দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি
- আপডেট সময় : ০৬:৫৪:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখলের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পুলিশের উপস্থিতিতে মধ্যরাতে লুটপাট, কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখল নিয়ে স্থানীয় বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বে অর্ধশতাধিক আহত হওয়া এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয় ভাঙচুরের মতো ঘটনাগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। বরং এগুলো সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য বড় ধরনের অশনিসংকেত। এক বিবৃতিতে টিআইবি এসব ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা এবং সারাদেশে দলের ভেতরে আত্মশুদ্ধি অভিযানের আহ্বান জানিয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এ লুটপাটের ঘটনা সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের একজন সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং পুলিশের সামনে অর্ধশত বছর ধরে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে কী ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে? জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে চোরতন্ত্রের পতনের পর ক্ষমতায় আসা দলের নেতাকর্মীদের এমন বেপরোয়া আচরণ দেশবাসীর কাছে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, গত আগস্ট থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের ব্যাপক অভিযোগ উঠছে। সায়দাবাদ, মহাখালী, গাবতলীর বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহালসহ ইন্টারনেট ও বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশ অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের একজন মন্ত্রী চাঁদাবাজিকে 'সমঝোতার লেনদেন' হিসেবে আখ্যা দিয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই অপতৎপরতা আরও স্বাভাবিক রূপ পেয়েছে, যা সরকারের জন্য অশনিসংকেত।
টিআইবির মতে, দলীয় নেতাকর্মীদের অপতৎপরতায় অনেক ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কঠোর প্রতিরোধমূলক কৌশলের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া, ক্ষমতার অপব্যবহারের সাথে জড়িতদের সরকারি দলের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এর ফলে দেশে দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, যার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। অবিলম্বে প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কর্তৃত্ববাদি চোরতন্ত্রের পতনের পর বিজয়ের দাবিদার হিসেবে আগষ্ট ২০২৪ থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে সারাদেশে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের ব্যাপক অভিযোগ ওঠে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তৃণমূলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দলটির অনেক নেতাকর্মী বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন
কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখল নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ও ক্রিয়েটিভ স্টুডিও ভাংচুরের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং ২০২৪ এর আগস্টের পর থেকে সংঘটিত ঘটনাবলীর ধারাবাহিকতা মাত্র। যা সরকারের যাবতীয় ভালো উদ্যোগ ও সদিচ্ছাকে ম্লান করে জনগণের কাছে নেতিবাচক বার্



























