ঢাকা ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তরুণ শাহরুখের সংকটে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকর মুম্বাইয়ে বিক্ষোভস্থল থেকে আটক বলিউড অভিনেতা ইমরান খান সিরাজগঞ্জের চায়না বাঁধে বিকেল হলেই বাড়ছে প্রেমিক-প্রেমিকাদের ভিড় শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা হয়, ফিরতে চাইছেন তিনি: জি এম কাদের শ্রীমঙ্গলে বই পড়ে ল্যাপটপ পেলেন ৮ শিক্ষার্থী মক্কায় ওমরাহ পালন করে আবেগঘন পোস্ট অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের কাফকার সাহিত্য ও ক্ষমতার জটিল সমীকরণ: এক গভীর বিশ্লেষণ আওয়ামী লীগ নতুন ষড়যন্ত্র করতে পারে, সতর্ক থাকার আহ্বান টুকুর নবাবগঞ্জে নানা কর্মসূচিতে চড়ারহাট গণহত্যা দিবস পালন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস: কর্মকর্তাদের দিকে সন্দেহের আঙুল

বিক্ষোভের মুখে ফ্রান্সে ফি বাতিল, উত্তাল সহস্রাধিক স্কুল

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:১৪:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। স্নাতকপূর্ব দুই বছর মেয়াদি বিটিএস ও প্রেপা কোর্সের বার্ষিক ফি বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে উচ্চমাধ্যমিক বা বিএসি পাসের পর নেওয়া এসব কোর্সে শিক্ষার্থীদের কোনো বার্ষিক ফি দিতে হবে না। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফরে এই ঘোষণা দেন। তবে ফি বাতিলের এই সিদ্ধান্তের পরও দেশজুড়ে বিক্ষোভ থামেনি, বরং তা আরও ছড়িয়ে পড়েছে।

আগে এই কোর্সগুলোর জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর প্রায় ২৭০ ইউরো ফি দিতে হতো। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই সরকার ফি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলেও দেশজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের ১ হাজারের বেশি হাই স্কুলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন ১ হাজার ২০টিরও বেশি হাই স্কুল ধর্মঘটে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২২২টি স্কুল পুরোপুরি অবরুদ্ধ ছিল, যা গত ২৮ সেপ্টেম্বরের (১৮০টি স্কুল অবরুদ্ধ) চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি। বর্তমানে দেশটির প্রতি চারটি হাই স্কুলের একটিতে কোনো না কোনোভাবে বিক্ষোভ চলছে।

এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল প্রায় ১০ দিন আগে প্যারিসের উপকণ্ঠ ক্রেতেইয়ের সাঁ-দেকজুপেরি হাই স্কুলে। সেখান থেকে আন্দোলনটি দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং কয়েকটি এলাকায় শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েকটি বড় শহরে জ্বলন্ত ডাস্টবিন থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু স্কুলেও ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, আন্দোলনটি এখন নগরভিত্তিক সহিংসতার দিকে চলে যাচ্ছে। কেবল বৃহস্পতিবারই দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৯৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফরে জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬৫ জন স্কুলকর্মী এবং ১৭০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভ এখন চরম সহিংস গোষ্ঠীগুলোর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে。

তবে শিক্ষার্থীদের কিছু দাবির প্রতি সমর্থন রয়েছে স্কুল প্রধানদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নের। সংগঠনটির প্রধান ব্রুনো ববকিয়েভিচ বলেন, শিক্ষার্থীদের কিছু দাবির সঙ্গে তারা একমত। কিন্তু আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি অংশ শুধু ভাঙচুরে যুক্ত হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে আন্দোলনটি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ১৫আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ১৯

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

বিক্ষোভের মুখে ফ্রান্সে ফি বাতিল, উত্তাল সহস্রাধিক স্কুল

আপডেট সময় : ০২:১৪:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। স্নাতকপূর্ব দুই বছর মেয়াদি বিটিএস ও প্রেপা কোর্সের বার্ষিক ফি বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে উচ্চমাধ্যমিক বা বিএসি পাসের পর নেওয়া এসব কোর্সে শিক্ষার্থীদের কোনো বার্ষিক ফি দিতে হবে না। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফরে এই ঘোষণা দেন। তবে ফি বাতিলের এই সিদ্ধান্তের পরও দেশজুড়ে বিক্ষোভ থামেনি, বরং তা আরও ছড়িয়ে পড়েছে।

আগে এই কোর্সগুলোর জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর প্রায় ২৭০ ইউরো ফি দিতে হতো। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই সরকার ফি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলেও দেশজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের ১ হাজারের বেশি হাই স্কুলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন ১ হাজার ২০টিরও বেশি হাই স্কুল ধর্মঘটে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২২২টি স্কুল পুরোপুরি অবরুদ্ধ ছিল, যা গত ২৮ সেপ্টেম্বরের (১৮০টি স্কুল অবরুদ্ধ) চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি। বর্তমানে দেশটির প্রতি চারটি হাই স্কুলের একটিতে কোনো না কোনোভাবে বিক্ষোভ চলছে।

এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল প্রায় ১০ দিন আগে প্যারিসের উপকণ্ঠ ক্রেতেইয়ের সাঁ-দেকজুপেরি হাই স্কুলে। সেখান থেকে আন্দোলনটি দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং কয়েকটি এলাকায় শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েকটি বড় শহরে জ্বলন্ত ডাস্টবিন থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু স্কুলেও ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, আন্দোলনটি এখন নগরভিত্তিক সহিংসতার দিকে চলে যাচ্ছে। কেবল বৃহস্পতিবারই দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৯৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফরে জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬৫ জন স্কুলকর্মী এবং ১৭০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভ এখন চরম সহিংস গোষ্ঠীগুলোর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে。

তবে শিক্ষার্থীদের কিছু দাবির প্রতি সমর্থন রয়েছে স্কুল প্রধানদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নের। সংগঠনটির প্রধান ব্রুনো ববকিয়েভিচ বলেন, শিক্ষার্থীদের কিছু দাবির সঙ্গে তারা একমত। কিন্তু আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি অংশ শুধু ভাঙচুরে যুক্ত হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে আন্দোলনটি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ১৫আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ১৯

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh