ঢাকা ০৯:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিলাইছড়িতে বিজিবির হেফাজত থেকে ২ ভারতীয়কে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি বিশু, সম্পাদক ওয়াহেদ খালাসের পরও ৮ বছর জেল, ইব্রাহিমকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রুল অপতথ্য ও এআইয়ের অপব্যবহার রোধে বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২০৩৬ জন বোয়িং কেনায় কোনো গোপন এজেন্ডা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এশিয়ান গেমসে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ শেরপুরে ব্রক্ষপুত্র নদ থেকে যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার লালমোহনে দুর্গোৎসব ও সরকারি সেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসনের সভা মিয়ানমারে বাজারে বিমান হামলা, নিহত অন্তত ৩৩

ওয়াল স্ট্রিটে তারেক রহমান: ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:১৯:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২: ৩১ (26 September 2026, 02:31)

বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে তার সরকার দায়িত্বশীল ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে তিনি ঘোষণা করেন, ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।’ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তারেক রহমান রাজনীতিতে আসার আগে নিজের ব্যবসায়িক কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। তিনি জানান, ব্যবসা থেকে তিনি একটি সহজ শিক্ষা পেয়েছেন—বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং প্রবৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা।

বৈঠকের আয়োজক জেপি মর্গান এবং উপস্থিত বিনিয়োগকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এখানে ওয়াল স্ট্রিটের অংশ হিসেবে আসেননি, বরং একজন বাংলাদেশি ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে হাজির হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিনিয়োগকারীরা যেমন নিজেদের ব্যবসার স্বার্থ রক্ষা করেন, তেমনি তিনি কাজ করেন বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে। উভয়ের দায়িত্ব ভিন্ন হলেও মূল নীতি কিন্তু এক—সাফল্য নিশ্চিত করা।

তারেক রহমান বলেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে তিনি দেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেছেন, তবে এবার সরাসরি বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরতে চান। ১৮ কোটির বেশি জনসংখ্যার এই দেশে রয়েছে এক বিশাল তরুণ ও কর্মঠ জনশক্তি, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান। বাংলাদেশকে বিশ্ব তৈরি পোশাক ও উৎপাদনের বড় কেন্দ্র হিসেবে চিনলেও এর সম্ভাবনা আরও অনেক বিস্তৃত।

জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবাকে বিনিয়োগের বড় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করা এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও সেবা খাতের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করাই তার সরকারের লক্ষ্য।

এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশকে বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য করতে সরকার কাজ করছে। নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শিথিল করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের আধুনিকায়ন, সহজে লভ্যাংশ দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের নানা পদক্ষেপের কথা তিনি উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করার পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনের সঙ্গেও নতুন অংশীদারত্ব ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গানের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজার বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশের শুধু মুখের কথায় নয়, বাস্তবে কী ঘটছে তার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেন। তাই নীতি প্রণয়ন এবং তার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। সরকার কোনো স্বল্পমেয়াদি লেনদেন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব চায়।

ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করবেন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করবেন। পরিশেষে, তিনি বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং তাদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়াল স্ট্রিটে তারেক রহমান: ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’

আপডেট সময় : ০৭:১৯:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২: ৩১ (26 September 2026, 02:31)

বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে তার সরকার দায়িত্বশীল ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে তিনি ঘোষণা করেন, ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।’ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তারেক রহমান রাজনীতিতে আসার আগে নিজের ব্যবসায়িক কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। তিনি জানান, ব্যবসা থেকে তিনি একটি সহজ শিক্ষা পেয়েছেন—বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং প্রবৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা।

বৈঠকের আয়োজক জেপি মর্গান এবং উপস্থিত বিনিয়োগকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এখানে ওয়াল স্ট্রিটের অংশ হিসেবে আসেননি, বরং একজন বাংলাদেশি ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে হাজির হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিনিয়োগকারীরা যেমন নিজেদের ব্যবসার স্বার্থ রক্ষা করেন, তেমনি তিনি কাজ করেন বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে। উভয়ের দায়িত্ব ভিন্ন হলেও মূল নীতি কিন্তু এক—সাফল্য নিশ্চিত করা।

তারেক রহমান বলেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে তিনি দেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেছেন, তবে এবার সরাসরি বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরতে চান। ১৮ কোটির বেশি জনসংখ্যার এই দেশে রয়েছে এক বিশাল তরুণ ও কর্মঠ জনশক্তি, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান। বাংলাদেশকে বিশ্ব তৈরি পোশাক ও উৎপাদনের বড় কেন্দ্র হিসেবে চিনলেও এর সম্ভাবনা আরও অনেক বিস্তৃত।

জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবাকে বিনিয়োগের বড় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করা এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও সেবা খাতের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করাই তার সরকারের লক্ষ্য।

এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশকে বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য করতে সরকার কাজ করছে। নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শিথিল করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের আধুনিকায়ন, সহজে লভ্যাংশ দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের নানা পদক্ষেপের কথা তিনি উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করার পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনের সঙ্গেও নতুন অংশীদারত্ব ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গানের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজার বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশের শুধু মুখের কথায় নয়, বাস্তবে কী ঘটছে তার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেন। তাই নীতি প্রণয়ন এবং তার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। সরকার কোনো স্বল্পমেয়াদি লেনদেন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব চায়।

ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করবেন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করবেন। পরিশেষে, তিনি বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং তাদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh