ঢাকা ০২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মঠবাড়িয়ায় গরুর ব্যবসার বিরোধে ব্যবসায়ীকে হাতুড়িপেটার অভিযোগ এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার আদাবরে জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা ও গ্রেপ্তার ৪ কুষ্টিয়ায় পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত, সীমান্তে বিজিবির নজরদারি বৃদ্ধি প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে তাড়াহুড়োর কিছু নেই: দীনেশ ত্রিবেদী ইরানকে কোনো ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেননি, দাবি ট্রাম্পের ৩৩ ঘণ্টা পর মুক্ত সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষকরা বৃহস্পতিবার ফেনী সফরে প্রধানমন্ত্রী: দিনভর থাকছে নানা উন্নয়নমূলক কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বেড়েছে ২৪০ শতাংশ সুবর্ণচরে চোরাই গরু বিক্রির অভিযোগে যুবদল নেতা ফারুক বহিষ্কার

বিশ্বে প্রতি আটটি ক্যান্সারের একটি সংক্রমণের কারণে হচ্ছে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:০৩:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বিশ্বজুড়ে প্রতি আটটি ক্যান্সারের মধ্যে একটির জন্য দায়ী হতে পারে সংক্রমণ। অর্থাৎ প্রতি আট জন ক্যান্সার আক্রান্তের মধ্যে একজন সংক্রমণের কারণে এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি)-এর গবেষকদের নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষকদের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে বিশ্বে নতুন করে শনাক্ত হওয়া ১ কোটি ৯২ লাখ ক্যান্সার রোগীর মধ্যে প্রায় ২৩ লাখের ক্যান্সার সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। এসব ক্যান্সারের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের সঙ্গে মাত্র পাঁচটি সংক্রমণের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি (এইচ. পাইলোরি), যা দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। এছাড়া হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি), হেপাটাইটিস বি ও সি এবং এপস্টেইন-বার ভাইরাস (ইবিভি) অন্যতম।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বিশ্বের মোট সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের প্রায় ৭৭ শতাংশই এসব দেশের মানুষের মধ্যে রয়েছে। ভৌগোলিকভাবে পূর্ব এশিয়ায় সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্যান্সারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার, যা বিশ্বের মোট সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের ৪২ শতাংশ। প্রধানত এইচ. পাইলোরি ও হেপাটাইটিস বি-এর প্রভাবেই এই হার বেশি।

‘দ্য ল্যানসেট অনকোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় গবেষকরা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, নতুন প্রতিরোধমূলক টিকা তৈরিতে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনেক কৌশল ইতিমধ্যেই ব্যয় সাশ্রয়ী হিসেবে প্রমাণিত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সামাজিক, আর্থিক ও রাজনৈতিক বাধার কারণে এসব কৌশল অনেক অঞ্চলে যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয় না। গবেষকদের মতে, এইচপিভি টিকার হার বাড়ানো, নিরাপদ ইনজেকশন চর্চা, কনডম ও এইচআইভি প্রতিরোধের ওষুধ সহজলভ্য করা এবং জরায়ুমুখ ও পায়ুপথের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

২০২৪ সালে পশ্চিম ইউরোপে এইচপিভির সঙ্গে ২৪ হাজার ক্যান্সার আক্রান্তের ঘটনা যুক্ত ছিল, যা ওই অঞ্চলে সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের প্রধান কারণ। এইচপিভি একটি সাধারণ ভাইরাস যা ত্বক ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কোষে সংক্রমণ ঘটায়। এর ১৪টি উচ্চঝুঁকির ধরন রয়েছে যা কোষের ডিএনএ পরিবর্তন করে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রায় সব ঘটনাই এইচপিভির কারণে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জরায়ুমুখের ক্যান্সার নির্মূলে টিকাদান ও স্ক্রিনিংকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে। বৃটেনে ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী নারীদের জন্য স্ক্রিনিং এবং ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের এইচপিভি টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় একক কারণ ছিল এইচ. পাইলোরি, যার সঙ্গে প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার ক্যান্সারের ঘটনা যুক্ত ছিল। এর অধিকাংশই পাকস্থলীর ক্যান্সার। সাম্প্রতিক গবেষণায় আরও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, এইচ. পাইলোরি অন্ত্রের ক্যান্সারের প্রতি পাঁচটি ঘটনার মধ্যে একটির কারণ হতে পারে এবং এই ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি ৬০ শতাংশ বেশি থাকে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বে প্রতি আটটি ক্যান্সারের একটি সংক্রমণের কারণে হচ্ছে

আপডেট সময় : ১২:০৩:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে প্রতি আটটি ক্যান্সারের মধ্যে একটির জন্য দায়ী হতে পারে সংক্রমণ। অর্থাৎ প্রতি আট জন ক্যান্সার আক্রান্তের মধ্যে একজন সংক্রমণের কারণে এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি)-এর গবেষকদের নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষকদের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে বিশ্বে নতুন করে শনাক্ত হওয়া ১ কোটি ৯২ লাখ ক্যান্সার রোগীর মধ্যে প্রায় ২৩ লাখের ক্যান্সার সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। এসব ক্যান্সারের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের সঙ্গে মাত্র পাঁচটি সংক্রমণের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি (এইচ. পাইলোরি), যা দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। এছাড়া হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি), হেপাটাইটিস বি ও সি এবং এপস্টেইন-বার ভাইরাস (ইবিভি) অন্যতম।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বিশ্বের মোট সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের প্রায় ৭৭ শতাংশই এসব দেশের মানুষের মধ্যে রয়েছে। ভৌগোলিকভাবে পূর্ব এশিয়ায় সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্যান্সারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার, যা বিশ্বের মোট সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের ৪২ শতাংশ। প্রধানত এইচ. পাইলোরি ও হেপাটাইটিস বি-এর প্রভাবেই এই হার বেশি।

‘দ্য ল্যানসেট অনকোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় গবেষকরা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, নতুন প্রতিরোধমূলক টিকা তৈরিতে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনেক কৌশল ইতিমধ্যেই ব্যয় সাশ্রয়ী হিসেবে প্রমাণিত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সামাজিক, আর্থিক ও রাজনৈতিক বাধার কারণে এসব কৌশল অনেক অঞ্চলে যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয় না। গবেষকদের মতে, এইচপিভি টিকার হার বাড়ানো, নিরাপদ ইনজেকশন চর্চা, কনডম ও এইচআইভি প্রতিরোধের ওষুধ সহজলভ্য করা এবং জরায়ুমুখ ও পায়ুপথের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

২০২৪ সালে পশ্চিম ইউরোপে এইচপিভির সঙ্গে ২৪ হাজার ক্যান্সার আক্রান্তের ঘটনা যুক্ত ছিল, যা ওই অঞ্চলে সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের প্রধান কারণ। এইচপিভি একটি সাধারণ ভাইরাস যা ত্বক ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কোষে সংক্রমণ ঘটায়। এর ১৪টি উচ্চঝুঁকির ধরন রয়েছে যা কোষের ডিএনএ পরিবর্তন করে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রায় সব ঘটনাই এইচপিভির কারণে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জরায়ুমুখের ক্যান্সার নির্মূলে টিকাদান ও স্ক্রিনিংকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে। বৃটেনে ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী নারীদের জন্য স্ক্রিনিং এবং ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের এইচপিভি টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় একক কারণ ছিল এইচ. পাইলোরি, যার সঙ্গে প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার ক্যান্সারের ঘটনা যুক্ত ছিল। এর অধিকাংশই পাকস্থলীর ক্যান্সার। সাম্প্রতিক গবেষণায় আরও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, এইচ. পাইলোরি অন্ত্রের ক্যান্সারের প্রতি পাঁচটি ঘটনার মধ্যে একটির কারণ হতে পারে এবং এই ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি ৬০ শতাংশ বেশি থাকে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin