ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দশমিনায় মা ইলিশ শিকারের দায়ে আট জেলের কারাদণ্ড জনগণের কাছে স্থানীয় সরকার ফেরাতে চায় সরকার: মঈন খান; সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব রোববার সন্ধ্যায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে বিএনপি, ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: সিজেপি আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ বাড়াতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী রেনশ’র দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩৯০ রানে অস্ট্রেলিয়া ‘জনতার আদালতে বাবু হত্যার বিচার হবে’: বড়াইগ্রামে হুইপ দুলু বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান রিয়াদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, বহু হতাহতের আশঙ্কা

বাড়তি খরচে কমছে লাভ, বরিশালে সংকটে প্রতিমাশিল্পীরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:২৫:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন বরিশালের প্রতিমাশিল্পীরা। তবে মাটি, খড়, বাঁশ ও পাটের মতো উপকরণের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে এবার তাদের লাভের খাতায় পড়েছে টান। ঐতিহ্য ও পূর্বপুরুষের পেশা টিকিয়ে রাখার তাগিদেই লোকসান বা নামমাত্র লাভে প্রতিমা তৈরি করতে হচ্ছে মৃৎশিল্পীদের।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশালের শ্রীশ্রী শংকর মঠে প্রতিমা তৈরি করতে আসা কার্তিক চন্দ্র পাল জানান, এবার তিনি ১২টি প্রতিমার কাজ নিয়েছেন, যা গত বছরের চেয়ে কম। বরিশাল নগরে পাঁচটি এবং বাবুগঞ্জের মাধবপাশায় একটি প্রতিমা তৈরি করছেন তিনি। তার সাথে আরও পাঁচজন শ্রমিক কাজ করছেন। কার্তিক পালের হিসেব অনুযায়ী, একটি প্রতিমা থেকে এক লাখ টাকা পাওয়া গেলে তার প্রায় ৯০ হাজার টাকাই খরচ হয়ে যায় উপকরণ ও শ্রমিকে। যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিলে লাভ থাকে খুবই সামান্য। তার বড় ভাই রণজিৎ পাল জানান, খরচ বাড়লেও পূজা কমিটিগুলোর বাজেট বাড়েনি। তাই অতিরিক্ত চাপ সামলাতে অনেক সময় একবেলা বা দুইবেলা খেয়েও কাজ করতে হচ্ছে তাদের।

প্রতিমা তৈরির উপকরণের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে কার্তিক পাল বলেন, গত বছর যে মাটির বস্তা ৩৫০ টাকায় কেনা যেত, এবার তা কিনতে হচ্ছে ৫০০ টাকায়। একইভাবে পাটের দাম ১৬০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২২০ টাকা, খড়ের নাড়া ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১০০ টাকা এবং চটের দাম ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা হয়েছে। অন্যান্য উপকরণের দামও একইভাবে ঊর্ধ্বমুখী। একই সংকটের কথা জানিয়েছেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠির মৃৎশিল্পী যোগেশ পাল। পূর্বপুরুষের এই ঐতিহ্যবাহী পেশা টিকিয়ে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান তিনি।

মৃৎশিল্পীদের এই কঠিন পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন চারুকলা বরিশালের সাবেক সভাপতি সুশান্ত ঘোষ। তিনি জানান, ঐতিহ্যবাহী এই পেশা টিকিয়ে রাখা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। মৃৎশিল্পীদের উৎসাহিত করতে প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্গোৎসবের ষষ্ঠী ও সপ্তমীতে প্রদর্শনী ও মৃৎশিল্পী সম্মাননার আয়োজন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, এবার বরিশাল জেলা ও মহানগর মিলিয়ে মোট ৬৩৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে জেলা এলাকায় ৫৯০টি এবং মহানগর এলাকায় ৪৭টি মণ্ডপ রয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে একটি বেশি। উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা জানান, বিভিন্ন মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে এবং অন্যান্য প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন। প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জী কুডু জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল সক্রিয় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

বাড়তি খরচে কমছে লাভ, বরিশালে সংকটে প্রতিমাশিল্পীরা

আপডেট সময় : ১২:২৫:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন বরিশালের প্রতিমাশিল্পীরা। তবে মাটি, খড়, বাঁশ ও পাটের মতো উপকরণের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে এবার তাদের লাভের খাতায় পড়েছে টান। ঐতিহ্য ও পূর্বপুরুষের পেশা টিকিয়ে রাখার তাগিদেই লোকসান বা নামমাত্র লাভে প্রতিমা তৈরি করতে হচ্ছে মৃৎশিল্পীদের।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশালের শ্রীশ্রী শংকর মঠে প্রতিমা তৈরি করতে আসা কার্তিক চন্দ্র পাল জানান, এবার তিনি ১২টি প্রতিমার কাজ নিয়েছেন, যা গত বছরের চেয়ে কম। বরিশাল নগরে পাঁচটি এবং বাবুগঞ্জের মাধবপাশায় একটি প্রতিমা তৈরি করছেন তিনি। তার সাথে আরও পাঁচজন শ্রমিক কাজ করছেন। কার্তিক পালের হিসেব অনুযায়ী, একটি প্রতিমা থেকে এক লাখ টাকা পাওয়া গেলে তার প্রায় ৯০ হাজার টাকাই খরচ হয়ে যায় উপকরণ ও শ্রমিকে। যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিলে লাভ থাকে খুবই সামান্য। তার বড় ভাই রণজিৎ পাল জানান, খরচ বাড়লেও পূজা কমিটিগুলোর বাজেট বাড়েনি। তাই অতিরিক্ত চাপ সামলাতে অনেক সময় একবেলা বা দুইবেলা খেয়েও কাজ করতে হচ্ছে তাদের।

প্রতিমা তৈরির উপকরণের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে কার্তিক পাল বলেন, গত বছর যে মাটির বস্তা ৩৫০ টাকায় কেনা যেত, এবার তা কিনতে হচ্ছে ৫০০ টাকায়। একইভাবে পাটের দাম ১৬০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২২০ টাকা, খড়ের নাড়া ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১০০ টাকা এবং চটের দাম ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা হয়েছে। অন্যান্য উপকরণের দামও একইভাবে ঊর্ধ্বমুখী। একই সংকটের কথা জানিয়েছেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠির মৃৎশিল্পী যোগেশ পাল। পূর্বপুরুষের এই ঐতিহ্যবাহী পেশা টিকিয়ে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান তিনি।

মৃৎশিল্পীদের এই কঠিন পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন চারুকলা বরিশালের সাবেক সভাপতি সুশান্ত ঘোষ। তিনি জানান, ঐতিহ্যবাহী এই পেশা টিকিয়ে রাখা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। মৃৎশিল্পীদের উৎসাহিত করতে প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্গোৎসবের ষষ্ঠী ও সপ্তমীতে প্রদর্শনী ও মৃৎশিল্পী সম্মাননার আয়োজন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, এবার বরিশাল জেলা ও মহানগর মিলিয়ে মোট ৬৩৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে জেলা এলাকায় ৫৯০টি এবং মহানগর এলাকায় ৪৭টি মণ্ডপ রয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে একটি বেশি। উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা জানান, বিভিন্ন মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে এবং অন্যান্য প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন। প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জী কুডু জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল সক্রিয় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin