জানুয়ারিতে সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপনের পরিকল্পনা
- আপডেট সময় : ১১:১৩:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর ভিত্তিতে বিলটি আনবে। তিনি আরও জানান, সংবিধানের মৌলিক বিষয়গুলোতে কোনো সংশোধন আনা হলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের প্রস্তাবনা বা ১৪২ অনুচ্ছেদের মতো সাংবিধানিক বিধানে পরিবর্তন আনা হলে গণভোটের বাধ্যবাধকতা থাকবে।
গণভোটের ধরন সম্পর্কে মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, সাংবিধানিক গণভোট ও সাধারণ আইনের বিষয়ে গণভোট—এই দুই ধরনের গণভোট হতে পারে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদে থাকা গণভোটের বিধান বাতিল করা হয়েছিল, তবে ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে সেই বিধান আবার ফিরে এসেছে। এখন থেকে যেসব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক, সেগুলো রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে জনগণের মতামতের জন্য পাঠানো হবে এবং গণভোটের অনুমোদন পাওয়ার পরই রাষ্ট্রপতি তাতে স্বাক্ষর করবেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভবিষ্যতে কোনো সংসদ যাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে না পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব এসেছে। ঐকমত্য কমিশন এবং বিএনপি উভয়ই এই প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছে। এছাড়া, ভবিষ্যতে যেকোনো সাংবিধানিক বিধান পরিবর্তন করতে চাইলেও সেটি গণভোটের আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সংবিধান সংশোধনের কাজে বিরোধী দলকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা কমিটিতে যোগ দিলে তাদের বক্তব্য ও প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হবে। যদিও তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষমতা কমিটির নেই, তবুও কমিটির পক্ষ থেকে বারবার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে জুলাই জাতীয় সনদ এবং নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।


























