মির্জাগঞ্জে সংস্কারের তিন মাসেই ফের চলাচলের অযোগ্য আঞ্চলিক সড়ক
- আপডেট সময় : ১০:০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

বরগুনা সড়ক বিভাগের অধীনে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩০০ ফুট অংশ মেরামতের মাত্র তিন মাসের মাথায় ফের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সুবিদখালী সরকারি কলেজ সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকার এই সড়কটি এখন গর্ত আর কাদার রাজত্বে পরিণত হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চলতি বছরের জুন মাসে প্রায় ৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয়ে বাকেরগঞ্জ ও বরগুনার সংযোগকারী এই সড়কটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। সরকারি দপ্তরের দাবি, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার কারণেই পিচ ও খোয়া উঠে সড়কটির এমন বেহাল দশা হয়েছে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি গভীর রাতে লোকচক্ষুর আড়ালে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ শেষ করেছিল। জমে থাকা কাদা ও পানির ওপর তড়িঘড়ি করে পিচঢালাই দেওয়ার ফলে কয়েকদিনের ব্যবধানেই গাড়ির চাকার ঘর্ষণে তা উঠে গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির বর্তমান অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে একে পাকা রাস্তা হিসেবে চেনার উপায় নেই। পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে এটি পুরোপুরি কাঁচা কর্দমাক্ত রাস্তায় রূপ নিয়েছে। বড় বড় গর্তে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় পথচারীদের চলাচলের পরিবেশও নষ্ট হয়েছে।
এ বিষয়ে সুবিদখালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সাব্বির হোসেন ফরাজী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে প্রধান সড়কের এমন জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে আসা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি অবিলম্বে রাস্তাটি টেকসইভাবে মেরামতের দাবি জানান। সাওদা ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী সুলতান আহমেদ জানান, বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়, যা দেখে মহাসড়ক নাকি গ্রামের কাঁচা পথ তা বোঝার উপায় থাকে না।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দলনেতা এবং স্থানীয় বাস কাউন্টারের মালিক জিএম রাব্বি মল্লিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যস্ততম এই এলাকায় ৩০০ ফুট রাস্তার বেহাল দশা হলেও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেই। রাতের অন্ধকারে নামমাত্র সংস্কারের কারণে তা কয়েকদিনও টেকেনি।
পরিস্থিতি স্বীকার করে বরগুনা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান জানান, সাধারণ মানুষের সাময়িক চলাচল স্বাভাবিক করতে আগামী দু-একদিনের মধ্যে গর্তগুলোতে ইট ফেলে রাস্তাটি উপযোগী করা হবে। পরবর্তীতে বৃষ্টিপাত কমলে ব্লক ইট (HBB) দিয়ে সড়কটি নতুন করে সংস্কার করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।



























