ঢাকা ০২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা, অস্ত্র নিয়ে হামলা ও ভাঙচুর সায়েন্সল্যাবে ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, যান চলাচল বিঘ্নিত কটিয়াদীতে ডিউটিরত অবস্থায় ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশ কনস্টেবল আহত দুর্ঘটনা না ঘটলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: জ্বালানি মন্ত্রী নিজেদের চাঁদাবাজদের সামলাবেন কি, প্রশ্ন জামায়াত আমীরের রাজশাহীতে মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা, দোকানে পেট্রল বোমা হামলা দক্ষিণ আফ্রিকার পানশালায় বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ১৭ সন্ত্রাসে মদদ দিলে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সংলাপ বন্ধের হুঁশিয়ারি রাজনাথের ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদে সায়েন্সল্যাবে ডিসিইউ শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবার বৈঠকে রুশ ও জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

টেনেসিতে ২০০ বছর পর নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:২৪:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই শতাব্দীরও বেশি সময় পর এই প্রথম কোনো নারী কয়েদির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক নামের ওই নারীর সাজা কার্যকর করার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

১৯৯৫ সালের একটি রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এই মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছিল। সে সময় ১৮ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক তার তৎকালীন প্রেমিকের সঙ্গে মিলে প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে ১৯ বছর বয়সী তরুণী কলিন স্লেমারকে নির্মমভাবে নির্যাতন ও হত্যা করেন। নিহতের বুকে শয়তানের প্রতীক খোদাই করে বিকৃত অবস্থায় তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছিল, যা তৎকালীন সময়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই হত্যাকাণ্ডে বিচারিক আদালত পাইককে মৃত্যুদণ্ড দিলেও তার সহযোগীকে প্যারোলে মুক্তির সুযোগসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং সব ধরনের আপিল খারিজ হওয়ার পর সম্প্রতি টেনেসি সুপ্রিম কোর্ট ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ডের দিন চূড়ান্ত করে।

যুক্তরাষ্ট্রে নারী কয়েদিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ১৯৭০ সালের পর থেকে দেশটিতে ১ হাজার ৬৬৩ জন পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেও নারীদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা মাত্র ১৮। তবে ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীরা তার প্রাণভিক্ষার আবেদন জানিয়েছেন। তাদের দাবি, শৈশবে চরম যৌন নির্যাতন, অবহেলা এবং ধর্ষণের কারণে গভীর মনস্তাত্ত্বিক ট্রমার শিকার ছিলেন পাইক। পরবর্তী সময়ে কারাগারে তার বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) ধরা পড়ে। আইনজীবীদের অভিযোগ, পাইকের সাবেক আইনজীবী বিচারের সময় জুরিবোর্ডের সামনে এসব গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক তথ্য সঠিকভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরাও এই সাজা স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে নিহতের মা মে মার্টিনেজ অবিলম্বে এই দণ্ড কার্যকরের পক্ষে অনড় অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মেয়ের আত্মার শান্তির জন্য এই বিচার নিজের চোখে দেখা তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এখন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বিল লি যদি শেষ মুহূর্তে তাকে ক্ষমা না করেন, তবে নির্ধারিত দিনেই ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

টেনেসিতে ২০০ বছর পর নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি

আপডেট সময় : ১১:২৪:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই শতাব্দীরও বেশি সময় পর এই প্রথম কোনো নারী কয়েদির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক নামের ওই নারীর সাজা কার্যকর করার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

১৯৯৫ সালের একটি রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এই মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছিল। সে সময় ১৮ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক তার তৎকালীন প্রেমিকের সঙ্গে মিলে প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে ১৯ বছর বয়সী তরুণী কলিন স্লেমারকে নির্মমভাবে নির্যাতন ও হত্যা করেন। নিহতের বুকে শয়তানের প্রতীক খোদাই করে বিকৃত অবস্থায় তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছিল, যা তৎকালীন সময়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই হত্যাকাণ্ডে বিচারিক আদালত পাইককে মৃত্যুদণ্ড দিলেও তার সহযোগীকে প্যারোলে মুক্তির সুযোগসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং সব ধরনের আপিল খারিজ হওয়ার পর সম্প্রতি টেনেসি সুপ্রিম কোর্ট ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ডের দিন চূড়ান্ত করে।

যুক্তরাষ্ট্রে নারী কয়েদিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ১৯৭০ সালের পর থেকে দেশটিতে ১ হাজার ৬৬৩ জন পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেও নারীদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা মাত্র ১৮। তবে ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীরা তার প্রাণভিক্ষার আবেদন জানিয়েছেন। তাদের দাবি, শৈশবে চরম যৌন নির্যাতন, অবহেলা এবং ধর্ষণের কারণে গভীর মনস্তাত্ত্বিক ট্রমার শিকার ছিলেন পাইক। পরবর্তী সময়ে কারাগারে তার বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) ধরা পড়ে। আইনজীবীদের অভিযোগ, পাইকের সাবেক আইনজীবী বিচারের সময় জুরিবোর্ডের সামনে এসব গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক তথ্য সঠিকভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরাও এই সাজা স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে নিহতের মা মে মার্টিনেজ অবিলম্বে এই দণ্ড কার্যকরের পক্ষে অনড় অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মেয়ের আত্মার শান্তির জন্য এই বিচার নিজের চোখে দেখা তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এখন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বিল লি যদি শেষ মুহূর্তে তাকে ক্ষমা না করেন, তবে নির্ধারিত দিনেই ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin