মাইক্রোসফটসহ ৮ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড স্থগিত, তদন্তে ৯ বিশ্ববিদ্যালয়
- আপডেট সময় : ১০:১৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ কঠিন করে তুলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থান রক্ষা ও জালিয়াতি রোধের অংশ হিসেবে মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবিসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আটটি তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের গ্রিন কার্ডের আবেদন স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক্সচেঞ্জ ভিসার অপব্যবহারের অভিযোগে দেশটির শীর্ষ নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ বিষয়ে মাইক্রোসফটের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই ব্যবস্থার অপব্যবহারের ক্ষেত্রে মাইক্রোসফটের চেয়ে এগিয়ে কেউ নেই। ভ্যান্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রতিষ্ঠানটি ৬ হাজার মার্কিন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে, অথচ একই সময়ে তারা ৬ হাজার ৩০০টি এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসা এবং প্রায় ৩ হাজার কর্মীর জন্য গ্রিন কার্ডের সুবিধা নিয়েছে।
মার্কিন শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারলিং জানিয়েছেন, এখন থেকে নতুন এবং বিবেচনাধীন কোনো স্থায়ী লেবার সার্টিফিকেশন বা পিইআরএম (PERM) আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এই স্থগিতাদেশের আওতায় মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবি ছাড়াও রয়েছে কগনিজেন্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস এবং ক্যাপজেমিনির মতো বড় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলো। অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি ২০২৬ অর্থবছরে এইচ-ওয়ানবি ভিসার জন্য শীর্ষ আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ছিল আমাজন, টিসিএস, ইনফোসিস, অ্যাপল ও মাইক্রোসফট।
আইটি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠগুলোর ওপরও কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, এক্সচেঞ্জ-ভিজিটর ভিসার অপব্যবহারের অভিযোগে হার্ভارد, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড, ব্রাউন এবং এমআইটিসহ শীর্ষ ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। তবে প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা। তারা আশঙ্কা করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকের সংখ্যা কমে গেলে মার্কিন অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে মাইক্রোসফট। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, গত অর্থবছরে তাদের করা এইচ-ওয়ানবি আবেদনের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল মূলত তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদ্যমান কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের জন্য, নতুন করে কোনো বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য নয়। এছাড়া স্থানীয় ও বিদেশি সব কর্মীকে তারা সমান পারিশ্রমিক দিয়ে থাকে বলেও দাবি করেছে মাইক্রোসফট।



























