জাতিসংঘে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে জাইমা রহমানের নতুন দায়িত্ব
- আপডেট সময় : ১০:০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বরত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে লিগ্যাল অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন। সভাপতির কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের তালিকায় তাঁর নাম ও পদবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। খলিলুর রহমান ২ জুন ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৯০টি বৈধ ভোটের মধ্যে ৯৯টি ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ৮ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর এক বছরের মেয়াদ শুরু হয়েছে।
লিগ্যাল অফিসার হিসেবে জাইমা রহমানের মূল কাজ হবে সভাপতিকে বিভিন্ন কার্যক্রমের আইনি দিক সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া। এর মধ্যে সাধারণ পরিষদের বৈঠকে কোনো প্রস্তাব কীভাবে উত্থাপন করা হবে, কোনো দেশ ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তুললে কীভাবে তা বিবেচনা করা হবে কিংবা কোনো সংশোধনী গ্রহণযোগ্য কি না—এসব বিষয়ে তিনি সভাপতিকে আইনি পরামর্শ দিতে পারেন। ফিলিস্তিন ও ইউক্রেনের মতো স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সাধারণ পরিষদে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের সময়ও সভাপতির জন্য আইনি দিকটি গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ সনদ, সাধারণ পরিষদের কার্যপ্রণালি এবং অতীতের নজির বিবেচনায় নিয়ে সভাপতির সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা এই দায়িত্বের অংশ। এছাড়া কোনো প্রস্তাব বা রেজুলেশন প্রচলিত নিয়ম কিংবা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, কোনো বাজেটসংক্রান্ত বিষয়ে অন্য কোনো কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন কি না—এসব বিষয়ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা হতে পারে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মুন্সি ফয়েজ আহমেদের মতে, সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমান যেসব দায়িত্ব পালন করবেন, সেগুলোর আইনি দিক দেখভাল করাই জাইমা রহমানের অন্যতম কাজ হবে। লিগ্যাল অফিসারের কাজ শুধু আইনি পরামর্শ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জাতিসংঘের মূল আইন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট আইনি সংস্থার সঙ্গে সভাপতির কার্যালয়ের সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি বা আইনি বিষয়ে সভাপতির বক্তব্যের খসড়া তৈরিতে সহায়তাও এই দায়িত্বের অংশ হতে পারে। অর্থাৎ, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যক্রম যাতে জাতিসংঘের সনদ, বিধি ও প্রচলিত রীতিনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে, সে বিষয়ে আইনি সহায়তা দেওয়াই লিগ্যাল অফিসারের মূল দায়িত্ব।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে বর্তমানে ৪০ সদস্যের একটি টিমের তথ্য রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের ছয়জনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। বাংলাদেশিদের মধ্যে জাইমা রহমান ছাড়া রয়েছেন কূটনীতিক মো. আব্দুল আলিম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোয়াজে্জম হোসেন, মফিজুল ইসলাম, জাকির আহমেদ এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা। মুন্সি ফয়েজ আহমেদের মতে, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে জাতিসংঘের স্থায়ী কর্মীদের পাশাপাশি সভাপতির এখতিয়ার অনুযায়ী কিছু ব্যক্তিকে যুক্ত করা যায়, যেখানে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় থাকে।
ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানকে ব্যারিস্টার এবং আইন ও নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন ও রাজনীতি বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ‘দ্য অনারেবল সোসাইটি অব দ্য ইনার টেম্পল’ থেকে ব্যারিস্টারি করার যোগ্যতার স্বীকৃতি পেয়েছেন। বাংলাদেশেও তিনি তালিকাভুক্ত অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করছেন বলে ওই ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে। জাইমা রহমানের অভিজ্ঞতার মধ্যে যুক্তরাজ্যে আবাসন, জনকল্যাণ ও শ্রম আইন নিয়ে কাজের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে আইনি পরামর্শ ও জনসংযোগ এবং সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষা আইনে বিনামূল্যে আইনি সেবা দেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক জননীতি, ডিজিটাল নিরাপত্তা, বিচার পাওয়ার অধিকার, শিক্ষা ও লিঙ্গসমতাসহ বিভিন্ন বিষয়েও তাঁর কাজের আগ্রহের কথা তুলে ধরা হয়েছে। মুন্সি ফয়েজ আহমেদের মতে, এই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা জাইমা রহমানের রয়েছে এবং সভাপতির আইনি বিষয়গুলোতে সহায়তা করতে তিনি একটি টিমের অংশ হিসেবে কাজ করবেন।



























