ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিলাইছড়িতে বিজিবির হেফাজত থেকে ২ ভারতীয়কে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি বিশু, সম্পাদক ওয়াহেদ খালাসের পরও ৮ বছর জেল, ইব্রাহিমকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রুল অপতথ্য ও এআইয়ের অপব্যবহার রোধে বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২০৩৬ জন বোয়িং কেনায় কোনো গোপন এজেন্ডা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এশিয়ান গেমসে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ শেরপুরে ব্রক্ষপুত্র নদ থেকে যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার লালমোহনে দুর্গোৎসব ও সরকারি সেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসনের সভা মিয়ানমারে বাজারে বিমান হামলা, নিহত অন্তত ৩৩

ভালো কিংবা মন্দ, সরকারের পাঁচ বছরের ‘চুক্তি’ মেনেই ধৈর্য ধরার পরামর্শ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:১৩:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



একটি চায়ের দোকানের আড্ডা থেকে উঠে এসেছে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও সরকারের কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের নানামুখী প্রতিক্রিয়া। বিসমিল্লাহ টি-স্টলে বসে মোতালেব সাহেব যখন বাজারে ব্রয়লার মুরগি আর কাঁচামরিচের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন, তখন পাড়ার প্রবীণ কুদ্দুস ভাই ও তরুণ রফিকের যুক্তিপূর্ণ আলোচনা তাকে কিছুটা শান্ত করে।

মোতালেব সাহেবের অভিযোগ ছিল, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার সাত-আট মাস পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের পকেট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। তার মতে, এত দিনে অন্তত দৃশ্যমান পরিবর্তন আসা উচিত ছিল। তবে তার এই অধৈর্য মনোভাবের জবাবে কুদ্দুস ভাই একটি চমৎকার উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, নতুন বউ ঘরে আনলেও তার রান্না ও সংসারের নিয়ম বুঝতে ছয়-সাত মাস লেগে যায়। আর একটি আস্ত দেশ চালানো আরও জটিল বিষয়। সরকার কোনো ফাঁকা জায়গায় নতুন ভবন তুলছে না, বরং একটি জরাজীর্ণ, ইঁদুর-তেলাপোকায় ভরা পুরোনো ভাড়া বাড়িতে উঠেছে, যেখানে আগের বাসিন্দারা সব কিছু নষ্ট করে রেখে গেছে। এখন চলছে সেই জঞ্জাল পরিষ্কার ও ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর কাজ।

এই আলোচনায় সায় দিয়ে তরুণ রফিক যোগ করে, বাংলাদেশিরা বড্ড বেশি অধৈর্য। তারা চায় আজ শপথ নিয়ে কাল সকালেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাক। সরকারের অবস্থা এখন পরীক্ষার হলের সেই শিক্ষার্থীর মতো, যাকে নিজের পরীক্ষা দেওয়ার আগে আগের শিক্ষার্থীর রেখে যাওয়া হিজিবিজি দাগ রাবার দিয়ে মুছতে হচ্ছে।

কুদ্দুস ভাই আরও উল্লেখ করেন, এই সাত-আট মাসে সরকার যে কিছুই করেনি তা নয়। এখন আগের মতো বুক ফুলিয়ে কেউ চুরির কথা বলতে পারছে না, ডিজিটাল সিস্টেমে স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা চলছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, দেশের রাজনীতির অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী—সরকার সঠিক করুক আর বেঠিক, তাদের মেয়াদ কিন্তু পাঁচ বছরই। এটি একটি ‘নন-রিফান্ডেবল পলিসি’র মতো, যেখানে ‘মানি ব্যাক গ্যারান্টি’ নেই। তারা যদি দেশকে সিঙ্গাপুর বানিয়ে ফেলে তাও পাঁচ বছর থাকবে, আর অর্থনীতিকে আইসিইউতে পাঠালেও মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সরানো যাবে না।

এই যুক্তি শোনার পর মোতালেব সাহেবের রাগ কিছুটা কমে আসে। তিনি বুঝতে পারেন, জমে থাকা জঞ্জাল জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। রফিক হাসিমুখে মন্তব্য করে, সাত-আট মাসে কেবল সিনেমার ট্রেইলার রিলিজ হয়েছে, পুরো সিনেমা এখনো বাকি। তাই দর্শক হিসেবে প্রেশার না বাড়িয়ে ধৈর্য ধরাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। শেষ পর্যন্ত মোতালেব সাহেব মুচকি হেসে দোকানি জামালকে আরেক কাপ কড়া লাল চা দিতে বলেন এবং মেনে নেন যে, পাঁচ বছরের এই সিনেমার বাকি চার বছর লাল চা খেয়েই পার করতে হবে।

বিসমিল্লাহ টি-স্টলের বেঞ্চিতে বসে মোতালেব সাহেবের মেজাজ আজ ৪৪০ ভোল্ট। বাজারে গিয়ে ব্রয়লার মুরগি আর কাঁচামরিচের দাম শুনে তার মনে হয়েছে, দেশের মুরগিগুলো বোধহয় আজকাল সোনার ডিম পাড়ছে আর কৃষকরা মরিচের গাছে ইউরিয়ার বদলে সোনাদানা ছিটাচ্ছে। দোকানে এসেই তিনি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে সরকারের মুণ্ডুপাত শুরু করলেন, ‘আরে ভাই, এই সরকার আস

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

ভালো কিংবা মন্দ, সরকারের পাঁচ বছরের ‘চুক্তি’ মেনেই ধৈর্য ধরার পরামর্শ

আপডেট সময় : ০৬:১৩:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একটি চায়ের দোকানের আড্ডা থেকে উঠে এসেছে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও সরকারের কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের নানামুখী প্রতিক্রিয়া। বিসমিল্লাহ টি-স্টলে বসে মোতালেব সাহেব যখন বাজারে ব্রয়লার মুরগি আর কাঁচামরিচের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন, তখন পাড়ার প্রবীণ কুদ্দুস ভাই ও তরুণ রফিকের যুক্তিপূর্ণ আলোচনা তাকে কিছুটা শান্ত করে।

মোতালেব সাহেবের অভিযোগ ছিল, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার সাত-আট মাস পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের পকেট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। তার মতে, এত দিনে অন্তত দৃশ্যমান পরিবর্তন আসা উচিত ছিল। তবে তার এই অধৈর্য মনোভাবের জবাবে কুদ্দুস ভাই একটি চমৎকার উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, নতুন বউ ঘরে আনলেও তার রান্না ও সংসারের নিয়ম বুঝতে ছয়-সাত মাস লেগে যায়। আর একটি আস্ত দেশ চালানো আরও জটিল বিষয়। সরকার কোনো ফাঁকা জায়গায় নতুন ভবন তুলছে না, বরং একটি জরাজীর্ণ, ইঁদুর-তেলাপোকায় ভরা পুরোনো ভাড়া বাড়িতে উঠেছে, যেখানে আগের বাসিন্দারা সব কিছু নষ্ট করে রেখে গেছে। এখন চলছে সেই জঞ্জাল পরিষ্কার ও ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর কাজ।

এই আলোচনায় সায় দিয়ে তরুণ রফিক যোগ করে, বাংলাদেশিরা বড্ড বেশি অধৈর্য। তারা চায় আজ শপথ নিয়ে কাল সকালেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাক। সরকারের অবস্থা এখন পরীক্ষার হলের সেই শিক্ষার্থীর মতো, যাকে নিজের পরীক্ষা দেওয়ার আগে আগের শিক্ষার্থীর রেখে যাওয়া হিজিবিজি দাগ রাবার দিয়ে মুছতে হচ্ছে।

কুদ্দুস ভাই আরও উল্লেখ করেন, এই সাত-আট মাসে সরকার যে কিছুই করেনি তা নয়। এখন আগের মতো বুক ফুলিয়ে কেউ চুরির কথা বলতে পারছে না, ডিজিটাল সিস্টেমে স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা চলছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, দেশের রাজনীতির অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী—সরকার সঠিক করুক আর বেঠিক, তাদের মেয়াদ কিন্তু পাঁচ বছরই। এটি একটি ‘নন-রিফান্ডেবল পলিসি’র মতো, যেখানে ‘মানি ব্যাক গ্যারান্টি’ নেই। তারা যদি দেশকে সিঙ্গাপুর বানিয়ে ফেলে তাও পাঁচ বছর থাকবে, আর অর্থনীতিকে আইসিইউতে পাঠালেও মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সরানো যাবে না।

এই যুক্তি শোনার পর মোতালেব সাহেবের রাগ কিছুটা কমে আসে। তিনি বুঝতে পারেন, জমে থাকা জঞ্জাল জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। রফিক হাসিমুখে মন্তব্য করে, সাত-আট মাসে কেবল সিনেমার ট্রেইলার রিলিজ হয়েছে, পুরো সিনেমা এখনো বাকি। তাই দর্শক হিসেবে প্রেশার না বাড়িয়ে ধৈর্য ধরাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। শেষ পর্যন্ত মোতালেব সাহেব মুচকি হেসে দোকানি জামালকে আরেক কাপ কড়া লাল চা দিতে বলেন এবং মেনে নেন যে, পাঁচ বছরের এই সিনেমার বাকি চার বছর লাল চা খেয়েই পার করতে হবে।

বিসমিল্লাহ টি-স্টলের বেঞ্চিতে বসে মোতালেব সাহেবের মেজাজ আজ ৪৪০ ভোল্ট। বাজারে গিয়ে ব্রয়লার মুরগি আর কাঁচামরিচের দাম শুনে তার মনে হয়েছে, দেশের মুরগিগুলো বোধহয় আজকাল সোনার ডিম পাড়ছে আর কৃষকরা মরিচের গাছে ইউরিয়ার বদলে সোনাদানা ছিটাচ্ছে। দোকানে এসেই তিনি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে সরকারের মুণ্ডুপাত শুরু করলেন, ‘আরে ভাই, এই সরকার আস

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin