ঢাকা ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভাঙ্গুড়ায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করল উপজেলা প্রশাসন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসছে বড় ধরনের রদবদল প্রেমের টানে মাদারীপুরে চীনা যুবক, ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ের ইচ্ছা বাবার মৃত্যুতে সাদামাটা জন্মদিন কাটাচ্ছেন শ্রাবণ্য তৌহিদা নতুন ভিডিওতে সীতার রণরূপে সাই পল্লবী, রামায়ণে রণবীর-যশ যমুনায় কোটি টাকার অবৈধ জাল উদ্ধার, পুড়িয়ে ধ্বংস করলো মৎস্য বিভাগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা ও গরুর মাংস ঘিরে রাজনীতির বিশ্লেষণ রায়পুরে মন্দিরে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু মাথায় গুরুতর চোট পেয়ে হাসপাতালে চেলসি গোলরক্ষক মার্তিনেজ সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড আমাদের জন্য বড় শিক্ষা: শামা ওবায়েদ

পটিয়ায় দুই ইউনিয়নের রশি টানাটানিতে ৩০ পরিবারের চরম দুর্ভোগ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় আশিয়া ও কাশিয়াইশ ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের রশি টানাটানির কারণে ৩০টি পরিবারের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এই দুই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত দুটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথটি তিনটি নড়বড়ে সাঁকোয় আটকে আছে, যা বছরের প্রায় ছয় মাস হাঁটুপানিতে তলিয়ে থাকে। এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয়রা পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড এবং আশিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী পিঙ্গলা শেখপাড়া এলাকায় চলাচলের এই পথে তিনটি সাঁকো থাকায় মানুষের যাতায়াতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। প্রায় ১৫ বছর আগে খালের পানিতে সড়কপথটি তলিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয়রাই এসব সাঁকো নির্মাণ করেন। এরপর থেকে জনপ্রতিনিধিরা আসা-যাওয়া করলেও ওই এলাকার ৩০টি পরিবারের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। স্থানীয়দের তথ্যমতে, সাঁকোগুলোর আশপাশে ৩০টি পরিবারের বসবাস। এছাড়াও আশিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বৃহৎ অংশের মানুষও এই সাঁকো দিয়েই যাতায়াত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন জানান, আট বছর আগে এই সাঁকো দিয়ে চলাচলের সময় পড়ে গিয়ে মো. সেলিম নামে এক যুবক পঙ্গু হয়ে যান। বর্তমানে তিনি চাষাবাদের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এই দুর্ভোগের কথা কাশিয়াইশ ও আশিয়া ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেননি।

এলাকাবাসী আরও জানান, পিঙ্গলা শেখপাড়ার এই সড়ক পথটি ব্যবহার করে পিঙ্গলা আহমদিয়া কাদেরিয়া সুন্নীয়া মাদরাসা, পিঙ্গলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হজরত শেখ মুনছুর আউলিয়া জামে মসজিদ এবং নূর উদ্দীন শাহ জামে মসজিদে যাতায়াত করেন এলাকার হাজারো মানুষ।

স্থানীয় আলমগীর ও মো. রফিক অভিযোগ করে বলেন, জনপ্রতিনিধিরা বারবার এখানে এসে শুধু আশ্বাস দিয়ে যান, কিন্তু তাদের দুর্ভোগের অবসান হয় না। দুই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে কেউ নজর দেন না। প্রায় ১৫ বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়ে চলাচল করলেও তা দেখার কেউ নেই বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ বলেন, “সাঁকোটি যে সড়কে অবস্থিত, সেটি এলজিইডির আইডিভুক্ত সড়ক নয়। তাই আমাদের কোনো উন্নয়ন প্রকল্পেও এর পরিকল্পনা নেই। তবে সড়কটি আইডিভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইডিভুক্ত হলে পরবর্তী সময়ে চলমান যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কটির উন্নয়ন বা সংস্কার করা হবে।”

অন্যদিকে, পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান জানান, “স্থানীয়দের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আবেদন এখনও পাওয়া যায়নি। আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩: ৫১আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪: ০৫

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

পটিয়ায় দুই ইউনিয়নের রশি টানাটানিতে ৩০ পরিবারের চরম দুর্ভোগ

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় আশিয়া ও কাশিয়াইশ ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের রশি টানাটানির কারণে ৩০টি পরিবারের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এই দুই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত দুটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথটি তিনটি নড়বড়ে সাঁকোয় আটকে আছে, যা বছরের প্রায় ছয় মাস হাঁটুপানিতে তলিয়ে থাকে। এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয়রা পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড এবং আশিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী পিঙ্গলা শেখপাড়া এলাকায় চলাচলের এই পথে তিনটি সাঁকো থাকায় মানুষের যাতায়াতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। প্রায় ১৫ বছর আগে খালের পানিতে সড়কপথটি তলিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয়রাই এসব সাঁকো নির্মাণ করেন। এরপর থেকে জনপ্রতিনিধিরা আসা-যাওয়া করলেও ওই এলাকার ৩০টি পরিবারের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। স্থানীয়দের তথ্যমতে, সাঁকোগুলোর আশপাশে ৩০টি পরিবারের বসবাস। এছাড়াও আশিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বৃহৎ অংশের মানুষও এই সাঁকো দিয়েই যাতায়াত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন জানান, আট বছর আগে এই সাঁকো দিয়ে চলাচলের সময় পড়ে গিয়ে মো. সেলিম নামে এক যুবক পঙ্গু হয়ে যান। বর্তমানে তিনি চাষাবাদের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এই দুর্ভোগের কথা কাশিয়াইশ ও আশিয়া ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেননি।

এলাকাবাসী আরও জানান, পিঙ্গলা শেখপাড়ার এই সড়ক পথটি ব্যবহার করে পিঙ্গলা আহমদিয়া কাদেরিয়া সুন্নীয়া মাদরাসা, পিঙ্গলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হজরত শেখ মুনছুর আউলিয়া জামে মসজিদ এবং নূর উদ্দীন শাহ জামে মসজিদে যাতায়াত করেন এলাকার হাজারো মানুষ।

স্থানীয় আলমগীর ও মো. রফিক অভিযোগ করে বলেন, জনপ্রতিনিধিরা বারবার এখানে এসে শুধু আশ্বাস দিয়ে যান, কিন্তু তাদের দুর্ভোগের অবসান হয় না। দুই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে কেউ নজর দেন না। প্রায় ১৫ বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়ে চলাচল করলেও তা দেখার কেউ নেই বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ বলেন, “সাঁকোটি যে সড়কে অবস্থিত, সেটি এলজিইডির আইডিভুক্ত সড়ক নয়। তাই আমাদের কোনো উন্নয়ন প্রকল্পেও এর পরিকল্পনা নেই। তবে সড়কটি আইডিভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইডিভুক্ত হলে পরবর্তী সময়ে চলমান যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কটির উন্নয়ন বা সংস্কার করা হবে।”

অন্যদিকে, পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান জানান, “স্থানীয়দের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আবেদন এখনও পাওয়া যায়নি। আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩: ৫১আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪: ০৫

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh