ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোববার ফের যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ঘোষণা ককরোচ পার্টির দীর্ঘ বিরতি ভেঙে নতুন গানে ফিরলেন কুসুম শিকদার সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী দিল্লি পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি পেলেন নেহা বোরা মোজাম্বিক থেকে ফেরার পথে বিমানে প্রাণ হারালেন বাঁশখালীর প্রবাসী সাজেক সড়কে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ডাক দশমিনায় মা ইলিশ শিকারের দায়ে আট জেলের কারাদণ্ড জনগণের কাছে স্থানীয় সরকার ফেরাতে চায় সরকার: মঈন খান; সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব রোববার সন্ধ্যায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে বিএনপি, ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ

সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ: দিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বৈঠক

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৮:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে বাণিজ্য ও কনস্যুলার-বিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (যৌথ কার্যনির্বাহী দল) বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। এর অংশ হিসেবে ৮ ও ৯ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বাণিজ্যবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকায় কনস্যুলার-বিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের আয়োজন করতে দুই দেশই উপযুক্ত তারিখ নির্ধারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যবিষয়ক বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল গত বুধবার নয়াদিল্লি রওনা হওয়ার কথা ছিল। এর আগে মঙ্গলবার তাদের যাওয়ার কথা থাকলেও এবং বৈঠকটি ৭ ও ৮ অক্টোবর নির্ধারণ করা হলেও লজিস্টিক বা যাতায়াত জটিলতার কারণে সময়সূচিতে এই পরিবর্তন আনা হয়। মূলত দুই দেশের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ পুনরায় সক্রিয় করতেই এই বৈঠকগুলোর আয়োজন করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, বাণিজ্য ও কনস্যুলার আলোচনার পাশাপাশি ট্রানজিট ও সীমান্ত বাণিজ্যের মতো বিষয়েও প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা জরুরি।

বাংলাদেশ চেয়েছিল যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের পরপরই দুই দেশের বাণিজ্যসচিবদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হোক। তবে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রানজিট ও সীমান্ত বাণিজ্যের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কর্মরত অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কমিটির বৈঠক শেষ হওয়ার পরই কেবল বাণিজ্যসচিব পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করা সম্ভব হবে। এদিকে ভিসাসংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে কনস্যুলার-বিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দুই দেশই ভিসাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের পথ খুঁজছে।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এবং মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ভারতের পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানায় ভারত, যদিও বাংলাদেশ গত মাসে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে অংশ নেয়নি।

একই সঙ্গে তারেক রহমানের ভারত সফরের দ্বিপক্ষীয় তারিখও elegance বা সময়সূচির কারণে এখনো চূড়ান্ত করা যায়নি। ভারতের ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচি এবং মোদির আন্তর্জাতিক সফরের কারণে এই সফরসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নভেম্বরের ১৬ থেকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত ফিলিপাইনে আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দেবেন এবং ডিসেম্বরে তাঁর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও বেলজিয়াম সফরের কথা রয়েছে। এছাড়া অক্টোবরে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন ও পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের ভারত সফরের ব্যস্ততা রয়েছে। অন্যদিকে তারেক রহমানেরও অক্টোবরে জাপান এবং নভেম্বরে তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের সূচি রয়েছে।

এদিকে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক এক্স পোস্টে জানানো হয়, বিদায়ী বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। তারা জনগণের মধ্যে বহুমুখী যোগাযোগের গুরুত্ব এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থবহ সহযোগিতা গড়ে তোলার আশা ব্যক্ত করেন। এর আগে গত রবিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ।

পেশাদার কূটনীতিক রিয়াজ হামিদুল্লাহ ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে দিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৯৫ ব্যাচের এই পররাষ্ট্র ক্যাডার কর্মকর্তা এর আগে নেদারল্যান্ডস ও শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার তিনি সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় জাতিসংঘের দপ্তরে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছেন। দিল্লিতে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন বর্তমান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। ভারত সরকার ইতোমধ্যে সিয়ামকে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিয়েছে এবং তিনি শিগগিরই সেখানে যোগ দেবেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ: দিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বৈঠক

আপডেট সময় : ০৯:৪৮:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে বাণিজ্য ও কনস্যুলার-বিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (যৌথ কার্যনির্বাহী দল) বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। এর অংশ হিসেবে ৮ ও ৯ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বাণিজ্যবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকায় কনস্যুলার-বিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের আয়োজন করতে দুই দেশই উপযুক্ত তারিখ নির্ধারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যবিষয়ক বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল গত বুধবার নয়াদিল্লি রওনা হওয়ার কথা ছিল। এর আগে মঙ্গলবার তাদের যাওয়ার কথা থাকলেও এবং বৈঠকটি ৭ ও ৮ অক্টোবর নির্ধারণ করা হলেও লজিস্টিক বা যাতায়াত জটিলতার কারণে সময়সূচিতে এই পরিবর্তন আনা হয়। মূলত দুই দেশের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ পুনরায় সক্রিয় করতেই এই বৈঠকগুলোর আয়োজন করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, বাণিজ্য ও কনস্যুলার আলোচনার পাশাপাশি ট্রানজিট ও সীমান্ত বাণিজ্যের মতো বিষয়েও প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা জরুরি।

বাংলাদেশ চেয়েছিল যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের পরপরই দুই দেশের বাণিজ্যসচিবদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হোক। তবে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রানজিট ও সীমান্ত বাণিজ্যের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কর্মরত অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কমিটির বৈঠক শেষ হওয়ার পরই কেবল বাণিজ্যসচিব পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করা সম্ভব হবে। এদিকে ভিসাসংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে কনস্যুলার-বিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দুই দেশই ভিসাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের পথ খুঁজছে।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এবং মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ভারতের পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানায় ভারত, যদিও বাংলাদেশ গত মাসে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে অংশ নেয়নি।

একই সঙ্গে তারেক রহমানের ভারত সফরের দ্বিপক্ষীয় তারিখও elegance বা সময়সূচির কারণে এখনো চূড়ান্ত করা যায়নি। ভারতের ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচি এবং মোদির আন্তর্জাতিক সফরের কারণে এই সফরসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নভেম্বরের ১৬ থেকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত ফিলিপাইনে আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দেবেন এবং ডিসেম্বরে তাঁর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও বেলজিয়াম সফরের কথা রয়েছে। এছাড়া অক্টোবরে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন ও পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের ভারত সফরের ব্যস্ততা রয়েছে। অন্যদিকে তারেক রহমানেরও অক্টোবরে জাপান এবং নভেম্বরে তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের সূচি রয়েছে।

এদিকে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক এক্স পোস্টে জানানো হয়, বিদায়ী বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। তারা জনগণের মধ্যে বহুমুখী যোগাযোগের গুরুত্ব এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থবহ সহযোগিতা গড়ে তোলার আশা ব্যক্ত করেন। এর আগে গত রবিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ।

পেশাদার কূটনীতিক রিয়াজ হামিদুল্লাহ ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে দিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৯৫ ব্যাচের এই পররাষ্ট্র ক্যাডার কর্মকর্তা এর আগে নেদারল্যান্ডস ও শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার তিনি সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় জাতিসংঘের দপ্তরে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছেন। দিল্লিতে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন বর্তমান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। ভারত সরকার ইতোমধ্যে সিয়ামকে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিয়েছে এবং তিনি শিগগিরই সেখানে যোগ দেবেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin