ঢাকা ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকার বা দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে রেহাই নেই: মাহদী আমিন ভোলায় মহিষ চুরি রোধে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি কুমিল্লায় ছাত্রদলের মিছিলে কিশোর গ্যাং লিডার তানজিম, ভিডিও ভাইরাল জাসদ কার্যালয়ে অভিযান: আটক ২৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ নেপালের হিমলুং পর্বতে তুষারধস, ১০ পর্বতারোহী ও গাইড নিখোঁজ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত বৃটিশ বিমানঘাঁটির কাছে বাড়ি খালি করল পুলিশ বিএনপি চাঁদাবাজ দল—এই ঢালাও অভিযোগের মানে নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গবেষণা ও উদ্ভাবনে সহযোগিতা নিয়ে ঢাবি-বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধিদলের বৈঠক মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক দখল করতে দেওয়া হবে না: আসিফ মাহমুদ

নানা সংকটে বান্দরবানের পর্যটন শিল্প, ব্যাহত হচ্ছে বিনোদন ব্যবস্থা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫: ৫৮। আজ ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। পার্বত্য জেলা বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর লাখো পর্যটক এখানে ভিড় করেন। নীলাচল, মেঘলা, শৈলপ্রপাত, নীলগিরি, চিম্বুক, কেওক্রাডং, বগা লেক, রিঝুক ঝরনা, আলীর সুড়ঙ্গ কিংবা দেবতাখুমের মতো দর্শনীয় স্থানগুলো পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। তবে পর্যটন বিকাশের স্লোগান থাকলেও বাস্তবে এই শিল্পে রয়েছে নানা সংকট, যার ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

পর্যটকদের অভিযোগ, দিনের বেলা বিভিন্ন স্পট ঘুরে সময় কাটানো গেলেও সূর্যাস্তের পর শহরে তাদের সময় কাটানোর মতো পরিকল্পিত কোনো বিনোদন কেন্দ্র নেই। যারা দীর্ঘমেয়াদি সফরে গহীন পাহাড়ে রাত কাটান, তারা প্রকৃতির সান্নিধ্য পেলেও একদিন বা স্বল্প সময়ের জন্য আসা পর্যটকরা সন্ধ্যার পর হোটেল বা রেস্তোরাঁর চার দেয়ালে বন্দি থাকতে বাধ্য হন। সান্ধ্যকালীন বিনোদনের সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা ভ্রমণের পূর্ণ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতির জন্য সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করছেন। বান্দরবান হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন জানান, পর্যটক ও স্থানীয় শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য কোনো মানসম্মত অ্যামিউজমেন্ট পার্ক বা ওয়াকওয়ে নেই। পৌরসভা পরিচালিত পার্কটি অত্যন্ত ছোট। তিনি জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে আধুনিক পার্ক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যকার টানাপোড়েন ও সমন্বয়হীনতাই উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে অংচ মং মারমা বলেন, বান্দরবান শহরকে ঘিরে একটি মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানান। বান্দরবানের ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, নৃত্য-গীত ও খাদ্যাভ্যাসকে কেন্দ্র করে উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চ ও হস্তশিল্পের বাজার গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে পর্যটকদের একঘেয়েমি কাটবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।

পৌর কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও বান্দরবান পৌর প্রশাসক এসএম মনজুরুল হক বলেন, বড় মাপের এই সুবিধা নিশ্চিত করা এককভাবে পৌরসভার পক্ষে সম্ভব নয়। পার্বত্যমন্ত্রী ও জেলা পরিষদ যৌথভাবে উদ্যোগ নিলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। বিশ্ব পর্যটন দিবসে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে বান্দরবানের পর্যটন অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

নানা সংকটে বান্দরবানের পর্যটন শিল্প, ব্যাহত হচ্ছে বিনোদন ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫: ৫৮। আজ ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। পার্বত্য জেলা বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর লাখো পর্যটক এখানে ভিড় করেন। নীলাচল, মেঘলা, শৈলপ্রপাত, নীলগিরি, চিম্বুক, কেওক্রাডং, বগা লেক, রিঝুক ঝরনা, আলীর সুড়ঙ্গ কিংবা দেবতাখুমের মতো দর্শনীয় স্থানগুলো পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। তবে পর্যটন বিকাশের স্লোগান থাকলেও বাস্তবে এই শিল্পে রয়েছে নানা সংকট, যার ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

পর্যটকদের অভিযোগ, দিনের বেলা বিভিন্ন স্পট ঘুরে সময় কাটানো গেলেও সূর্যাস্তের পর শহরে তাদের সময় কাটানোর মতো পরিকল্পিত কোনো বিনোদন কেন্দ্র নেই। যারা দীর্ঘমেয়াদি সফরে গহীন পাহাড়ে রাত কাটান, তারা প্রকৃতির সান্নিধ্য পেলেও একদিন বা স্বল্প সময়ের জন্য আসা পর্যটকরা সন্ধ্যার পর হোটেল বা রেস্তোরাঁর চার দেয়ালে বন্দি থাকতে বাধ্য হন। সান্ধ্যকালীন বিনোদনের সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা ভ্রমণের পূর্ণ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতির জন্য সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করছেন। বান্দরবান হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন জানান, পর্যটক ও স্থানীয় শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য কোনো মানসম্মত অ্যামিউজমেন্ট পার্ক বা ওয়াকওয়ে নেই। পৌরসভা পরিচালিত পার্কটি অত্যন্ত ছোট। তিনি জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে আধুনিক পার্ক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যকার টানাপোড়েন ও সমন্বয়হীনতাই উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে অংচ মং মারমা বলেন, বান্দরবান শহরকে ঘিরে একটি মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানান। বান্দরবানের ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, নৃত্য-গীত ও খাদ্যাভ্যাসকে কেন্দ্র করে উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চ ও হস্তশিল্পের বাজার গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে পর্যটকদের একঘেয়েমি কাটবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।

পৌর কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও বান্দরবান পৌর প্রশাসক এসএম মনজুরুল হক বলেন, বড় মাপের এই সুবিধা নিশ্চিত করা এককভাবে পৌরসভার পক্ষে সম্ভব নয়। পার্বত্যমন্ত্রী ও জেলা পরিষদ যৌথভাবে উদ্যোগ নিলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। বিশ্ব পর্যটন দিবসে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে বান্দরবানের পর্যটন অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh