ঢাকা ১১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিলাইছড়িতে বিজিবির হেফাজত থেকে ২ ভারতীয়কে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি বিশু, সম্পাদক ওয়াহেদ খালাসের পরও ৮ বছর জেল, ইব্রাহিমকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রুল অপতথ্য ও এআইয়ের অপব্যবহার রোধে বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২০৩৬ জন বোয়িং কেনায় কোনো গোপন এজেন্ডা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এশিয়ান গেমসে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ শেরপুরে ব্রক্ষপুত্র নদ থেকে যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার লালমোহনে দুর্গোৎসব ও সরকারি সেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসনের সভা মিয়ানমারে বাজারে বিমান হামলা, নিহত অন্তত ৩৩

চুয়েটে পঞ্চম দিনেও আন্দোলন, নতুন ভিসিকে লাল কার্ড দেখালেন শিক্ষার্থীরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:২৫:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ০৯ (26-09-2026, 18:09)

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদ ও সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলন পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। শনিবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে বহাল রাখার দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, যার ফলে পুরো চুয়েট ক্যাম্পাস এখন অচল হয়ে পড়েছে।

শনিবার দুপুর থেকে শিক্ষার্থীরা হাতে লাল কার্ড নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। তাদের এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। তাদের পৃথক দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সাকিবুর রহমান বলেন, বিদায়ী উপাচার্য ড. সায়েম স্যার শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। অথচ নতুন উপাচার্য এসে তাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে মাত্র ৩০-৩৫ জনের আন্দোলন বলে মন্তব্য করেছেন। নতুন ভিসির এমন বক্তব্য এবং অনলাইনে তার যোগদানকে শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই গ্রহণ করছেন না বলে জানান তিনি।

একই সুর চুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন সুজনের কণ্ঠেও। তিনি জানান, নতুন উপাচার্যের যোগদানের প্রতিবাদ জানাতেই তারা এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। শিক্ষকরাও পূর্ণ কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন। শিক্ষার্থীরা কোনো অবস্থাতেই অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে মেনে নেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার অনলাইনে রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে নিজের যোগদানপত্র পাঠান নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। এই খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ার পর আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ডাক দেন। একই সঙ্গে শিক্ষক ও কর্মচারী সমিতিও তাদের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।

অন্যদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তিনি জানান, তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত হলে তিনি দ্রুত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করতে চান।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) একটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের পর থেকেই সাবেক উপাচার্যকে বহাল রাখার দাবিতে চুয়েট ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ও ধারাবাহিক আন্দোলন চলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

চুয়েটে পঞ্চম দিনেও আন্দোলন, নতুন ভিসিকে লাল কার্ড দেখালেন শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০৬:২৫:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ০৯ (26-09-2026, 18:09)

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদ ও সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলন পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। শনিবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে বহাল রাখার দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, যার ফলে পুরো চুয়েট ক্যাম্পাস এখন অচল হয়ে পড়েছে।

শনিবার দুপুর থেকে শিক্ষার্থীরা হাতে লাল কার্ড নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। তাদের এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। তাদের পৃথক দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সাকিবুর রহমান বলেন, বিদায়ী উপাচার্য ড. সায়েম স্যার শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। অথচ নতুন উপাচার্য এসে তাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে মাত্র ৩০-৩৫ জনের আন্দোলন বলে মন্তব্য করেছেন। নতুন ভিসির এমন বক্তব্য এবং অনলাইনে তার যোগদানকে শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই গ্রহণ করছেন না বলে জানান তিনি।

একই সুর চুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন সুজনের কণ্ঠেও। তিনি জানান, নতুন উপাচার্যের যোগদানের প্রতিবাদ জানাতেই তারা এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। শিক্ষকরাও পূর্ণ কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন। শিক্ষার্থীরা কোনো অবস্থাতেই অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে মেনে নেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার অনলাইনে রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে নিজের যোগদানপত্র পাঠান নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। এই খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ার পর আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ডাক দেন। একই সঙ্গে শিক্ষক ও কর্মচারী সমিতিও তাদের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।

অন্যদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তিনি জানান, তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত হলে তিনি দ্রুত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করতে চান।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) একটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের পর থেকেই সাবেক উপাচার্যকে বহাল রাখার দাবিতে চুয়েট ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ও ধারাবাহিক আন্দোলন চলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh