরে ২০১৮ সালে নির্মিত পাঁচশ আধাপাকা টিনের ঘরের অবস্থাও একই। হস্তান্তর করা এসব ঘরের মধ্যে বর্তমানে মাত্র বারোটি পরিবার বসবাস করছে। বরাদ্দপ্রাপ্ত দুই বৃদ্ধা মাঝেমধ্যে নিজেদের ঘরে আসলেও অসুস্থতা ও বার্ধক্যের কারণে বেশিরভাগ সময় স্বজনদের বাড়িতে থাকেন। এছাড়া প্রকল্পটির কয়েক মাইলের মধ্যে কোনো প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নেই এবং সেবা নিতে যমুনা নদী পাড়ি দেওয়ার মতো দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হয়।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাসকারী শহিদুল ফকিরের মতো অনেকেই জানিয়েছেন, এখানে কাজের সুযোগ নেই এবং পানির তীব্র সংকট রয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের বাসিন্দাদের সামাজিকভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের শিকার হতে হয় এবং প্রথম বছরের পর সরকারি কোনো সহায়তা না পাওয়ায় তারা ভোগান্তিতে রয়েছেন। এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার রাশেদুল ইসলাম জানান, প্রকৃত আগ্রহী ভূমি ও গৃহহীন পরিবারগুলো কাজের সন্ধানে বেরিয়ে যাওয়ায় ঘরগুলো ফাঁকা পড়ে আছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh