ঢাকা ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাফকার সাহিত্য ও ক্ষমতার জটিল সমীকরণ: এক গভীর বিশ্লেষণ আওয়ামী লীগ নতুন ষড়যন্ত্র করতে পারে, সতর্ক থাকার আহ্বান টুকুর নবাবগঞ্জে নানা কর্মসূচিতে চড়ারহাট গণহত্যা দিবস পালন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস: কর্মকর্তাদের দিকে সন্দেহের আঙুল গেতাফে ম্যাচে বার্সেলোনার একাদশে জেসুস, রাফিনিয়াকে ঘিরে নতুন পরিকল্পনা বেলকুচিতে অটোভ্যান চালককে হত্যার পর লাশ বালুচাপা, ৪ দিন পর উদ্ধার ২০২৬ বিশ্বকাপে অনলাইনে সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষের শিকার আর্জেন্টিনা কুষ্টিয়ায় সার ডিলার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ এমপি আমির হামজার শেষ মুহূর্তে গোল করে ম্যানইউকে রুখে দিলো ১০ জনের টটেনহ্যাম রাঁচিতে ২৫০ রান তাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেকর্ড জয়

বেবিচকের দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে কমিটি গঠন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৪০:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে পদোন্নতি ও বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের নামে শত শত কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটি (একনেক)-এর সভায় তাদের তীব্র ভর্ৎসনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই দুই প্রকৌশলীর দুর্নীতি ও তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখতে যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের এই কমিটিকে আগামী ৪ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আলোচিত এই দুই প্রকৌশলী হলেন আমিনুল হাসিব এবং মইদুর রহমান মো. মওদুদ।

সূত্র জানায়, একনেক সভায় যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবায়নে ধীরগতি নিয়ে আলোচনার সময় প্রকৌশলী আমিনুল হাসিব ও মওদুদের বিষয়টি সামনে আসে। তাদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী এই তিন বিমানবন্দরের প্রকল্পে প্রক্রিয়াগত অনিয়মের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, এই তিন প্রকল্পেরই পরিচালক আমিনুল হাসিব।

এর আগে চলতি বছরের ১১ই মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেয়, যেখানে বলা হয় এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন নেই। এরপরই আমিনুল হাসিব তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান। তবে পরবর্তীতে দুদক থেকে পাঠানো প্রতিস্থাপন চিঠিতে দেখা যায়, তারা উভয়ই ২০২৫ সালের ২৭শে জানুয়ারি দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি। কক্সবাজার ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রকল্পে যথাক্রমে ১৫০ কোটি ও ২১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা চলছে।

মন্ত্রণালয় থেকে বেবিচককে একাধিকবার ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সর্বশেষ গত ১০ই সেপ্টেম্বরও তাগিদ দেয়া হয়েছিল। বেবিচকের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নতুন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন সেক্টর ৭-এর মহাপরিচালক মনজুরুল ইসলাম। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মোহাম্মদ সালাহ্‌ উদ্দীন ও নিশাত জাহান। কমিটি প্রকল্পের ব্যয় সংশোধন ও ক্রয় প্রক্রিয়ার বিলম্বের পাশাপাশি প্রকৌশলীদের পদোন্নতির বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে কক্সবাজার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত হওয়ার পর ২০২১ সালে রাজনৈতিক সুপারিশে আমিনুল হাসিব পুনরায় চাকরিতে নিয়মিত হয়েছিলেন। ২৯ সেপ্টেম্বর গঠিত এই তদন্ত কমিটির সদস্য সংখ্যা ২ জন থেকে বাড়িয়ে ৬ জন করার প্রস্তাবনা রয়েছে, যার আওতায় ৮১২ কোটি টাকার প্রকল্প এবং ১৯টি অনিয়ম খতিয়ে দেখা হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

বেবিচকের দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে কমিটি গঠন

আপডেট সময় : ০৫:৪০:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে পদোন্নতি ও বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের নামে শত শত কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটি (একনেক)-এর সভায় তাদের তীব্র ভর্ৎসনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই দুই প্রকৌশলীর দুর্নীতি ও তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখতে যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের এই কমিটিকে আগামী ৪ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আলোচিত এই দুই প্রকৌশলী হলেন আমিনুল হাসিব এবং মইদুর রহমান মো. মওদুদ।

সূত্র জানায়, একনেক সভায় যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবায়নে ধীরগতি নিয়ে আলোচনার সময় প্রকৌশলী আমিনুল হাসিব ও মওদুদের বিষয়টি সামনে আসে। তাদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী এই তিন বিমানবন্দরের প্রকল্পে প্রক্রিয়াগত অনিয়মের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, এই তিন প্রকল্পেরই পরিচালক আমিনুল হাসিব।

এর আগে চলতি বছরের ১১ই মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেয়, যেখানে বলা হয় এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন নেই। এরপরই আমিনুল হাসিব তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান। তবে পরবর্তীতে দুদক থেকে পাঠানো প্রতিস্থাপন চিঠিতে দেখা যায়, তারা উভয়ই ২০২৫ সালের ২৭শে জানুয়ারি দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি। কক্সবাজার ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রকল্পে যথাক্রমে ১৫০ কোটি ও ২১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা চলছে।

মন্ত্রণালয় থেকে বেবিচককে একাধিকবার ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সর্বশেষ গত ১০ই সেপ্টেম্বরও তাগিদ দেয়া হয়েছিল। বেবিচকের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নতুন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন সেক্টর ৭-এর মহাপরিচালক মনজুরুল ইসলাম। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মোহাম্মদ সালাহ্‌ উদ্দীন ও নিশাত জাহান। কমিটি প্রকল্পের ব্যয় সংশোধন ও ক্রয় প্রক্রিয়ার বিলম্বের পাশাপাশি প্রকৌশলীদের পদোন্নতির বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে কক্সবাজার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত হওয়ার পর ২০২১ সালে রাজনৈতিক সুপারিশে আমিনুল হাসিব পুনরায় চাকরিতে নিয়মিত হয়েছিলেন। ২৯ সেপ্টেম্বর গঠিত এই তদন্ত কমিটির সদস্য সংখ্যা ২ জন থেকে বাড়িয়ে ৬ জন করার প্রস্তাবনা রয়েছে, যার আওতায় ৮১২ কোটি টাকার প্রকল্প এবং ১৯টি অনিয়ম খতিয়ে দেখা হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin